Economy Finance

ভবিষ্যতে আশা থাকলেও এখনের সঙ্কট কাটবে কিভাবে ?

যার জেরে প্রায় ১০.৮% কমতে পারে অর্থনীতির বহর

পল্লবী : গতকাল ছিল তৃতীয় দফার লকডাউনের শেষদিন আর তার সাথে সাথেই ঘোষিত হয়ে যায় চতুর্থ দফার তারিখ ঘোষণা। তারিখের পর তারিখ বাতলে যাচ্ছেন রাজ্য কিন্তু সুরাহা আর হচ্ছে কোই ? বরং আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি আস্তে চলেছে গোটা দেশ জুড়ে যে সময়য়ের মোকাবিলা করা হয়তো করোনা লড়াই থেকেও কঠিন হয়ে পড়বে, মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শেষ হলেই আজ থেকে সকলে ফিরত নিজ নিজ কাজে। কিন্তু আবারো বন্ধ হলো বাড়লো লকডাউনের মেয়াদ। সেই সঙ্গে বাড়ছে অর্থনীতির ক্ষতির বহর।

সমীক্ষা বলছে ঘোর বিপদের সম্মুখীন হতে চলেছে দেশ। রবিবার আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আর্থার ডি লিটলের সমীক্ষাতেই যেমন ফুটে উঠেছে করোনার ধাক্কায় ভারতের বেকারত্ব ও দারিদ্রের মাথাচাড়া দেওয়ার ভয়ঙ্কর ছবি। যার জেরে প্রায় ১০.৮% কমতে পারে অর্থনীতির বহর। এটাই এ যাবত্‍ জি়ডিপি-র সবচেয়ে খারাপ পূর্বাভাস। অন্যদিকে, যারা বাংলা তথা দেশের শিল্পের মূল চাবিকাঠি তাদের জীবন অনিশ্চিয়তার পথে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা আবার কবে কাজে ফিরবেন জানেন না কেই এর ফলে বহু গুন্ পিছিয়ে যাবে শিল্প-কলকারখানার আয়ের গতি।

আর্থার ডি লিটলের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থনীতি কার্যত থমকে যাওয়ায় দেশে কাজ হারাতে পারেন প্রায় ১৩ কোটি মানুষ। বেকারত্বের হার ছুঁতে পারে ৩৫%। করোনা হানার আগে যা ছিল ৭.৬%। আর দারিদ্রের বৃত্তে ঢুকে পড়তে পারেন নতুন ১২ কোটি জন। এঁদের মধ্যে চার কোটি চরম দারিদ্রে। যাঁদের কাজ আছে, তাঁদের একাংশেরও আয় কমবে। রিপোর্টে আরো বলছে যে দাবি, এই বেকারত্ব ও দারিদ্রের বিরূপ প্রভাব পড়বে পণ্যের চাহিদায়। ধাক্কা খাবে জিডিপি। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে যা সরাসরি সঙ্কুচিত হতে পারে ১০.৮%। পরের অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার হতে পারে ০.৮%।

কেন্দ্র এক সময় বারবার ভারতের অর্থনীতিকে পাঁচ বছরে ৫ লক্ষ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলত। করোনার আবহে যে কথা ভুলেও মুখে আনছেন না কেউ। তবে এই রিপোর্টে সে জন্য ১০ দফা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেখানে সব থেকে গুরুত্ব পেয়েছে ত্রাণ ও কাঠামোগত সংস্কার।

কিন্তু অন্যদিকে যে বিষয়টিও খানিকটা স্বস্তি এনে দিতে পারে তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। অর্থাৎ এই মুহূর্তে এমন সঙ্কটে কর্মহীন হবে প্রায় কোটি মানুষ কিন্তু তার সাথে সাথে যখন পরিস্থিতি আবার আগের ছন্দে ফিরবে তখন বাড়বে কর্মসংস্থান তাই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তা হবে সুখকর। তবে বর্তমান সময়ই এখনের পরিস্থিতি কপালে ভাঁজ ফেলছে অর্থনীতিবিদদের।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: