Economy Finance

ভারতীয় অর্থনীতিতে গভীর দুর্যোগ, ‘কেন্দ্রীয় প্যাকেজের হাতে গরম ফল মিলবে না’, বার্তা গোল্ডম্যানের

তিনি বলেছেন চলতি অর্থবর্ষে ভারতের সার্বিক বৃদ্ধির হার অন্তত ৪৫ শতাংশ কমতে চলেছে।

প্রেরনা দত্তঃ করোনা মোকাবিলা করতে লকডাউন আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্র সরকার। আর এই জোড়া গেঁরোয় ভারতের অর্থনীতি যে ধাক্কা খাবে, তা আগেই বলেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। একদিকে যেমন, চাকরি হারাবেন বহু মানুষ।অন্যদিকে তেমনই, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কমবে।করোনার ধাক্কায় এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ওই ৪৫% হারেই সঙ্কুচিত হবে বলে পূর্বাভাস দিল গোল্ডম্যান স্যাক্স। সেই সঙ্গে জানাল, পাঁচ দফায় কেন্দ্র ঘোষিত ২০ লক্ষ কোটি টাকার ত্রাণ প্রকল্প আসলে মাঝারি মেয়াদের পরিকল্পনা। স্বল্প মেয়াদে অর্থনীতিকে ঠেলে তুলতে তেমন কাজে আসবে না। আর সেই কারণেই এই ত্রৈমাসিকে তলিয়ে যেতে পারে জিডিপির হার। তার পরের তিন ত্রৈমাসিকে তা দাঁড়াবে যথাক্রমে ২০%, ১৪% এবং ৬.৫%। আর গোটা অর্থবর্ষের সঙ্কোচন ৫%।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁদের সেই আশঙ্কা আরও খানিকটা বাড়ল। একইসঙ্গে বহু মানুষ কাজ হারাবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত,২৩ মার্চ থেকে দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। ফলে দেশে শিল্প-কারখানা প্রায় বন্ধ। ছাঁটাই করা হচ্ছে বহু কর্মী। এমনকী বহু কর্মীর বেতন কাটা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তো আবার কর্মীদের বেতনও বন্ধ। স্তব্ধ আমদানি-রপ্তানিও। আর্থিক বৃদ্ধিতে যে প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এ প্রসঙ্গে গোল্ডম্যানের প্রাচী সরাই ও অ্যান্ডু টিলটো বলেন, “গত কয়েকদিনে অর্থনীতি ক্ষেত্রে একাধিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়্ছে। এই পদক্ষেপের হাতেগরম ফাল পাওয়া যাবে, এমন আশা করা উচিত হবে না। এর প্রভাব পড়তে সময় লাগবে।”

শুধু গোল্ডম্যান স্যাক্সই নয়, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়তে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ঘোষণা যে নুয়ে পড়া অর্থনীতিকে দ্রুত চাঙ্গা করতে পারবে না, তা মনে করেন আরও অনেক বিশেষজ্ঞই। ব্যাঙ্ক অব আমেরিকা থেকে শুরু করে নোমুরার মতো উপদেষ্টা সংস্থার মতে, কেন্দ্রের ঘোষণা মাঝারি মেয়াদে অর্থাৎ, তিন বছর পরে গিয়ে কাজে লাগবে। কিন্তু এখনই তার হাত ধরে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। বৃদ্ধি এবং ঘাটতিতে ধাক্কার কথা মানলেও, ত্রাণ প্রকল্প দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতিকে কিছুটা অক্সিজেন দেবে বলে মনে করছে প্রায় সব মহলই। এ ক্ষেত্রে কৃষি, খনন, বিদ্যুৎ, শিল্পের মতো নানা ক্ষেত্রে ঘোষণা করা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে তারা।

ডিবিএস ব্যাঙ্কের সতর্কবার্তা, কেন্দ্রের রাজকোষ ঘাটতি এবং আর ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় রাজ্যের ঘাটতি, দুইয়ে মিলে চলতি অর্থবর্ষে ঘাটতি পৌঁছতে পারে জিডিপির ১২ শতাংশে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: