Analysis

ভারতেই করোনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম : এই বিষয়ে বিস্তর বিতর্ক !

ইতিমধ্যেই ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়াল,

প্রেরনা দত্তঃ দেশে করোনা সংক্রমণ হুহু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩৮৭ জন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার, সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট কোভিড-১৯ পজিটিভের সংখ্যা ১লক্ষ ৫১হাজার ৭৬৭ জন। সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ৬৪,৪২৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ ৩৩৭ জনের। পরিযায়ীদের ঘরে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যেও সংক্রমিতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ভারতে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুহার কমছে। বর্তমানে দেশে করোনায় মৃত্যুহার ২.৮৭ শতাংশ। এই মৃত্যুহার বিশ্বে সবথেকে কম বলেই দাবি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল বলেন, “ভারতে এপ্রিল মাসে কোভিড ১৯-এ মৃত্যুহার ছিল ৩.৩৮ শতাংশ। এক মাস পরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২.৮৭ শতাংশ। সেখানে বিশ্বে মৃত্যুহার ৬.৪ শতাংশ। ভারতের মৃত্যহার বিশ্বে সবথেকে কম।”
কিন্তু পর্যাপ্ত টেস্টিং হচ্ছে না। যদিও এই মৃত্যুহার কমার পিছনে মূলত তিনটি কারণের কথা জানিয়েছেন লব আগরওয়াল। প্রথম হল লকডাউন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতে যেই পদ্ধতিতে এবং সঠিক সময়ে ভারতে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার জেরেই দেশে মৃত্যুর হার অনেক কম। অন্যদিকে, দ্বিতীয় কারণ হিসেবে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে ভারতে প্রতিদিন লক্ষাধিক করোনা টেস্ট হচ্ছে। যার ফলে যাদের উপসর্গ নেই কিন্তু করোনা আক্রান্ত। তাঁরা সঠিক সময় চিকিৎসা পাচ্ছেন।

আর তৃতীয় কারণ হিসেবে লব আগরওয়াল দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতে যেভাবে রোগীর সংক্রমণের তীব্রতা ও উপসর্গ অনুযায়ী হাসপাতাল ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন, তার ফলেই মৃত্যুহার ক্রমাগত কমেছে।

তাঁর সাথেই করোনা টেস্টিংয়ের খরচ কমানোর জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে ICMR। অবিলম্বে করোনা পরীক্ষার রেট কমিয়ে কত করা যায়, তা স্থির করতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে।

এতদিন ধরে করোনা পরীক্ষার রেট ছিল সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এত খরচের পিছনে একটাই কারণ ছিল। তা হল, দেশে করোনা টেস্টিংয়ের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছিল না। ভারতে যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হয়, তখন টেস্টিং কিট ছিল না। বিদেশ থেকে করোনা টেস্টিং কিটের সরঞ্জাম আমদানির উপর নির্ভর করতে হল। সরঞ্জাম আমদানির পর তারপর তা অ্যাসেম্বল করে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হত। দেশে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায়, আমদানির উপর নির্ভর করতে হওয়ায়, পরীক্ষার খরচও ছিল অনেকটাই বেশি।

কিন্তু এখন সরকারি, বেসরকারি একাধিক দেশীয় সংস্থা টেস্টিং কিট তৈরি করছে। ফলে জোগানের সমস্যা। অনেকখানি মিটেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকারগুলোকে করোনা পরীক্ষার খরচ কমানোর নির্দেশ দিল ICMR।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: