Entertainment

ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে একই সুতোয় গোটা বিশ্ব-গাঁথা

'হোমল্যান্ড- লা প্যাট্রি', অনবদ্য রূপে পরম

পল্লবী : ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি প্রথম ছবি ‘হোমল্যান্ড- লা প্যাট্রি’। এই মুহূর্তে ছবিটি নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে। ছবিতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে রয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ছবির শুরুই হয় জন লেননের বিখ্যাত গান ইম্যাজিনের দুটি লাইন দিয়ে। একদিকে যেমন এই ছবি শিকড় খোঁজার গল্প বলেছে। তার সঙ্গেই প্রায় পরতে পরতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে আসলে শিকড় বা ঘর খুঁজে পাওয়া যায় পৃথিবীর নানা প্রান্তে।

তাহলে চলুন একটু জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়ে – ভাষা কখনও সীমা হতে পারে না । আর তাই ছবিতে ইংরেজি-ফরাসি-বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় সংলাপ রয়েছে। মানুষের টেনে দেওয়া সীমাকে এভাবে ভেঙেছেন পরিচালক। খুঁজতে খুঁজতে ভেসে চলার কথা খুব সহজে দেখিয়েছেন তিনি। আর্মেনিয়া থেকে শিকড় খুঁজতে ফ্রান্সে আসে অ্যানি। কারণ এখানে থেকেছেন তার বাবা মা। মায়ের মুখে ফ্রান্সের বর্ণনা শুনেছে অ্যানি। সেভাবেই সে দেশটাকে দেখতে শিখেছে। তার বাবা মায়েরও বহু স্মৃতি আছে এখানে। তাই আর্মেনিয়া থেকে অ্যানি মায়ের মুখে শোনা নিজের শিকড় খুঁজতে এসেছে। কিন্তু মায়ের মুখে শুনে যে ফ্রান্সকে সে কল্পনা করেছিল, তার সঙ্গে যেন কোনও মিল নেই এই বাস্তবের ফ্রান্সের। শিকড় খুঁজতে খুঁজতে আরও দু-চারজন অন্য ভাষার মানুষের সঙ্গে আলাপ হয় অ্যানির। আর এদের মধ্যে সবচেয়ে আলাদা গঙ্গা অর্থাৎ পরমব্রত। এই সদা বহমান বাঙালি ছেলে গঙ্গার সঙ্গে পরিচয় হয় অ্যানির।

গঙ্গার সঙ্গে প্যারিসের রাস্তায় তার দেখা। সাইকেল নিয়ে ফুল বেচতে বেরোয় সে। কখনও সেতুর উপরে দাঁড়িয়ে গিটার বাজায়। সাইকেল এখানে গঙ্গার চরিত্রের একটি দিক বলা যায়। সে থেমে থাকে না। সে সদা ভ্রাম্যমাণ, বলা যেতে পারে আদতে গঙ্গার মতো বহমান। সেতুর উপরে দাঁড়িয়ে সুর তোলাও সেই অর্থে প্রতীকী বলা চলে। কারণ সেতুর দুই পারকে সুরেই মিলিয়ে দেওয়া যায়। আর তার নামও যে চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়েছে তা বোঝাই যায়। তার পরে কি শিকড়ের সন্ধান পায় সে?সেই উত্তর পেতে গেলে নেটফ্লিক্সে দেখা যায় এই ছবি।

ছবিতে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় অনবদ্য। তার পরিস্থিতি যেন এক অন্যমাত্রা এনে দিয়েছে। সাথে রয়েছেন হোমল্যান্ড- লা প্যাট্রি-র চিত্রনাট্য পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে লিখেছেন সোমঋতা ভট্টাচার্যও। সবে মিলিয়ে এক অন্যমাত্রা এনেদিয়েছে এই ছবিটিকে। তার সাথে এর বিশেষত্ব হলো এর শুটিং হয় প্রাকৃতিক আলোতে। তবে এই ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মিউজিক। আবহসঙ্গীতের জন্য অলকানন্দা দাশগুপ্তকে তাই কুর্ণিশ। সবে মিলিয়ে এই করোনা আবহে যখন গোটা বিশ্ব এক হয়েছে তখন এই ছবি সেই বন্ধনকে আরো শক্ত করবে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: