West Bengal

ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরেই এত তৎপরতা কিসের রাজ্যের ?

পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নয়া সিদ্ধান্ত নবান্নের

পল্লবী : করোনা পরিস্থিতিতে প্রতি মুহূর্তে চিন্তা বেড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে। রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে বাক যুদ্ধেরও শেষ ছিলোনা। তবে এসবের মধ্যে বাড়ি ফেরার তাগিদে মরিয়া শ্রমিকেরা অবলম্বন করেছেন নানান পথ। কেই বা হেঁটেই পারি দিয়েছেন বহু মাইলের পথ, কেউবা সাইকেল নিয়েই বেড়িয়ে পড়েছেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। আর ফল বসত ঘটেছে বহু মৃত্যু কারণ না খাওয়া শরীর আর কতদূরই বা পরিষেবা পারে।

শুক্রবার ভোরে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রেলট্র্যাকে ঘুমন্ত ১৬ শ্রমিককে পিষে দিয়ে দিয়েছে মালগাড়িলকডাউনে স্তব্ধ, আর এই ঘটনার পরেই ঘুম ভাঙে সরকারের। বাইরে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের দ্রুত ফেরাতে এখন তত্‍পরতা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতেই নবান্নও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আটটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যাতে ফিরতে পারবেন অন্তত ৩০ হাজার শ্রমিক। ট্রেনগুলি কোথা থেকে কতজন শ্রমিককে নিয়ে কোথায় ফিরবে, তা জানিয়ে রেল মন্ত্রকে একটি তালিকা পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।

সূত্রের খবর, এই আটটি ট্রেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা মূলত উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের শ্রমিকদের জন্য চেয়েছে নবান্ন। ৯, ১০ এবং ১১ মে – তিনদিন ধরে যাতায়াত করবে ট্রেনগুলি। প্রথম দিন বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ থেকে দফায় দফায় ৪টি ট্রেন ছাড়া হবে। প্রথম ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে এসে পৌঁছবে বাঁকুড়ায়। সেখানে ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার ১৮০০র বেশি শ্রমিক ফিরবেন। দ্বিতীয় ট্রেন বেঙ্গালুরু থেকে নিউ জলপাইগুড়ি আসবে। এই ট্রেনে ফিরবেন চার জেলা – আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার ও কালিম্পংয়ের প্রায় ৩৮০০ জন শ্রমিক। বেঙ্গালুরু থেক থেকে পুরুলিয়াগামী তৃতীয় ট্রেনটি ফিরবে পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমানের হাজার দুয়েক শ্রমিককে নিয়ে।
পরেরদিন ১০ মে জলন্ধর থেকে একটি ট্রেন ব্যান্ডেলে আসবে। তাতে ফিরবেন হুগলি ও নদিয়ার ১৩০০ জন।

১১ তারিখ তিনটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার মধ্যে দুটি ট্রেন ফেরাবে ভেলোরে চিকিত্‍সা করতে গিয়ে আটকে পড়া এ রাজ্যের বাসিন্দাদের। ভেলোর থেকে একটি ট্রেন হাওড়ায় আসবে বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের নিয়ে। আরেকটি ট্রেন ফিরবে খড়গপুরে। তাতে পূ্র্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের ফেরানো হবে। একইদিনে আরেকটি ট্রেন চণ্ডীগড় থেকে দুর্গাপুরে আসছে। তাতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দারা ফিরবেন। আপাতত এমনই পরিকল্পনা করা হয়েছে নবান্নের তরফে। রেল মন্ত্রকের তরফে ট্রেনের ব্যবস্থা করে বাকিটা কার্যকর করার অপেক্ষা। তা হলেই লকডাউনের মাঝেও নিশ্চিন্তে অনেকে ঘরে ফিরতে পারবেন বলে আশা রাজ্য সরকারের।

করোনা আবহে এই বিষয় নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। রাজনৈতিক সংঘাত যেকোনো মূল্যেই ছিল অনড়। তবে হটাৎ করে এরূপ তৎপরতা কিসের জন্য ? কোন রাজনৈতিক দিক কে আবারো উস্কে দিচ্ছে নাকি সত্যিই সাধারণের জন্য হো ফিরলো সরকারের?

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: