West Bengal

মুদির দোকান ধার দিচ্ছে না ,চড়া সুদে ধারও পাচ্ছে না। অভুক্ত মানুষ মৃত্যুর মুখে :নির্বিকার সরকার

৪৮ ঘণ্টা পরেও দুৰ্গতি কাটেনি হাওড়ায়

পল্লবী : আমপানের দাপটে বহু জায়গার দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। তিন হয়ে গেলো আসেনি বিদ্যুৎ, নেই মোবাইলের নেটওয়ার্ক সংযোগ, নেই জল। আমপানের ৪৮ ঘণ্টা পরেও হাওড়ায় দুৰ্গতি। পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের পাম্প শুক্রবার রাত পর্যন্ত ঠিক না হওয়ায় দু’দিন নির্জলা রইল প্রায় গোটা শহর। সেই সঙ্গে বহু জায়গায় ছিলোনা বিদ্যুত্‍, নিচু এলাকায় ভর্তি জল। বস্তি এলাকার অনেক বাড়িতে এখনও নর্দমার কালো জল জমে রয়েছে।

জমা জল সরানো ও বিদ্যুতের দাবিতে এ দিন বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের পাম্পিং স্টেশনের সব ক’টি পাম্প জলে ডুবে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় হাওড়ায়। পুরসভা সূত্রের খবর, প্রকল্প থেকে জল বার করে পাম্পগুলিকে বিশেষ পদ্ধতিতে শুকিয়ে শুরু হবে ভূগর্ভস্থ জলাধারে জল ভরা। এর পরে পাম্প করে সেই জল পাঠানো হবে ওয়ার্ডগুলিতে। এ দিন সকালেই পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পে গিয়ে পৌঁছন পুর কমিশনার ধবল জৈন, রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী ও মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। তিনি বলেন, ”রাজ্য পুর দফতরের কাছে ৪০ গাড়ি জল চাওয়া হয়েছে।” পুর কমিশনার বলেন, ”দ্রুত জল সরবরাহের চেষ্টা হচ্ছে। এ রকম ঘটনা আগে ঘটেনি, তাই নির্দিষ্ট করে জল সরবরাহ শুরুর সময় বলা যাচ্ছে না।”

বহু রাস্তায় গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায় এ দিন। ডুমুরজলা কোয়রান্টিন কেন্দ্রের পিছনে স্টেডিয়ামের রাস্তার উপরে পড়ে থাকা বড় বড় গাছ এ দিনও সরানো হয়নি। একই অবস্থা নেতাজি সুভাষ রোড, শরত্‍ চ্যাটার্জি রোডের। ফলে যানবাহন চলতে পারেনি। এরই সঙ্গে জমা জলের কারণে করুণ অবস্থা হয় গোলমোহরের রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টার্সের। সেখানকার একতলার ফ্ল্যাটগুলিতে নোংরা জল ঢুকে গিয়েছে। কোয়ার্টার্সের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দু’দিন ধরে রাস্তায় গাছ পড়ে থাকলেও তা সরাতে উদ্যোগী হয়নি প্রশাসন। পাশপাশি হাওড়ার পঞ্চাননতলা রোড, বেনারস রোড, বেলিলিয়াস লেন-সহ উত্তর হাওড়ার বিভি‌ন্ন নিচু এলাকায় জল শুক্রবার রাত পর্যন্ত নামেনি। নর্দমা ছাপিয়ে নোংরা জলে ভরে গিয়েছে গোটা এলাকা। এক পুরকর্তা বলেন, ”আমাদের ৩০টি পাম্প কাজ করছে। কিন্তু জল ফেলব কোথায়? যেখানে ফেলব সেই জায়গাও তো ডুবে আছে। তা ছাড়া সমস্ত নিকাশি প্লাস্টিক আর আর্বজনায় ভরে গিয়েছে। তাই জল বেরোতেও পারছে না।”

এই মুহূর্তে সকলের একটাই অভিযোগ যে, পুরসভার লোক কাজ করছেন না ঠিক মতো। অন্যদিকে রাস্তার পোস্ট ঠিক করতে এসেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে বিদ্যুৎ কর্মীদের। তিন দিন ধরে নানান অসুবিধায় বেজায় রুষ্ট হয়েছেন সাধারণ আমজনতা।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: