Health

মেডিক্যাল কলেজে প্লাজমা দিলেন হাবড়ার মনামী,কুর্নিশ জানালেন সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী

সোমবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে প্লাজমা দিলেন মনামী।

প্রেরনা দত্তঃ মার্চ মাসে স্কটল্যান্ড থেকে ফিরেছিলেন কলকাতার তরুণী মনামী বিশ্বাস। রাজ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি। বিদেশ থেকে ফিরেই সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছিলেন। তার সেই পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন মনামী। করোনা চিকিত্‍সায় সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের প্লাজমা খুবই মূল্যবান। তাই কোভিড থেকে সেরে ওঠা কলকাতার তৃতীয় করোনা আক্রান্ত মনামী বিশ্বাস এবার প্লাজমা দিলেন। সোমবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে প্লাজমা দিলেন মনামী। আর মনামীর এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানালেন মিমি চক্রবর্তী।

প্রসঙ্গত, এর আগে মিমির সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসেছিলেন মনামী । সাংসদের উদ্যোগেই সারা বাংলার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল হাবড়ার এই স্কটল্যান্ড পড়ুয়ার করোনা যুদ্ধের কাহিনি। বাংলা অনলাইন মিডিয়া মারফৎ লড়াকু এই বঙ্গকন্যার কাহিনি জানতে পেরে যোগাযোগ করেছিলেন নিজে থেকে। কারণ মিমির মনে হয়েছিল, মনামীর আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা এবং টিপস বাংলার মানুষকে আরও সচেতন করে তুলবে। এই অতিমারীর কারণে মানুষের মনে যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটাও কিছুটা দূর হবে মনামীর করোনামুক্ত হওয়ার কাহিনি শুনে।

টানা দুই সপ্তাহ বেলেঘাটা আইডির আইসোলেশন এসেছিলেন মনামী। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা কলকাতার তরুণী ইন্ডিয়া টুডের কাছে সাক্ষাত্‍কারে তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন।
কোয়ারেন্টাইনের ভিতরটা কেমন জানিয়েছিলেন তিনি। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বলেছেন, ‘একটা কাঁচের ঘর। ওদের যন্ত্রপাতি সমস্ত রাখা সেখানে। আমাদের সবসময়ে মাস্ক পরতে বলা হতো। বিশেষ করে যখন চিকিত্‍সকরা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। ঘরটা খুবই ভালো ছিল। অ্যাটাচড টয়লেটও ছিল। আর আমি ঘরে একাই ছিলাম।’

কিন্তু একটা ঘরে টানা দু সপ্তাহ একা থাকতে অনেকেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এই প্রসঙ্গে মনামী বলেন, ‘না আমার কাছে মোবাইল ফোন ছিল। খবরের কাগজ দেওয়া হতো। ওরা ল্যাপটপও নিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু আমি আনিনি।’

করোনায় আক্রান্ত শুনে প্রথমে মানসিক ভাবে তিনিও ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক-নার্সরা তাঁকে সমানে সাহস দিয়ে গিয়েছেন। মনামীর কথায়, এই প্রথম আমি ভগবানকে দেখলাম। তিনি বারবার বেলেঘাটা আই ডির চিকিৎসক যোগীরাজের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করে মিমি লিখেছেন, “বাংলার প্রথম করোনামুক্ত ব্যক্তি প্লাজমা দিলেন। মনামী, তোমার জন্য আমি গর্বিত।”

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: