West Bengal

মৎস্যজীবীদের চোখে আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর আসা, কিন্তু সিঁদুরে মেঘের ভয় এখনো কাটেনি

দেখা মিললো জলের রুপালি ফসলের, মাছ ধরবেন মৎস্যজীবীরা

পল্লবী কুন্ডু : প্রকৃতির সৌন্দর্য বোঝা বড়োই দায়। সব কিছুর সাথে তর্ক-বিতর্ক কথায় জিতলেও প্রকৃতির ছলনায় যে বিভোর আপনিও হবেন। আর এবার যে খেলা স্থল ছেড়ে জলে। দেখা মিললো জলের রুপালি ফসলের। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন আপনার আমার সকল বাঙালির প্রিয় ‘ইলিশ মাছ’ . দীর্ঘ বিরতির পর রবিবার থেকে শুরু হয়ে গেল সামুদ্রিক মাছ ধরা। মূলত ইলিশ ধরার লক্ষে সুন্দরবনের কাকদ্বীপ, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, রায়দিঘি, পাথরপ্রতিমা, গঙ্গাসাগর থেকে রওনা দিচ্ছে ট্রলারগুলি। তবে সুরক্ষার নিরিখে সকলেরই করা হয়েছে স্বাস্থ পরীক্ষা আর তারপরেই মিলেছে ছাড়।

গত কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনের মত্‍স্যজীবীরা জীবন যাপনের জেরে কেরল, আন্দামানে চলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এবার সেই পরিযায়ী মত্‍স্যজীবী শ্রমিকরা ফিরে এসেছেন। তাঁরাও রাজ্যের ট্রলারগুলিতে মাছ ধরতে যাবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত মত্‍স্যজীবী সংগঠনের নেতারা বৈঠকে বসেন। সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। করোনার জন্য সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে কীভাবে মত্‍স্য শিকার করা হবে তা নিয়েও একপ্রস্থ আলোচনা হয়। তারপর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে কোনও মত্‍স্যজীবী অসুস্থ থাকলে ট্রলারে তোলা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মত্‍স্যজীবীর মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ট্রলারে রাখতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাবান। সুন্দরবনে ছোট বড় মিলিয়ে চার হাজার ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরে। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক মানুষ। তবে এই মরসুমে কিছুটা সুরাহা মিলবে এমনই তাদের আশঙ্কা।

সুন্দরবন সামুদ্রিক মত্‍স্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘টানা লকডাউনে আর্থিক সঙ্কটে ধুঁকছেন ট্রলার মালিকরা। গত কয়েক বছর ভাল ইলিশ মেলেনি। লোকসানের বহর বেড়েছে। আমরা কেন্দ্রের সরকারের কাছে জ্বালানি ডিজেলে কিছু সাবসিডি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। খুব কম সংখ্যক ট্রলার এখন নামবে।’‌ লকডাউনের পর কার্যত সামুদ্রিক মত্‍স্য শিকারও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ইলিশের প্রজননের জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সরকারি বিধিনিষেধ ছিল। এবার এই সব কিছু কাটিয়ে কিছুটা আসার মুখ দেখছেন বাংলার মৎস্যজীবীরা। রবিবার ডায়মন্ড হারবারের সুলতানপুর মত্‍স্যবন্দরে মত্‍স্যজীবীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এদিন প্রত্যেক মত্‍স্যজীবীর থার্মাল চেকিং করা হয়। ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয় মত্‍স্যজীবীদের। আর তারপরেই মেলে ছাড়পত্র।

তবে এই মুহূর্তে যে প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে তা হলো, এখন ইলিশ মাছের মরশুম থাকায় রমরমিয়ে চলবে বাজার কিন্তু তারপর, তারপর কি হবে ? রাজ্য সহ গোটা দেশে এমন ভাবেই হু হু করে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে তাতে একাধিক মহলের এটাই চিন্তা যে আবারো যদি লকডাউন ঘোষিত হয় তবে কিভাবে চলবে তাদের ?

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: