Big Story

যোধপুর পার্কে বৃদ্ধা শ্যামলী ঘোষ (৭৫) খুনের কিনারা : তদন্তে সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ

ডায়েরির সূত্রেই পেল খুনির হদিস , নির্মম ভাবে খুন করা হয়েছিল গত এপ্রিলে যোধপুর পার্কের অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটের ভিতরে নৃশংস ভাবে খুন হন বৃদ্ধা শ্যামলী ঘোষ (৭৫) . কলকাতা শহরে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল অভিজাত অঞ্চলে এই ভাবে খুন ? প্রশ্নের মুখে পড়েছিল কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা বিষয়।

গ্রেফতার প্রতিবেশী, অভিযোগ তিন হাজার স্কোয়ার ফুটের ফ্ল্যাট হাতাতে খুনের ছক, যোধপুর পার্কে বৃদ্ধা খুনের কিনারা করল কলকাতা পুলিশ ডায়েরির সূত্র ধরেই । একই আবাসনের বাসিন্দা দেবাশিস মুখোপাধ্যায় , সন্দেহের তালিকায় নাম চলে আসে দেবাশিসের খুঁজে পাওয়া ডায়েরির সূত্রেই। অপর দিকে এই কাজের সাথে পরোক্ষ ভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল আবাসনের মালি ও নিরাপত্তারক্ষীকে। তদন্ত থেকে জানা যাচ্ছে দেবাশিস ওই আবাসনের চার তলায় ফ্ল্যাটে থাকেন।

শ্যামলী ঘোষ তাঁর এই ফ্ল্যাট কেউ হাতাতে চাইছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ডায়েরিতে লিখেছিলেন। তিনি ধারণা করেন যে এমনকি তিনি খুন হতে পারেন, সেই সম্ভাবনার কথাও ডায়েরিতে লিখে গেছেন। ডায়েরিটি পুলিশের হাতে আসে শ্যামলী দেবী খুন হওয়ার পরই ।তদন্ত শুরু করে পুলিশ সেই ডায়েরির সূত্র ধরে । শ্যামলী দেবী খুন হবার পর আবাসনের মালি ও নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কলকাতা পুলিশ কখনো নিশ্চিত ছিলেন না যে এই ফ্ল্যাটের মালি ও নিরাপত্তা রক্ষিরাই খুন করেছেন , পুলিশের সব সময় মনে হয়েছিল এই খুনের পিছনে অন্য কেও আছে ।

এই ফ্ল্যাটের মালি ও নিরাপত্তা রক্ষিরাদের জেরা করে নিশ্চিত হন হন এর পিছনে তৃতীয় ব্যক্তি আছে , এর পর ধৃত দু’জনকেই জেরা করে দেবাশিসের খোঁজ পায় পুলিশ। দেবাশীষ এর নাম সামনে আসার পর কলকাতা পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারেন প্রতিবেশীদের মাধ্যমে , দেবাশীষ আরো কয়েক টি ফ্লাট দখল করে রেখেছেন । বেশ কয়েক জন আবাসিককে ভয় দেখিয়ে তাঁদের ফ্ল্যাট কব্জাও করেছিলেন। দেবাশীষ তার দখলের তালিকার বেশি নজর ছিল শ্যামলী দেবীর বিশাল ফ্ল্যাটটির উপর। দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা এই আবাসনের তিন হাজার স্কোয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন তিনি। শ্যামলী দেবী বেশ শক্ত সামর্থও ছিলেন। একাই নিজেই বাড়ির সব কাজ করতেন। বাজার বা দোকান যাবার প্রয়োজন হলে আবাসনের মালি ও নিরাপত্তারক্ষীকে ডেকে নিতেন। তবে নানা ভাবে ভয় দেখিয়ে, শাসিয়ে ফ্ল্যাটটা হাতানোর চেষ্টা করেন দেবাশিস। মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে মালি ও নিরাপত্তারক্ষীকে হাত করে। এই মিথ্যে কথা বলে শ্যামলী দেবীর ঘরে যান ঢোকে ওই দু’জন। ঘরে ঢুকে প্রথমে সাঁড়াশি দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় আঘাত করে তারা। তার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে বৃদ্ধারই শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং বালিশ চাপা দিয়ে মারা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আবাসনের মালি ও নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ

তবে বড় প্রশ্নের মুখে রয়েছে এই ঘটনা :
১) দেবাশীষ যে অনেক দিন ধরে শ্যামলী দেবীর ওপর নির্যাতন বা হুমকি দিত সেটা কেন তিনি পুলিশ কে জানান নি ?
২) শ্যামলী দেবীর কোন আত্মীয় স্বজন কেও বলেন নি কেন এই দীর্ঘ দিনের দেবাশিসের হুমকির কথা ?
৩) আরো যে কয়েকটি ফ্ল্যাটের দখলের চেষ্টা করছে দেবাশীষ তার বিষয়ে কেউ কেন পুলিশ কে জানায় নি ?
৪) কে এই দেবাশীষ তার পিছনে কে আছে ?
৫) কার থেকে এই ধরণের দখল-দারির কাজ করে ?

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: