Nation

রথযাত্রা নিয়ে কোটি কোটি ভক্তের টানা ন’দিনের উত্‍কণ্ঠার অবসান

লকডাউন শেষে মন্দির কমিটি ও ওড়িশা সরকার বৈঠকে বসে প্রকাশ্য রাজপথে রথযাত্রা ও ভক্তসমাগম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে

পল্লবী : করোনা আবহে বন্ধ হয়েছে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঘরে বসেই দিন-ভোর চলছে ঈশ্বরের আরাধনা। পয়লাবৈশাখ কি অক্ষয় তৃতীয়া খাতা বরণ হয়নি ব্যবসায়ীদের। কৌশিকী অমাবস্যা তে জাকজমক করে পুজোও হয়নি তারা পিঠে। অবশেষে মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের । যথাসময়ে ধর্মীয় রীতি ও লোকাচার মেনে এবছর পুরীতে রথে চেপেই গুণ্ডিচায় মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা।

এ বছর রথযাত্রার ঠিক ৫০ দিন আগে তিনটি রথেরই নির্মাণ শুরুর সিদ্ধান্ত নিল পুরীর শ্রীমন্দিরের পাঁচ সদস্যের পরিচালন কমিটি। আজ, মঙ্গলবার পুরীর রাজবাড়ির পাশে ঐতিহ্য মেনে ধর্মীয় রীতিকে গুরুত্ব দিয়েই রথখোলায় তিনটি রথেরই নির্মাণ শুরু করবেন ‘বিশ্বকর্মা’র বংশধররা। তবে আগামী ৫ জুন দেবতাদের স্নানযাত্রা ও ২৩ জুন রাজপথে রথযাত্রা নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। ১৭ মে তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন শেষ হলে ফের মন্দির কমিটি ও ওড়িশা সরকার বৈঠকে বসে প্রকাশ্য রাজপথে রথযাত্রা ও ভক্তসমাগম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

পুরীর মহারাজা দিব্যসিংহ, ওড়িশার মুখ্যসচিব অসিতকুমার ত্রিপাঠীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সোমবার এ কথা জানিয়েছেন মন্দির পরিচালন কমিটির অন্যতম সদস্য ও প্রধান শিঙ্গারী নীলকণ্ঠ মহাপাত্র। তাঁর কথায়, ‘কেন্দ্রীয় সরকার কোনওরকম জনসমাগম করে ধর্মীয় উত্‍সব করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু রথের নির্মাণে কোনও আপত্তি করেনি। তাই রাজবাড়ির পাশে রথখোলাতেই রথের নির্মাণ শুরু করায় সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার।’ সরকারি সিদ্ধান্তের পর সন্ধ্যা থেকেই মন্দিরের ভিতরে চন্দনযাত্রার দিন পুজো করে রাখা কাঠের গুঁড়ি রথখোলায় নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। তবে রাজপথে রথযাত্রা হবে তা নিশ্চিত হলেও রথের দড়ি আগের মতোই ভক্তরা টানবেন নাকি প্রতীকী প্রশাসনের তরফে গুন্ডিচা মাসির বাড়িতে পৌছে দেওয়া হবে, তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

করোনার জেরে এ বছর রথযাত্রা না হলে পান্ডারা আর্থিকভাবে প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই দিনকয়েক আগে কয়েক’শো বছরের ধর্মীয় রীতি মেনে রথযাত্রা বন্ধ না করতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পটনায়েককে আবেদন করেছিলেন পান্ডারা। বস্তুত সেই কারণে রথ নির্মাণ শুরুর খবরে সন্ধ্যায় মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় পান্ডা ও পুরোহিতদের মধ্যে কার্যত উত্‍সবের মেজাজ ছড়িয়ে পড়ে। পুরীর মন্দিরের অন্যতম প্রবীণ পুজারি জগন্নাথ দৈতাপতির প্রতিক্রিয়া, ‘মহাপ্রভুর রথ তিনিই তৈরি করাচ্ছেন। নির্দিষ্ট দিনে তিনিই রথে চেপে মন্দিরের বাইরে এসে ভক্তকে দর্শন দেবেন। লক্ষ লক্ষ ভক্তের আকুল প্রার্থনা তিনি শুনেছেন, তাই রথযাত্রা হবেই।’

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: