Nation

রেশন কাণ্ডে প্রকট রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত

গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পথে নামলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ

পল্লবী : গত শনিবার জেলা তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের জেলা সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল কেন্দ্রের চাল ‘খাবার অযোগ্য’ ও কয়েক বছরের পুরোনো বলে দাবি করেন। আর তারপরেই এদিন তড়িঘড়ি রেশন দোকান পরিদর্শনে যান ওই বিজেপি সাংসদ। মুখবন্ধ বস্তা খুলে চালের গুণগত মান পরীক্ষা করেন তিনি।এবিষয়ে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের কনভেনর জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চালের তুলনা করে যখন বিষয়টি জনসমক্ষে এনেছি। তখন উনি মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে পথে নেমেছেন।’ করোনা পরিস্থিতিতে এর আগে কেন বিজেপি সাংসদকে দেখা যায়নি বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

কেন্দ্রের পাঠানো রেশনের চালের গুণগত মান নিয়ে তৃণমূলের প্রশ্ন তোলার মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যেই পথে নামলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার। রবিবার তিনি বাঁকুড়া শহরের একটি রেশন দোকানে পৌঁছে কেন্দ্রের পাঠানো ওই চালের গুণগত মান পরীক্ষা করেন। কথা বলেন, সাধারণ গ্রাহক থেকে রেশন দোকানের মালিক সকলের সঙ্গে।

গ্রাহক পরিতোষ পাল বলেন, বাজারে এই স্বর্ণ চাল কিনতে গেলে ২৮ থেকে ৩০ টাকা দাম। একই সঙ্গে সাংসদের এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিটে’ রেশন ডিলাররাও সতর্ক থাকবেন বলে তিনি মনে করেন। রেশন ডিলার জগন্নাথ পাল বলেন, কেন্দ্রের পাঠানো ৩৫ কুইন্ট্যাল চাল পেয়েছি। সেই চালের মান যথেষ্ট ভালো বলেই তিনি দাবি করেন। সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন,’ সকাল থেকে যেকটি রেশন দোকানে ঘুরেছি প্রত্যেক জায়গাতেই চালের মান যথেষ্ট ভালো। তৃণমূল নেতারা যা করেছে সেটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। এফসিআই এর গোডাউন থেকে চাল বেরিয়ে যাওয়ার পর তার পুরো দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।’

রেশন কান্ড নিয়ে জল ঘোলা নতুন নয়। প্রতিটি বিষয় নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত লেগেই রয়েছে। বাঁকুড়া জেলার তৃণমূলের কনভেনর জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় তো বলেই দিলেন যে তিনি রাজ্য এবং কেন্দ্রের চালের গুণগত মানের তুলনা করেছেন। শুধু করোনা পরিস্থিতি বলে নয় রাজ্য কেন্দ্র সর্বদাই এক থেকে জনগণের পাশে থাকা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু কখনোই সমাজ দেখলোনা যে রাজ্য-কেন্দ্র কোনো একটি বিষয় নিয়ে সহমত প্রকাশ করছেন। তাই এ ভাবে চলতে থাকলে করোনা পরিস্থিতি শুধু নয় কোনো কিছুর মোকাবিলাই সম্ভব নয়।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: