Big Story

রোজা ভেঙে রক্তদান, মানবিকতার নজির মুসলিম যুবকের

রক্ত দেওয়ার পর তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মাতৃসম মহিলাকে রক্ত দিতে পেরে ভাল লাগছে।

প্রেরনা দত্তঃ উপলক্ষ্য যাই হোক না কেন, রক্তদান যে একটি মহৎ কাজ, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই করোনা মোকাবিলার মধ্যেই ব্লাড ব্যাংকগুলিতে রক্তের সংকট চরমে।তেমনই মালদহে নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন মহিলার রক্ত জোগার করতে সমস্যায় পড়েছিলেন উত্তরদিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা পরিবার। সমস্যা আরও প্রকট হয় মালদা মেডিক্যাল কলেজে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত সঙ্কটে। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন পরিবারের লোকজন।খবর পেয়ে রোজা ভেঙে রক্ত দিলেন পুরাতন মালদহের যুবক হামিদুল ইসলাম।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতিতে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। পেসমেকার, স্টেন বসিয়ে কৃত্রিম উপায়ে সচল রাখা হচ্ছে হৃদযন্ত্র। মরণাপন্ন রোগী বেঁচে থাকছেন ভেন্টিলেশনে। কিন্তু, কৃত্রিমভাবে তো আর রক্ত তৈরি করা যায় না! কিন্তু, অস্ত্রোপচার করার সময়ে রোগীকে কিংবা দুর্ঘটনায় আহতদের অনেক সময়ই রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন। আবার থ্যালাসেমিয়া কিংবা ব্লাড ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে যাঁরা আক্রান্ত, তাঁদেরও নিয়মিত রক্ত নিতে হয়। কিন্তু, এত রক্ত কোথায় পাওয়া যাবে? ভরসা রক্তদাতারাই। জানা গিয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণা দাসগুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জনিত সমস্যায় অসুস্থ। সপ্তাহে দুইবার করে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয় তাঁর।

ডায়ালাইসিসের জন্য মঙ্গলবার দুই ইউনিট বি পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রক্তের সঙ্কট থাকায় মালদা মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রয়োজনীয় রক্ত পাওয়া যায়নি। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবার।
খবর জানার পর এগিয়ে আসে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র পুরাতন মালদহের বলাতলী গ্রামের যুবক হামিদুল। প্রায় নিজেই মোটরবাইক নিয়ে হাজির হন মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রমজানে থাকা হামিদুল রোজা ভেঙে রক্ত কৃষ্ণা দেবীর জন্য রক্ত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। রক্ত দেওয়ার পর তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মাতৃসম মহিলাকে রক্ত দিতে পেরে ভাল লাগছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: