Analysis

লকডাউনের কার্যকারিতা কতদুর ফলপ্রসূ? আক্রান্ত সংখ্যার নিরিখে করোনার আঁতুড়ঘর চিনকেও টপকে গেল ভারত

বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত ৪৬ লক্ষের বেশি মানুষ ।

প্রেরনা দত্তঃ শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫,৯৪০! যা চিনের কোভিড-১৯ আক্তান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে। লকডাউনের কার্যকারিতা কতদুর ফলপ্রসূ হয়েছে তা নিয়ে সরকার-বিরোধী তরজা চলতেই থাকবে। তবে ঘটনা হল- লকডাউনের ৫০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ভারত এবার আক্রান্তের সংখ্যায় চিনকে ছাপিয়ে গেল। ভারতে এখন চিনের থেকে বেশি লোক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের খাতায় শুক্রবার রাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১,৯৭০ হলেও বিভিন্ন রাজ্য সরকারে বুলেটিন যোগ করে দেখা যাচ্ছে, ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৮৫ হাজারের বেশি। সরকারি ভাবে চিনে ৮২,৯৪১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যদিও সেই তথ্যের সত্যতা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তামিলনাড়ুতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁল। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তামিলনাড়ুর করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে এখনও প্রথম স্থানে অবস্থান মহারাষ্ট্রের। এই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২৯১০৯। মৃতের সংখ্যা ১০৬৮।

প্রসঙ্গত চিনের উহান থেকেই সারা বিশ্বে ছড়ায় করোনাভাইরাস। উহানে এখনও কিছু কেস থাকলেও এখন অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা একশোর কম। বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত ৪৬ লক্ষ। চিনে সরকারি তথ্য অনুযায়ী করোনায় মৃত ৪৬৩৩। ভারতে ইতিমধ্যেই করোনা মৃত ২৭৫৩ ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই কেবল এই আক্রান্তের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ঘটনার রিপোর্ট মিলেছে। এটি এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মারাত্মক এই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং স্পেন দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে। প্রতিটি স্থানেই দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত। চিন ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ যখন নিজস্ব অর্থনীতি ফের চালু করতে শুরু করেছে, তখনই ভাইরাসের সম্ভাব্য পুনরুত্থান সম্পর্কে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর, বিহার ও কর্ণাটক ইতিবাচক পরীক্ষিত লোকের সংখ্যা অনুসারে এক হাজারের চিহ্নকে লঙ্ঘন করেছে, যখন কেরালা, গোয়া এবং মণিপুরের মতো জায়গাগুলিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল যে কয়েকটিকে বেশিরভাগ ভাইরাস-মুক্ত হিসাবে দেখা হচ্ছে দিন আগে করোনা রোগীর দ্বিগুণ হওয়ার সংখ্যা অনেকটাই বৃৃদ্ধি পেয়েছে।

কিন্তু এখনও প্রতিদিনই প্রায় চার হাজার করে নয়া কেস আসছে, যা যথেষ্ট চিন্তার। ১৮ মে থেকে চতুর্থ লকডাউন শুরু হচ্ছে যেখানে অনেক বেশি ছাড় দেওয়া হবে। তারপরে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: