Science & Tech

লকডাউনে এবার সক্রিয় হয়েছে সাইবার অপরাধীরা, ভুলে ও পা দেবেন না সেই ফাঁদে !

অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টাকা, সাবধান

@ দেবশ্রী : এখন চারিদিকেই কেবল আতঙ্ক। মনের মধ্যে বাসা করে আছে ভয়। একদিকে করোনা তো অপরদিকে লকডাউনে পুলিশের কড়াকড়ি। এমন পরিস্থিতিতে জোড়া ফাঁপড়ে পড়ে অনলাইনে কেনাকাটাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন হাওড়ার এক বাসিন্দা। পেটিএম-এর মাধ্যমেই পাওনা মিটিয়ে দিতেন তিনি।

কিন্তু গত মঙ্গলবার হঠাত্‍ ওই ব্যক্তির কাছে ফোন আসে, ‘আপনার কেওয়াইসি জমা করা নেই। লকডাউনের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভেরিফিকেশন করতে পারছি না। অ্যাপ-এর নাম বলছি। অ্যাপে ঢুকে তথ্য জমা করে দিতে পারবেন।’ এরপর মিষ্টভাষী ওই যুবকের কথার ফাঁদে পড়েই অ্যাপ ডাউনলোড করতে না করতেই ডেবিড আর ক্রেডিট কার্ড থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় তাঁর ৭৭ হাজার টাকা!

এই লকডাউনের সময়ে অনেকেই এখন অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। মুদিখানার জিনিস থেকে মদ, বিদ্যুতের বিল থেকে রেস্তরাঁর খাবার— অনলাইনেই লেনদেন কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বাইরে বেরনোর সুযোগ যেহেতু কম, তাই যাঁরা অনলাইনে কেনাকাটা করতেন না, তাঁরাও এখন পেটিএম, ফোন পে, গুগল পে-এর মতো অ্যাপনির্ভর কেনাকাটা করছেন। আবার অনেকে অনলাইন ব্যাঙ্কিংও করছেন।

অন্য দিকে এই সময়ে সুযোগ বুঝে ফাঁদ পেতে তৈরি সাইবার অপরাধীরা। নানা ধরনের নতুন পন্থায় পকেট কাটছে তারা। যে অ্যাপটির লিঙ্ক পাঠানো হয়েছিল, সেটি গুগল প্লে স্টোর থেকে নামিয়ে ছিলেন হাওড়ার ওই ব্যক্তিটি। তাঁর মতোই সল্টলেক বৈশাখীর এক বাসিন্দা, ছেলের ‘এডুকেশন লোন’-এর জন্য অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সব সময়েই রেখে দেন। ঠিক একই ভাবে ফোনটি এসেছিল তাঁর ছেলের কাছে। বলা হয়েছিল, লোন-এর জন্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এ ভাবেই কথা বলতে বলতে, হাজার দেড়েক টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল প্রতারকেরা।

শুধু এই দু’টি ঘটনাই নয়। প্রায় প্রতি দিনই কেউ না কেউ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। রেস্তরাঁতে খাবার অর্ডার দিতে গিয়েও ভুয়ো ওয়েবসাইটের ফাঁদে পড়ছেন ক্রেতারা। এমনকি মদের দোকানের ছবি-ফোন নম্বর দিয়ে ফেসবুকে নকল পোস্টও করা হচ্ছে। এ ভাবেই টাকা গায়েব হচ্ছে, নানা নানা ভাবে। ক্রেতা যখন সব বুঝছেন, ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। জমানো টাকা মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যাচ্ছে অ্যাকাউন্ট থেকে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: