Life Style

লকডাউনে চলছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম,তাই নিজের যত্ন নিন এভাবে…

ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করতে করতে অনেকেই কাজের প্রতি উৎসাহ হারাচ্ছেন। নানাবিধ কারণে কমছে কাজের ইচ্ছাও। এমনকী ডিপ্রেশনেরও শিকার হচ্ছেন অনেকে।

প্রেরনা দত্তঃ বাড়িতে থাকলেও অফিস থেকে মুক্তি নেই। অফিসের নিয়ম মেনেই রোজকার মতো কাজ চলছে বাড়িতে বসেই। ফলে ইচ্ছা না থাকলেও সারাদিনই চোখ রাখতে হচ্ছে কম্পিউটারের স্ক্রিনে নয়তো বা মোবাইল ফোনে। নোভেল করোনার দাপট রুখতে দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। মোটের উপর ঘরবন্দি দেশের অধিকাংশ মানুষ। অবশ্য এই ঘরবন্দি অবস্থাতেও বাড়িতে বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অনেকে। ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা আধুনিক মোবাইল ব্যবহার করে মেটাতে হচ্ছে সেই কাজ। আধুনিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর দৌলতেই এমন আপৎকালীন পরিস্থিতিতেও অনেক অফিসের কাজ চলছে নির্বিঘ্নেই।

৮ ঘণ্টা কাজের সময় বাড়তে বাড়তে ঘণ্টা দশেক হয়ে গিয়েছে অনেকেরই৷ বন্ধ হয়েছে এ টেবিল সে টেবিলের আড্ডা ও সেই সুবাদে অঢেল রিল্যাক্সেশন৷ ফলে ক’দিন যেতে না যেতেই একঘেয়ে লাগতে শুরু করেছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’৷ সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘাড়ে-কোমরে ব্যথা, কখনও আবার ব্যথা সারা শরীরে৷ গা ম্যাজম্যাজ, মাথা টিপটিপ, বিরক্তি৷ শুয়ে-বসে-গড়িয়ে রিল্যাক্স করে কাজ করেও যা কমছে না একচুল৷ বরং বেড়েই চলেছে৷

১) কম্পিউটারে কাজ করার সময় প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর কুড়ি মিনিটের ব্রেক নিন। জানলা দিয়ে বাইরে তাকান, অথবা ঘুরে আসুন বারান্দা থেকে। চোখ বিশ্রাম পাবে, সঙ্গে কোমর-পিঠ-ঘাড়ের ব্যথা থেকেও বাঁচতে পারবেন। বাড়িতে যদি গাছ থাকে সেদিকেও তাকাতে পারেন। সবুজ চোখ ঠাণ্ডা রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

২) চোখ সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হল তাকে শীতল রাখা। শসা পাতলা স্লাইস করে কেটে চোখে চাপা দিয়ে শুয়ে থাকুন। শসার বদলে গোলাপজলে ভেজানো তুলোও নিতে পারেন। চোখ অনেকক্ষণ ধরে আর্দ্র আর শীতল থাকবে।

৩) কাজের ফাঁকে কিছু হালকা চোখের ব্যায়াম করতে পারেন। চোখের মণি উপরে নিচে আর পাশে ধীরে ধীরে রোল করার মতো করে ঘোরান। চোখ আরাম পাবে।

৪) সারাক্ষণ কম্পিউটার বা টিভির পরদায় চোখ সেঁটে রাখবেন না। অবসর সময়ে বই পড়ুন। তাতে চোখ শান্ত থাকবে।
সতর্ক হোন
• অফিসে যেমন চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করতেন, এখনও সে ভাবে করুন৷ মাঝেমধ্যে এক-আধ বার বিছানা বা সোফায় বসে কাজ করলেও খেয়াল রাখুন ঘাড় ও কোমর যেন সোজা থাকে৷
• চেয়ার টেবিলের উচ্চতা এমন রাখুন যাতে ঘাড় সোজা রেখে কাজ করতে পারেন৷
• কাজের মাঝে ফোন এলে কাঁধ আর ঘাড়ের মাঝে ফোন ধরে কাজ চালিয়ে যাবেন না৷ হয় স্পিকার চালু করুন, না হলে ইয়ার ফোনে কথা বলুন, নয়তো কাজ বন্ধ রাখুন সেই সময়টুকু।
• সাধারণ চেয়ারে বসে কাজ করলে কোমরের কাছে কুশনের সাপোর্ট দিন৷
• কম্পিউটারে ঘণ্টা খানেক কাজ করার পর মিনিট দশেক চোখের কাজ বন্ধ রাখুন৷ ফাঁকা পেয়েছেন বলে একটু টিভি দেখে নিলেন বা মোবাইল চেক করলেন, তা কিন্তু হবে না৷ একটু চলাফেরা কি স্ট্রেচিং করলে বা চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলে চোখ, ঘাড়, কোমর সবই বিশ্রাম পাবে৷
• ৮-১০ ঘণ্টা কাজের মাঝে কম করে দু’বার খোলা হাওয়ায় ১০-১৫ মিনিট ঘুরে আসুন৷ বাইরে যাওয়া তো এখন সম্ভব নয়, তাই ছাদেই একটু পায়চারি করে নিন৷
• দিনে অন্তত এক বার কয়েকটি ব্যায়াম করুন৷
• দিনে এক বার কী দু’বার ১৫-২০ মিনিট একটু জোরে হাঁটুন৷
• রোটেশনাল নেক এক্সারসাইজ করুন৷ ব্যাপারটা আর কিছুই না, প্রথমে সোজা দাঁড়িয়ে বা বসে ঘাড় পিছনে নিয়ে ছাদের দিকে তাকান৷ এ বার ঘাড় ঝুঁকিয়ে তাকান মেঝের দিকে। এর পর পর্যায়ক্রমে ডান দিকে ও বাঁ দিকে তাকাবেন৷ এই ব্যায়াম ঘাড়কে সচল রাখে৷
• এ বার করুন স্ট্যাটিক নেক এক্সারসাইজ। বাঁ হাত দিয়ে মাথা ডানদিকে ঠেলুন, মাথা সোজা থাকবে৷ এ বার ডান হাতের চাপে মাথাকে বাঁ দিকে ঠেলার চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রেও মাথা সোজা থাকবে৷ মাথার পিছনে দুই হাত জড়ো করে মাথা সামনে ঠেলুন৷ মাথা সোজা থাকে যেন৷ কপালে দুই হাত রেখে মাথা পিছনে ঠেলবেন৷ এ বারও মাথা সোজাই থাকবে৷ তিনটে করে সেট করবেন৷
• কোমরের ব্যথা কম রাখতে করবেন ভুজঙ্গাসন ও শলভাসন৷
• কাজের মাঝে উঠে একটু আড়মোড়া ভাঙার মতো করবেন৷
আর অবশ্যই বাড়ির খাবার যেমন খাচ্ছেন খান, কিন্তু সঙ্গে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার একটু খেতে হবে৷ কাজেই ডিম, দুধ, দই খাওয়ার চেষ্টা করুন নিয়মিত৷ জল খাবেন পর্যাপ্ত৷ চা-কফি-কোল্ডড্রিঙ্কে-মদ-সিগারেটে রাশ টানতে হবে৷

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: