West Bengal

লকডাউন, তাই বন্ধ ফুচকার বিক্রিবাটা, দু:সময়ে কেমন আছে ওই ফুচকাওয়ালার দল?

লকডাউনে সংসার অচল ‘ফুচকা গ্রামের’ বাসিন্দাদের

প্রেরনা দত্তঃ পাড়ার কোন মোড়ে কোন ফুচকাওয়াল পসরা সাজান, কার ফুচকার কেমন স্বাদ তা অনেকের কণ্ঠস্থ থাকে। ফুচকা যেমন জিভে জল এনে দেয়, ঠিক তেমনই এই ফুচকা কারও ঘরে এনে দিচ্ছে ভাত। মুচমুচে ফোলা ফোলা ফুচকা। তিনভাগই যার তেঁতুলজল আর মশলাদার আলুর পুরে ভরা। জিভে জল তো আসবেই। কডাউন, তাই বন্ধ ফুচকার বিক্রিবাটা। বন্ধ ফুচকাওয়ালাদের রোজগারও। কিন্তু এই দু:সময়ে কেমন আছে ওই ফুচকাওয়ালার দল? কেমন চলছে ওঁদের সংসার?

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুর ২ নম্বর ব্লকের বাখরাহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের চকশুকদেব গ্রাম। এলাকায় প্রসিদ্ধি ‘ফুচকা গ্রাম’ হিসেবেই। ফুচকা তৈরি থেকে বিক্রি – গোটা পদ্ধতির সঙ্গেই জড়িত গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার। ফুচকা শিল্পের উপরই নির্ভর ছিল ওঁদের জীবন-জীবিকা। বাড়ির ছেলে, বুড়ো, মহিলা সকলেই জড়িত ছিলেন এই ব্যবসার সঙ্গেই।প্রতিদিনের সামান্য রোজগারেই টেনেটুনে চলত সংসার।

অনটনেও তবু সুখ ছিল ‘ফুচকা গ্রামের’ বাসিন্দাদের জীবনে। ফুচকাওয়ালার দল আজ যেন বড় অসহায়।আজ চরম অনটনে নিত্য অশান্তি তাদের পরিবারে।এভাবে আর কতদিন? স্বপ্ন এখনও দেখেন ‘ফুচকা গ্রামের’ ফুচকাওয়ালার দল। একদিন আবার খুলবে স্কুল-কলেজ, দোকান-বাজার। ডাক পাবেন বিয়ে—বৌভাতের অনুষ্ঠানে। ফের ফুচকা ভরতি ঝাঁকা নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন ওঁরা। ঠিক যেমন চলছিল আগে, তেমনই চলবে সবকিছু।এরম আরও অনেক মানুষ এই শিল্পের সাথে জরিত।ফলে সমস্যায় পড়েছে অনেক মানুষ। এখন তো আর বাইরে গিয়ে ফুচকা খাওয়া সম্ভব নয় ,তাই বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন…।

ফুচকা, পানিপুরি, গোলগাপ্পা, একেই বলে বহুরূপে সম্মুখে…. নাম যাই হোক না কেন, স্বাদে আজও ফুচকা রাস্তার খাবারের রাজা। আসলে ফুচকা কেবল তো খাবার নয়, ফুচকা এক অপার্থিব ভালোবাসা। মশলা দিয়ে মাখা আলু, পেঁয়াজ, ছোলা, সামান্য টক আর পরিমাণমতো ঝাল, আর এই স্বর্গীয় পুর দিয়ে ভরা ফুচকা যখন তেঁতুল জলে ডুবিয়ে শালপাতায় তুলে দেন ফুচকাওয়ালা, আহা অমন ক্রেতা বিক্রেতা সম্পর্ক ইহজগতে আর নেই বলেই মনে হয় খাদ্যপ্রেমীদের! কিন্তু সেই ফুছকাওালারাই আজ বাড়িতে বসে কিভবে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকবে তার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: