Nation

শেষ হয়েছে সকল সম্বল, তাই অটোতেই মুম্বই ছেড়ে বাড়ি ফিরছে পরিযায়ী অটোচালকরা

লকডাউনে জুটছে না কোনো খাবার, আর কোনো পথ খোলা নেই মুম্বাই স্বপ্ন নগরীতে

@ দেবশ্রী : করোনার জেরে আজ যেন স্তব্ধ প্রায় গোটা দেশ। আর এই মারণ ভাইরাসের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্র। সেখানেই সব থেকে বেশি করোনা সংক্ৰমিতের সংখ্যা উঠে এসেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে হাইওয়ে ধরে ছুটে চলেছে সারি সারি হলদে- কালো অটো। সবকটির গায়েই মহারাষ্ট্রের নম্বরপ্লেট। কমবেশি ১৪০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে কোনওটির গন্তব্য বিহার, কোনওটির উত্তর প্রদেশ। তিন চাকার যানের মধ্যেই রয়েছে কারও পরিবার, সংসারের সবটুকু সম্বল।

জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে দেশের বাণিজ্য নগরীতে। একসময়ে অন্ন সংস্থানের জন্য উত্তর প্রদেশ, বিহার থেকে যে অটোচালকরা সেখানে এসেছিলেন, তাঁরাই অস্থায়ী বাসস্থানের সবটুকু সম্বল অটোর মধ্যে গুছিয়ে নিয়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে শুরু করেছেন তাঁরা। মুম্বইয়ে যেটুকু সহায়, সম্বল ছিল, অটোর মধ্যে তাই গুছিয়ে নিয়ে বিহার, উত্তর প্রদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তাঁরা। আর সেই সংখ্যাটা আট হাজারেরও বেশি।

উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা এক অটোচালক জানিয়েছেন, মুম্বইতে খাবার জোটানোর জন্য কোনো উপায় না থাকায় কার্যত ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছিল তাঁদের। কোনও খাবার ছিল না। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের জন্যই টাকা দিতে হচ্ছিল। ফলে, গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করছেন তাঁরা।

এমন পরিস্থিতিতে পরিযায়ী অটোচালকদের মুম্বই ছাড়ার প্রবণতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। মুম্বইতে প্রায় আড়াই লক্ষ অটো চলে। যার অর্ধেকই হয় বিহার এবং উত্তর প্রদেশ থেকে আসা অটোচালকরা চালান, নয়তো তাঁরাই অটোর মালিক। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই থমকে গিয়েছে সেই অটোর চাকা। জমানো যেটুকু টাকা পয়সা ছিল, এই দেড় মাসে তাও নিঃশেষিত। এই পরিস্থিতিতে মুম্বইয়ের স্বপ্নে দাড়ি টেনে তাই বাড়ি ফেরার পথ ধরেছেন তাঁরা। যাতে দুমোঠো অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারেন তারা।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: