Big Story

শ্রমিক স্পেশাল নিয়ে মহারাষ্ট্র-বাংলা সংঘাত,চাপের মুখে দায় ঝেড়ে ফেলতে তৎপর রেল মন্ত্রক, ট্রেন কমানোর আর্জি বঙ্গের

'আপত্তি সত্ত্বেও পাঠানো হচ্ছে ট্রেন', অভিযোগ রাজ্যের

প্রেরনা দত্তঃ মহারাষ্ট্রে করোনা-আক্রান্তর হার রীতিমতো উদ্বেগজনক। দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি করোনা-আক্রান্ত মহারাষ্ট্রেই। মুম্বইতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ জনের মৃত্যু। এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্র থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ বিশেষত মুম্বই বা তার সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন, তাঁদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা প্রবল৷

যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে নবান্ন। মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ মহারাষ্ট্রের মুখ্যসচিবকে জানান, এক দিনে ৩০টি ট্রেন সামলানোর পরিস্থিতি এখন নেই। কারণ, আমপানের ক্ষতি সামলাতে রাজ্যের বড় অংশে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে।ট্রেনে করে আসা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহ যাবতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থার আয়োজন করা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষে কঠিন৷ বরং ওই শ্রমিকদের থেকেই আরও বহু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে৷ এর মধ্যেই বুধবার রাজ্যের পুরনো তালিকা অনুযায়ী মহারাষ্ট্র থেকে ২টি এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে আরও ১২-১৩টি ট্রেন রাজ্যে পৌঁছবে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, দুরাজ্যের দ্বন্দ্বের মধ্যে তারা মাথা গলাবে না। তবে, পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থ সকলের মাথায় রাখা উচিত বলেই মনে করছে তারা। এই প্রেক্ষিতে, যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নিতে মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করেছে রেল।রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, রেল মন্ত্রকের অঙ্ক কি এটাই যে, পরে এ নিয়ে কোনও অভিযোগ উঠলে রেলকে যাতে কেউ নিশানা করতে না-পারে, উল্টে রেলই বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে বিঁধতে পারে?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওই অনুরোধ মহারাষ্ট্র মেনে নিলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি ও একই সঙ্গে দায় ঝেড়ে ফেলতে তৎপর রেলমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ মানায় প্রায় ত্রিশটি ট্রেন মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেশনে খালি পড়ে থাকছে। তা নিয়ে টুইটারে পীযূষ বলেন, মহারাষ্ট্র সরকারের কথা মতো আজ ১৪৫টি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৫০টি ট্রেন বেলা তিনটের মধ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু যাত্রীর অভাবে তেরোটি ছেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪১টি ট্রেন যাওয়ার ছিল, কিন্তু ছেড়েছে মাত্র দু’টি। ফলে গোটা দেশে শ্রমিক স্পেশাল চালানোর প্রশ্নে সামগ্রিক পরিকল্পনা রূপায়ণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’’ রেল মন্ত্রক বোঝাতে চায়, শ্রমিকদের আটকে থাকা, খাবার না পাওয়ার দায় সব রাজ্যের। রেলের কোনও ভূমিকা নেই।

এর আগে, ২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যে কোনও শ্রমিক স্পেশাল না পাঠানোর জন্য রেজ বোর্ডকে অনুরোধ করেছিল রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা চিঠিতে লেখেন, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যের একাধিক জেলা বিধ্বস্ত। জেলা প্রশাসন ত্রাণ ও পুনবার্সনের কাজে ব্যস্ত। এই অবস্থায় প্রশাসনের পক্ষে আগামী কয়েকদিন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের যাত্রীদের এ রাজ্যে আসার পর বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই আগামী ২৬ মে পর্যন্ত রাজ্যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন যেন না পাঠানো হয়। ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য চালু হয়েছে ওই ট্রেন পরিষেবা।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দুই রাজ্যের সম্মতিক্রমেই হওয়া উচিত৷ আমফান পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য রাজ্য যে কয়েকদিন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন আসা বন্ধ রাখতে চাইছে, তাও জানান স্বরাষ্ট্রসচিব৷

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: