Big Story

সরকারের নিদান : ভাঙছে লকডাউন খুলছে বাজার সোমবার থেকে

১ জুন খুলছে নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট বাজার, ভিআইপি বাজার, এন্টালি মার্কেট-সহ কলকাতা পুরসভার অধীনস্থ ৪৬টি বাজার

পল্লবী : যাক কিছুটা সুরাহা হলো। শেষ পর্যন্ত আগামী সোমবার অর্থাৎ ১ জুন খুলছে নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট বাজার, ভিআইপি বাজার, এন্টালি মার্কেট-সহ কলকাতা পুরসভার অধীনস্থ ৪৬টি বাজার। লকডাউন শুরুর ফলে বন্ধ হয়ে যায় এই মার্কেটগুলি। কলকাতা শহরের অন্যতম বড়ো বাজার ছিল এগুলি। শুধমাত্র অনুষ্ঠানের সময় নয় বছরের প্রায় প্রত্যেকদিনই হাজার মানুষের ভিড় জমে এখানে। তাই সংক্রমন এড়াতেই তৎপরতার সাথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বাজার খুললেও পুরসভার নির্দেশ অনুযায়ী বাজার খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। তার পরেই বাজারের বিদ্যুত্‍ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। পুরসভা সূত্রের খবর, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে বৈঠকের পরেই কোন কোন বাজার খোলা হবে তার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুর বাজারগুলি আপাতত ‘ক্লিন জ়োনে’ রয়েছে বলে খবর। তবে যদি দেখা যায় বিশেষ কোনও বাজারের কাছে করোনা সংক্রমণের খবর মিলেছে, তা হলে সেই বাজার আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে। ‘বাফার জ়োন’-এর ক্ষেত্রেও দেখা হচ্ছে, করোনা সংক্রমিত এলাকা থেকে সংশ্লিষ্ট বাজার কত দূরে রয়েছে।

বাজার দফতরের এক আধিকারিক জানান, মুখ্যসচিবের নির্দেশে বলা হয়েছে, নিত্য প্রয়োজনীয় নয় এমন জিনিস সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে না। বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে যাতে দোকান বন্ধ হয়, তা দেখতে বলা হয়েছে প্রতিটি বাজার কমিটিকে। দোকান বন্ধ হওয়ার পরে বাজার এলাকায় কোনও দোকানদারকে থাকতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, নজর খোলার অনুমতি পেয়ে নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রাজীব সিংহ জানান, খোলার আগে বাজার জীবাণুমুক্ত করা হবে। লেক মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে ভোলা সাহা বলেন, ”আনাজ ও মুদির দোকান আগেই খুলেছিল। এ বার আরও কিছু দোকান খুলবে। তবে যে ব্যবসায়ীরা দূরে থাকেন, তাঁরা এখনই আসতে পারছেন না।” পুরসভার তরফ থেকে জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই খুলেছে কাঁকুড়গাছির ভিআইপি বাজার এবং এন্টালি মার্কেটের কিছু দোকান আগামী সোমবারের মধ্যে বাকি দোকানও খুলবে।

সাবধানতার বিষয় মেনেই পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তথা বাজার দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আমিরুউদ্দিন ববি জানান, মুখ্যসচিবের নির্দেশ মাথায় রেখেই পুর প্রশাসন সব বাজারে নোটিস পাঠিয়েছে। বলা হয়েছে, বাজারে নিয়মিত জীবাণুনাশক ছড়াতে হবে। বড় দোকানে পাঁচ জন ও ছোট দোকা‌নে দু’জনের বেশি ক্রেতাকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। দোকানদার ও কর্মীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার।

পুরসভার নির্দেশ এবং তার সাথে দোকানের সমস্ত আধিকারিক সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, সমস্ত সাবধানতা সচেতনতা মেনেই চলবে ব্যবসা কিন্তু চেনা বাজারের যে দৃশ্যের সাথে সাধারণ মানুষ অবগত তাতে করে কতটা সাবধানতা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব তা চিন্তার বিষয়। যদি আমরা নিউ মার্কেটের কথাই বলি, সেখানে সাধারণ দিন গুলিতেও দোকানদের বিশ্রাম নেওয়ার জো থাকেনা। সেখানে ২-৫ জন ক্রেতার যে সচেতনতা তা কি আদৌ মানা সম্ভব। তবে স্বস্তির বিষয় যে সেই সময় যেমন পরিমান ভিড় হতো এখন তা অনেকাংশেই কমবে একথা ধারণা করার যায়

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: