Analysis

‘সাউথ আটলান্টিক অ্যানোমালি’ কথার অর্থ জানেন ?

পৃথিবীকে নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বিশেষজ্ঞ মহলের !

পল্লবী : করোনা আবহের মাঝেই উঠে আসছে এক নয়া তথ্য যা রীতিমতো ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। জানা যাচ্ছেম পৃথিবীর একটা অংশে নাকি কমতে শুরু করেছে চৌম্বকত্ব। হ্যাঁ, ঠিকি ধরেছেন পৃথিবী হারাচ্ছে তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। তাহলে যে ঘোর বিপদ ! ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি জানাচ্ছে, আফ্রিক ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তবর্তী একটি অংশে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড। এই ঘটনাকে বলা হচ্ছে ‘সাউথ আটলান্টিক অ্যানোমালি।’ পৃথিবীর এই অদ্ভুত সমস্যায় চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে স্যাটেলাইটে। হতে পারে যান্ত্রিক গোলোযোগ।

এই নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আরো জানাচ্ছেন, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র এমন এক ধরনের চৌম্বক ক্ষেত্র যা পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ থেকে শুরু করে মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত। ভূপৃষ্ঠে এর আয়তন ২৫ থেকে ৬৫ মাইক্রোটেসলা । এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণেই মহাবিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ধরনের মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা পাচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র যদি কোনওদিন শূন্য হয়ে যায় তাহলে এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব টিকে থাকাটাই কঠিন হবে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চৌম্বক ক্ষেত্র ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। যা কিনা বেশ দুশ্চিন্তার। গত ২০০ বছরে এই ফিল্ড প্রায় ৯ শতাংশ ক্ষমতা হারিয়েছে।

বিজ্ঞানীদের কথায়, প্রাথমিকভাবে মোবাইল, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে । স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা। তবে আশার আলো একটাই, এই ঘটনা ঘটতে লাগবে বহু বছর। গবেষকদের ধারণা ভূচৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হয়ে যাওয়া পৃথিবীর মেরুর পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। গোলমাল হতে পারে ম্যাগনেটিক নর্থ ও ম্যাগনেটিক সাউথের । আজ থেকে ৭ লাখ ৮০ হাজার বছর আগেও একইভাবে একবার পৃথিবীর মেরু পরিবর্তন ঘটেছিল।

ভবিষ্যতে আর কি কি অপেক্ষা করছে আমাদের সকল পৃথিবীবাসীর জন্য তা জানা নেই কারোর। হয়তো এই জন্মে নয় কিন্তু পরের কোনো জন্মে এমন সঙ্কট আবারো মেলাবে গোটা বিশ্বকে !

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: