Economy Finance

সাধারণ মানুষের রোজগার নেই , তবুও ঋণ পরিশোধের নতুন ফিরিস্তি : শক্তিকান্ত দাস

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নয়া নির্দেশিকা নাকি অন্য ঘোষণা ?

পল্লবী : আজ সকাল ১০টায় সাংবাদিক বৈঠক করবেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। কোভিড ও লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ১০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করার পরে সে প্যাকেজের বিস্তারিত আলোচনা করতে পরপর কয়েক দিন টানা সাংবাদিক বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার দিনকয়েক পরেই সাংবাদিক বৈঠক করার কথা ঘোষণা করলেন আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস।

২৫ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা হয়েছে দেশজুড়ে। এর পরেই ২৭ মার্চ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস ঘোষণা করেন, সমস্ত রকম টার্ম লোনের উপর তিন মাস মোরাটোরিয়াম থাকবে। সব কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক, নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি, গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে অনুমতি দেওয়া হল, তারা তিন মাস ইনস্টলমেন্ট পেমেন্ট নেওয়া স্থগিত রাখতে পারবে। তাঁর কথায়, ‘১ মার্চ থেকে যে ইনস্টলমেন্ট পেমেন্ট বকেয়া রয়েছে তা তিন মাস পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এবং সেই অনুসারে ঋণ শোধ দেওয়ার মেয়াদও পিছিয়ে দিতে হবে।’ মে মাসের গোড়ায় শক্তিকান্ত দাসের পরবর্তী বৈঠকে অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে আগামী দিনে কীভাবে ঋণ দেওয়া যাবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষত বিভিন্ন নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি, মাইক্রোফিনান্স ইনস্টিটিউশন, হাউসিং ফিনান্স কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডকে ঋণ দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। লকডাউন উঠে গেলে মাঝারি ও ছোট শিল্পকে কীভাবে ঋণ দেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। কীভাবে আর্থিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আনা যাবে, যাঁরা ঋণ দিয়েছেন, তাঁদের কিস্তি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন মাস ছাড় দেওয়া যাবে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হয়। আজকের বৈঠকে তিনি কী বলবেন অনেকে

নির্মলা সীতারমন জানিয়েছিলেন, যে সব ছোট ব্যবসা শুরুর পরে ধাক্কা খেয়েছে, সেগুলিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হবে। গরিব মানুষের অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ট্রান্সফার করা হবে অর্থনীতি দাঁড় করিয়ে রাখতে। কিন্তু বহু অর্থনীতিক এমনকি আরবিআইয়ের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনও মতামত রেখেছিলেন, এসবের জন্য এই আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ যথেষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে, এর পরেই সাধারণ মানুষের জন্য কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়েই আলোচনা করবেন আরবিআই গভর্নর শশীকান্ত দাস।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কোভিড সংক্রমণ ও তার পরবর্তী অনির্দিষ্টকালীন লকডাউনের জেরে যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গোটা দেশ, তাতে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে চলেছি আমরা। নয়ের দশকে যে বিপুল সমস্যা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি, এবারের সমস্যা তার থেকে কয়েক গুণ বেশি ও গভীর। কারণ গোটা বিশ্বই এবার সংকটের মুখে। সেখানে ভারতের মতো গরিব দেশের পক্ষে পরিস্থিতি আরও কঠিন একে সামাল দেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিত ও দূরদর্শী পরিকল্পনা দরকার। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চাহিদা বাড়ানো এবং চাহিদা অনুযায়ী মানুষের জিনিসপত্র কেনার ক্ষমতার জন্য টাকার জোগান জরুরি। জরুরি ভর্তুকি। তা না হলে সচল রাখা যাবে না অর্থনীতি। আরবিআই-এর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এই গোটা পদ্ধতিতে। সুদের হার কমানো থেকে শুরু করে ঋণ ফেরত দেওয়ার পদ্ধতি- সবটাই জনদরদী হওয়ার দাবি রাখে এই পরিস্থিতিতে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: