Big Story

সিইএসসি-র অপদার্থতা, মৃত দমকলকর্মী, ১৪ দিনের জেল হেফাজতে CESC-র ৩ কর্মী

সিইএসসি ফৌজদারি অপরাধ করেছে, মন্তব্য ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর।

প্রেরনা দত্তঃ জিটি রোডে বিদ্যুতের তারের উপরে ভেঙে পড়েছিল গাছের ডাল। আর তা কাটতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল সুকান্ত সিংহ রায় (২৭) নামে এক দমকলকর্মীর। বুধবার দুপুরে বেলুড়ে এই ঘটনায় সিইএসসি-র বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করার পাশাপাশি কামাল আখতার, শান্তনু মাহাতো এবং রাজনারায়ণ রায় নামে তিন জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিইএসসির গাফিলতির কারণেই গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বালির দমকলকর্মী সুকান্ত সিংহরায়ের। প্রাথমিক তদন্তের পরে এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনায় ধৃত তিন সিইএসসি কর্মী দোষ স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। ধৃত কামাল আখতার, শান্তনু মাহাতো ও রাজনারায়ণ রায়কে বৃহস্পতিবার হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। আজ, শুক্রবার ফের তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে।

আমফানের পরে জরুরি পরিষেবায় বেরিয়েছিল ছেলে, আর ফেরা হয়নি। বেঘোরে প্রাণ গিয়েছে দমকলকর্মী সুকান্ত সিংহ রায়ের। তারকেশ্বর থানার সন্তোষপুর এখন শুধুই শোকের ছায়া। প্রাণবন্ত কর্মপ্রাণ তরতাজা যুবকের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার ও প্রতিবেশীরা। বুধবার বেলুড়ে জিটি রোডের ওপর ইলেক্ট্রিকের তারে জড়ানো গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যাযন সুকান্ত সিংহ রায় নামে ওই দমকলকর্মী। ঘটনার পরই ডিজি নির্দেশে বেলুর থানায় সিএসসি কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে দমকল।

বাড়ির ছোট ছেলে হলেও সুকান্ত না-থাকলে তারকেশ্বরের সন্তোষপুর গ্রামের সিংহরায় পরিবার চোখে অন্ধকার দেখত। বছর সাতাশের সেই সুকান্ত চিরকালের মতো হারিয়ে গিয়েছেন বুধবার। দুর্ঘটনায় সিইএসসি-র ভূমিকা প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁদের গাফিলতিতে এই মৃত্যু, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন মৃতের বাবা সুশান্তবাবু। একই দাবি সুকান্তের বন্ধুদেরও। সুশান্তবাবু বলেন, ‘‘সিইএসসি-র অপদার্থতা ক্ষমার অযোগ্য।’’

প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সুশান্তবাবুর দুই ছেলে। বড় সুদীপ্ত তারকেশ্বর দমকল কেন্দ্রের কর্মী। ছোট সুকান্তও ২০১৬ সালে দমকলে যোগ দেন। তার আগে বছর দেড়েক তারকেশ্বর থানায় সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ করেছিলেন হরিপাল বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ের ওই প্রাক্তন ছাত্র। বাড়ির পাশেই নিজেদের জমিতে নতুন বাড়ি করছে সিংহরায় পরিবার। কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু সেই নতুন বাড়িতে আর থাকা হল না সুকান্তের।

জিটি রোডে বেলুড় শ্রমিক মঙ্গল কেন্দ্রের ভিতরে কদম গাছের একটি অংশ বিপজ্জনক ভাবে ভেঙে পড়েছিল বিদ্যুতের তারের উপর। বালি দমকল কেন্দ্রের ওসি রামকৃষ্ণ সাহা জানান, সিইএসসি-র থেকে বাঁশের মই নিয়ে রাস্তার পাশের বাতিস্তম্ভে ঠেসান দিয়ে উপরে উঠে গাছের ডালটি কাটার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সিইএসসি-র কর্মীরা জানান, ওই জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তা জানার পরেই মই বেয়ে উপরে উঠেছিলেন সুকান্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছ কাটার করাত নিয়ে বাতিস্তম্ভের একেবারে উপরে তারের সংযোগস্থলের সামনে উঠতেই সারা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে স্থির হয়ে যান সুকান্ত। রামকৃষ্ণবাবুরা মই নাড়াতেই নীচে পড়েন ওই যুবক। তাঁকে কোলে নিতে গিয়ে করাতের আঘাতে পায়ে চোট পান রামকৃষ্ণবাবু। তিনি বলেন, ‘‘তখন আর কোনও সিইএসসি কর্মীর দেখা মেলেনি।’’ খবর পেয়ে যায় বেলুড় থানার পুলিশ। সুকান্তকে ঘুসুড়ির জয়সওয়াল হাসপাতাল থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত দমকলকর্মীর বাবা সুশান্ত সিংহ রায় বলেন, “বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনায। ওদের দোষেই আমি সন্তান হারিয়েছি। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দরকার। যেন আগামি দিন এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।” বুধবার বেলুড়ের গাঙ্গুলী স্ট্রিটে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় দমকলকর্মী সুকান্ত সিংহ রায়ের (২৭)। ঘটনার কার্যত শোকস্তব্ধ যুবকের পরিবার থেকে প্রতিবেশি সকলেই।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: