Education Opinion

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মত প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক

আশা করা যাচ্ছে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হলে তবেই খুলবে স্কুল

পল্লবী : চলতি পরিস্থিতির ফলে লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় গুলির পঠন-পাঠন। শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন এমন করে কোনো ভাবেই শেষ করা সম্ভব নয় পাঠক্রম। যাওবা অনলাইনের সাহায্যে ক্লাস হচ্ছিলো নেট পরিষেবার কারণে তও বন্ধ। এদিকে দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর হাতে কমতে থাকছে সময়। কবে স্কুল খুলবে তা নিয়েও তুমুল দ্বন্দ্ব। তবে এবার এই নিয়ে মত প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক জানালেন, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা এখনও ঝুলে রয়েছে। তা জুলাই মাসে হতে পারে। তার পরই স্কুল খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এও বলেন, সমস্ত বিষয়টাই তখনকার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে।

এদিন প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যাই হোক না কেন, স্কুল কলেজ খুলতে অন্তত আরও এক মাস তো লাগবেই। ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হবে। তার পর স্কুল খুলতে পারে। মোটামুটি ভাবে দিনক্ষণের সম্ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে রমেশ পোখরিয়াল বলেন, বোর্ডের পরীক্ষা জুলাইয়ে করাতে পারলে, অগস্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হবে। ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় বসবে। আর প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে প্রমোশন দেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজ কবে থেকে খোলা যেতে পারে সে ব্যাপারটি এনসিইআরটি-র একটি টাস্প ফোর্সও খতিয়ে দেখছে। তারা সরকারের কাছে শিগগির একটা সুপারিশ করবে।

তাঁকে এদিন প্রশ্ন করা হয় যে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন দ্রুত হারে ছড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জুলাই মাসের গোড়ায় পরীক্ষা হবে তো? এর উত্তরে রমেশ পোখরিয়াল বলেন, আমরা এখন থেকেই পূর্বানুমান করতে পারি না জুলাইয়ে কী হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রক ছাড়পত্র দিলে তবেই পরীক্ষা হবে। তাঁর বক্তব্য, দেশের সমানে অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। এর অভিজ্ঞতা আগে কখনও ছিল না। ফলে সরকারকে সব রকম সাবধানতা নিয়ে চলতে হবে। আর সাধারণ মানুষকেও দেশ ও দশের স্বার্থে ধৈর্য্য রেখে চলতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয়। পরীক্ষা নিতে গিয়ে সরকার তাঁদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী এও বলেন, আমার বিশ্বাস রয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা যদি আগামী কিছুদিনের মধ্যে না হয়, তা হলে আমাদের বিকল্প ভাবতে হবে। সরকার তখন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক—সবার সঙ্গে কথা বলবে। সবার পরামর্শ নেবে। তার পর উচিত পদক্ষেপ করবে।

চলতি পরিস্থিতির যে ভয়াবহ প্রভাব পড়ুয়াদের ওপর পড়বে তা স্পষ্ট। তবে পড়াশোনার যে ঘাটতি তা কিভাবে পূরণ করা সম্ভব সে বিষয়ে এখনো মতামত প্রকাশ করেনি শিক্ষাদপ্তর কি শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: