West Bengal

হাতে ৫০০০ টাকা, একটা করে পদক্ষেপ তার সাথে কমছে টাকার পরিমান কিন্তু বাড়ি যে এখনো অনেক দূর !

বুক ভর্তি ভরসা নিয়েই তিনটে প্রাণ এগিয়ে চললো বাড়ির উদ্দেশে

পল্লবী : সকল পরিযায়ী শ্রমিকের হার খাটনি করা পরিশ্রম থেকে শুরু করে বাড়ি ফেরার তাগিদে তাদের প্রাণপাত সকল ঘটনায় এসেছে সকলের সামনে। এবার গল্প তেমনি এক শ্রমিকের, তার নাম গোবিন্দ মণ্ডল। দিল্লির একটি গ্যারাজে কাজ করতেন তিনি। কিন্তু লকডাউনে সে কাজ গেছে। মালদহের বাসিন্দা গোবিন্দ এরপর চরম কষ্ট সহ্য করেই দিল্লিতে ছিলেন। ভরসা ছিল একটাই, কাজ হারালেও মালিক তাঁকে তাঁর প্রাপ্য ১৬ হাজার টাকা মিটিয়ে দিয়েছিলেন। ওই টাকার ভরসায় দিল্লিতে লকডাউনের একটা একটা করে দিন কাটাচ্ছিলেন গোবিন্দ। কিন্তু সে পুঁজিও শেষ হতে থাকে। তখন আর মাত্র ৫ হাজার টাকা পড়েছিল হাতে।

এই অবস্থায় গোবিন্দ স্থির করেন আর দিল্লিতে নয়, এবার তিনি মালদায় নিজের বাড়ি ফিরবেন। সে যে করেই হোক। স্ত্রী ও সাড়ে ৩ বছরের সন্তানকে নিয়ে ঘরে ফিরবেন। গোবিন্দ স্থির করেন তিনি একটি সাইকেল রিকশা কিনবেন। একটি সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেল রিকশা পেয়েও যান। দাম পড়ে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। তারপর সেই রিকশায় স্ত্রী ও সন্তানকে বসিয়ে প্যাডেল শুরু করেন তিনি। যেতে হবে অনেক দূর। দিল্লি থেকে মালদা। পকেটে তখন পড়ে আছে মাত্র ২০০ টাকা।

একটু রিকশা চালানোর পরই একটি চাকার হাওয়া বেরিয়ে যায়। ১৪০ টাকা খরচ করে সেই চাকা সারান গোবিন্দ। পকেটে তখন পড়ে মাত্র ৬০ টাকা। প্রবল ক্ষুধাকে সঙ্গী করে ৩টি প্রাণ এগোতে থাকে বাড়ির দিকে। উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত পৌঁছনোর পর সেখানে পুলিশ তাঁদের ধরে। গোবিন্দ পুরো কাহিনি জানান তাদের। পুলিশ তাঁদের কষ্ট বুঝে একটি গ্যাস স্টোভ তাঁদের দান করে। যাতে অন্তত রাস্তায় কিছু ফুটিয়ে খেতে পারেন। এরপর প্রবল গরম, চরম ক্ষুধা, দুঃসহ ক্লান্তিকে সঙ্গী করে কেবল বাড়ি পৌঁছনোর লক্ষ্য স্থির করে প্যাডেল ঘোরাতে থাকেন গোবিন্দ।

১৫ দিন টানা সাইকেল রিকশা চালিয়ে অবশেষে তিনি পৌঁছন ঝাড়খণ্ডের দেওঘর। আর তখন শরীরে এতটুকুও শক্তি অবশিষ্ট নেই। রিকশাটির একটি চাকাও আর কাজ করছে না। অগত্যা থামতে হয় গোবিন্দকে। দেওঘরে একটি কমিউনিটি কিচেনে পরিবার নিয়ে পেট ভরে খাবার খান গোবিন্দ। এখনও যেতে হবে অনেক দূর। তার আগে এখন দেওঘরেই রিকশা সারিয়ে ফের পাড়ি দেওয়ার তোড়জোড় করছেন গোবিন্দ মণ্ডল।

অনেক শুভেচ্ছা রইলো গোবিন্দ এবং তার পরিবারের জন্য তারা যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। আজ এই ঘটনা বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগাবে গোটা শ্রমিক সম্প্রদায়কে। তবে শেষ আর্জি যে রয়েই যায়, সরকার কিছু করুন এই প্রত্যেক জন মানুষের জন্য !

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: