Big Story

হাসপাতাল,থানার পরে এবার মারন ভাইরাস করোনার থাবা শ্মশানেও, আক্রান্ত এক ডোম

তিন জন মিলে কী ভাবে প্রতিদিন সৎকারের কাজ করবেন এবং তাঁদের নথি কে-ই বা নথিভুক্ত করবেন, তা নিয়েও উদ্বেগে পুরসভা।

প্রেরনা দত্তঃ এ বার করোনায় আক্রান্ত হলেন সেই শিবপুর শ্মশানেরই এক ডোম। এর পরেই ওই শ্মশানে হাওড়া পুরসভার সাত শ্মশানকর্মী ও তিন জন ডেথ সাব রেজিস্ট্রার বা ডিএসআরকে হোম কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে। বাকি যে কয়েক জন রয়েছেন, তাঁদের দিয়ে প্রত্যেক দিন শ্মশানে আসা একাধিক করোনার মৃতদেহ সৎকার করতে খুবই সমস্যা হবে বলে মনে করছে পুরসভা।

শ্মশান কর্মীর করোণা পজেটিভ হওয়ার কারণে বন্ধ হল শিবপুর শবদাহ ঘাট। সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন শ্মশানের সামনের রাস্তায় বাঁশ কাঠ এবং মরা পোড়ানোর খাট দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্মশানের চুল্লির প্রবেশপথে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যান্য শ্মশান কর্মীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। রবিবার সকালে শিবপুর শবদাহ ঘাটের এক সহকর্মীকে ঘুসুড়ি সত্য বালা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই শ্মশানের কর্মীর দিন পাঁচেক আগে লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর রিপোর্ট হাতে এলে জানা যায় ওই কর্মীর কোরোনা পজেটিভ। এর পরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রিপোর্ট আসার পরই ওই শ্মশান কর্মীর পরিবারের ৯ জন সদস্য এবং শ্মশান ঘাটের পুরোহিত-সহ আরও পাঁচ জনের সোয়াবের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তাঁদের পরীক্ষার রিপোর্ট এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটাই হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই শ্মশানকর্মীর সংস্পর্শে আর কারা এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাওড়া পুরসভার উদ্যোগে শিবপুর শ্মশান ঘাটে একটি আলাদা ইলেকট্রিক চুল্লিতে প্রথম থেকেই করোনায় মৃতদের সৎকার করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কোনও মৃতের সংস্পর্শে এসে ওই শ্মশানকর্মী করোনা আক্রান্ত হলেন, নাকি সংক্রমণের নেপথ্যে অন্য কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে একের পর এক চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হন। অনেককে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়। ফলে হাসপাতালটি বন্ধ করে দিতে হয়। করোনায় আক্রান্ত হন হাওড়া থানা, শিবপুর থানা-সহ ডিসি সেন্ট্রালের অফিসের লোকজনও। বাদ যাননি পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারেরাও। অন্তত ৩০ জন পুলিশকর্মীকে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়। এখনও থানাগুলির পরিস্থিতি ঠিক হয়নি।

গত ৩০ এপ্রিল হাওড়ায় প্রথম এক মহিলার করোনায় মৃত্যুর পরে শিবপুর শ্মশানঘাটে তাঁর দেহ সৎকার করা হয়। তার পর থেকে ওই শ্মশানটিতেই করোনায় মৃতদের সৎকার হচ্ছে। এর জন্য ডোম-সহ অন্য শ্মশানকর্মীদের পাসোর্নাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিই দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও আক্রান্ত হলেন ওই ডোম। পাশাপাশি যে তিন জন ডোম এখনও শ্মশানে আছেন, তাঁরাও আতঙ্কিত। ওই তিন জন মিলে কী ভাবে প্রতিদিন সৎকারের কাজ করবেন এবং তাঁদের নথি কে-ই বা নথিভুক্ত করবেন, তা নিয়েও উদ্বেগে পুরসভা।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: