Big Story

২ সপ্তাহে তৃতীয় বার, পিটিএস, গড়ফার পর এ বার বিক্ষোভ-ভাঙচুর সল্টলেকে

অফিসারদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ পুলিশকর্মীদেরই একাংশের বিরুদ্ধে।

প্রেরনা দত্তঃ ফের কলকাতা পুলিশে বিদ্রোহ। এবার ঘটনাস্থল সল্টলেক পুলিশ ব্যারাক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা। ব্যারাকে ভাঙচুর। ঘটনাস্থলে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধাননগর কমিশনারেট উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

অভিযোগ তাঁদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হয়। চরম অস্বস্তিতে পুলিশমহল। ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। এর আগে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল (পিটিএস) এবং গরফা থানায় একই কারণে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, চতুর্থ ব্যাটালিয়নের এক কর্মীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। চতুর্থ ব্যাটালিয়নে ব্যারাক ছাড়াও রয়েছে কোয়াটার্স, যেখানে পুলিশকর্মীরা পরিবার নিয়ে থাকেন। এ দিন সকাল থেকেই শুরু হয় পুলিশকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন কনটেনমেন্ট জোনে তাঁদের ডিউটি করতে হচ্ছে। অথচ তাঁদের জন্য নেই মাস্ক, গ্লাভস বা পিপিই-র মতো সুরক্ষা সরঞ্জাম। অভিযোগ, স্যানিটাইজারের মতো ন্যূনতম জিনিসও অমিল।

ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। যান বিধাননগর কমিশনারেটের আধিকারিকরাও। অভিযোগ, তাঁদেরকে লক্ষ্য করেও ইট ছোঁড়া হয়। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত বলে খবর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভে শামিল হন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও। বিকেল থেকেই বিক্ষোভকারীরা মারমুখী হতে শুরু করেন। অভিযোগ, বিক্ষোভকারী পুলিশকর্মীদের একটা বড় অংশ, চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প চত্বরের আলো নিভিয়ে, কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ভাঙচুর শুরু করেন। হাতে লাঠি, বাঁশ নিয়ে ক্যাম্পে থাকা কিছু আধিকারিকদের তাড়াও করেন তাঁরা। অফিস ভাঙচুর করেন। সেই সঙ্গে ক্যাম্পে ঢোকার সমস্ত গেট বন্ধ করে দেন।

চার নম্বর পুলিশ ব্যাটেলিয়ানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করে সেখানে করোনায় আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।এমনকি তাঁদের ঠিক মতো চিকিৎসা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। আর এরই প্রতিবাদে এদিন উর্ধতনের কাছে যান বাকি জওয়ানরা। কিন্তু এই বিষয়ে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। আর এরপরেই সন্ধ্যায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সল্টলেকে কলকাতা পুলিশের ব্যারিকেড। এই ব্যাটেলিয়ানের বাকি পুলিশ ফোর্স তারা বিল্ডিংয়ের ভিতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।

দীর্ঘ ক্ষণ ক্যাম্পের বাইরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে র‌্যাফ মোতায়েন করা হয় ক্যাম্পের সামনে। অবশেষে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিক্ষুব্ধদের একাংশকে শান্ত করে গেট খোলানোর ব্যবস্থা করেন শীর্ষ আধিকারিকরা। ভিতরে ঢুকে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন তাঁরা।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, পিটিএসে বিক্ষোভ হওয়ার পর, যে ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছিলেন জওয়ানরা, সেই আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: