Youth

৩০,০০০ টাকা খরচ করে দুদিনের যাত্রাশেষে ত্রিপুরার বাড়ি পৌঁছলেও ঠাঁই মিলল না শস্রমিকের…কেন জানেন ?

গোবিন্দ সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্ত্রী, সন্তানেরা আমাকে চলে যেতে বলছে। আমি কী বলব।”

প্রেরনা দত্তঃ লকডাউনে বাড়ি ফিরে আসার মরিয়া চেষ্টায় জীবনের এতদিনের উপার্জন মুহূর্তে ফুরিয়ে ফেলতে দ্বিধা করেননি গোবিন্দ দেবনাথ। দু দিন গাড়িতে কাটিয়ে আসামের সিলপাথার থেকে নিজের টাকায় আগরতলায় বাড়ি পৌঁছলেন গোবিন্দ দেবনাথ। কিন্তু সেখানেই তাঁর ভোগান্তির ইতি ঘটল না। অসমে দিনমজুরি করে সংসার চালানো গোবিন্দ লকডাউনের মধ্যে ৩০,০০০ টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করেন। ২ দিন ধরে সফর করে এসে পৌঁছন আগরতলার বাড়ি। আসার পর নিয়মমাফিক তাঁর করোনা পরীক্ষা হয়।

কিন্তু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও তাঁর স্ত্রী তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেননি। বাড়ির লোকের বক্তব্য রিপোর্ট যতই নেগেটিভ হোত, তাঁরা কমপ্লেক্সের সকলের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ঝুঁকি নিতে রাজি নন। গোবিন্দের ঘটনা দেখিয়ে দিল, কতটা কুসংস্কার, সংবদেনহীনতা এবং একঘরে করার তীব্র বোধ করোনাভাইরাস ঘিরে ছড়িয়ে রয়েছে।

৩৭ বছরের গোবিন্দ দিনমজুর। তিনি ও আরও কয়েকজন আগরতলার জয়নগর এলাকায় দরিদ্রদের জন্য আবাসন প্রকল্পে থাকার সুযোগ পান। সেখানে তিনি একটি ছোট ফ্ল্যাটে থাকেন নিজের স্ত্রী মাম্পি দেবনাথ ও আত্মীয়দের সঙ্গে। ফ্ল্যাটটি তাঁর শাশুড়ি ভানু দাসের নামে। বিস্মিত গোবিন্দ সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্ত্রী, সন্তানেরা আমাকে চলে যেতে বলছে। আমি কী বলব।”

লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে সামনে এসেছে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার চেষ্টার গল্প। হাজার হাজার মাইল তাঁরা হেঁটে চলেছেন শুধু বাড়ি ফিরে আসার জন্য, এই সঙ্কটে পরিবারের কাছে থাকার জন্য। ব্যতিক্রম নন ৩৭ বছরের গোবিন্দ দেবনাথও।কিন্তু তা আর হল না। ফলে আগামী ১৪দিন কোয়ারান্টাইন সেন্টারেই গোবিন্দকে থাকতে হবে।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: