Analysis

৪২/০ হলেও বামেদের প্রাসঙ্গিকতা আছে : মানছেন মমতা !

বামেরা প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি গত দুদিন আলোচনায় হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিট , pk জানেন বামেদের অতীত ইতিহাস তাই সতর্ক বামেদের থেকে। বর্তমানে মানতে হল মমতা ব্যানার্জীকে যে সিপিআইএম কে সাথে না নিলে অসন্ন্য বিপদ , শত্রু সংখ্যা যত বাড়বে তত তৃণমূলের বিপদ বাড়বে।

নামে প্রশান্থ কিশোর বাস্তবে ভয় থেকে বামেদের হাত ধরার চেষ্টা শুরু করে দিল তৃণমূল। সূত্র মারফত খবর তৃণমূল গতকাল দলের সাথে ও প্রশাসনের সাথে সারা দিনে মমতার বাম পলিসি নিয়ে বেশ কয়েক বার মিটিং হয়েছে। দলের মন্ত্রীদের মধ্যে ৪ জন সহ অভিষেক এবং কয়েকজন আমলাও ছিলেন। প্রশান্থ কিশোরের প্রথম চিন্তা করেছেন শত্রুতা কমিয়ে একমুখী যুদ্ধ করা যায়। তার ফলে থ্রেট কমিয়ে আনার কৌশল অবলম্বন করার পথে তৃণমূল। শোনা যাচ্ছে আব্দুল মান্নান ও আরো দুই কংগ্রেস নেতা গোপনে মমতা ব্যানার্জির সাথে বৈঠক করেছেন কয়েক দিন আগে , এই নিয়ে বিধান ভবনে অনেকের ম্যান ভঞ্জন হয়েছে। মান্নান-মমতা গোপন যোগ নিয়ে এর আগেও অনেকে কংগ্রেসের নেতার মুখ খুলেছে।

কি কারণে বাম যোগে মমতা ?
প্রাথমিক ভাবে যা বেরিয়ে আসছে তাতে :
১) বিজেপি কে আটকাতে গেলে বিধানসভা ও রাস্তার আন্দোলনে বিজেপি বিরোধী হাওয়া তোলা
২) যে সব বাম কর্মী সমর্থক বিজেপিতে গেছে তাদের কে বার্তা দেওয়া যে , বাম এখনো প্রাসঙ্গিক।
৩) বামেদের চলে যাওয়া কর্মীদের অনেকের অভিজ্ঞতা পুলিশ সম্পর্কে ভালো নয় , তাই তৃণমূল সিপিআইএম যদি সম্পর্ক ভালো হয় তাহলে সিপিআইএম কর্মীরা ভরসা বাড়বে দলে , বিজেপিতে যাবার ভাবনা কমবে। তার ফলে নিরুপায় হয়ে অনেক ভালো নেতা কর্মীরা যারা বামেদের থেকে গেছে বিজেপিতে অথচ আদর্শে মেলে নি , তারাও ফিরতে পারে। কমবে বিজেপি ভরসা।
৪) ত্রিফলা , সারদা, নারদা থেকে কাটমানি মমতার ভরসা কমেছে জনতার। দুর্নীতিতে মমতা ভাইপো থেকে বাইদের বিপুল সম্পত্তি। পঞ্চায়েত সদস্য থেকে মন্ত্রী বেড়েছে সম্পত্তির পরিমান কয়েকশো গুন্ , এটাই অস্ত্র পেয়েছে বিজেপির , তার ওপর ভর করে সারা রাজ্যে মানুষ কে তৃণমূল বিরোধী করেছে , মমতা বিরোধী ভাবনা তৈরী করেতে সফল হয়েছে অনেকটাই , তাই ১৮ টি সাংসদ পেয়েছে বিজেপি।মমতার ভাবনায় এ ক্ষেত্রে বামেরা সাবধানী , প্রতিবাদ করলেও রাজনৈতিক আদর্শ মেনে নিয়ম তান্ত্রিক, তার ফলে মানুষ কে প্রভাবিত করতে পারেনি। সেই জন্যে ৪২/০ লোকসভায় ভরাডুবি বামেদের। সেক্ষেত্রে বামেদেড় ভরসা করতে পারেন মমতা , কারণ বামে বিপদ থাকলেও বড় বিপদ বিজেপি।
৫) মমতার বামেতে ভরসা কারণ , বামেরা ধর্ম, জাতপাতের ভিত্তিতে রাজনীতি করেন না , সেক্ষেত্রে বামেরাও বিজেপির বড় শত্রু তাই বামেদের নিয়ে বৈতরণী পার হবার ভাবনা ২০২১ ।
৫) ওপর দিকে বামেদের অনেক নেতাই খুব একটা চ্যালেঞ্জ নিতে দেখা যায়নি ২০১১ থেকে ২০১৯, তাই মমতার ভরসায় বামেরাই নির্ভর যোগ্য সাথী।
৬) বাম-কংগ্রেস জোট না হলেও সমঝোতা আছে খুব গভীরে , সুজন মান্নান এখন রাজ্য রাজনীতিতে একটা জুটি , ওপর দিকে রাহুল সীতারাম সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তার ফলে মমতা বিপদে ও ধর্ম নিরপেক্ষতার নিরিখে তালিকায় বামেরা অনেকের থেকে এগিয়ে।
৭) ২০২০ তে রাজ্যে পৌরনির্বাচন , অনেক ক্ষেত্রে বিজেপি কে আটকাতে বাম- কংগ্রেস-তৃণমূল তলার স্তরে সমঝোতা করে বিজেপি কে আটকে দেবার চিন্তাও আছে মমতার।
৮) রাজ্যে সারদা নারদা কাটমানি ছাড়াও অনেক দুর্নীতিতে কোর্টে সফল হলেও সেটা রাস্তার আন্দোলনে সফর নয়, বা বলা যায় সফল হতে যে চ্যালেঞ্জ নিতে হয় সেটা নেয় নি বামেরা, তার ফলে ভোটার বাক্সে পরিবর্তন আসেনি রক্ত খোঁড় অব্যাহত। সেক্ষেতে খুবজোর টিভি তে বিতর্কের যুদ্ধের জয় হতে পারে , কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন করতে পারবেনা বামেরা।
৯) ২০১১ থেকে ২০১৮ মমতার ভাবনায় সিপিআইএম বড় শত্রু থাকলেও তা এখন পরিবর্তন হয়েছে , তাই আগ্রাসী মনোভাব থেকে অনেক পরিবর্তন করেছেন দলের ভাবনাকে। এই ক্ষেত্রে গৌতম দেবের কথা ফলে যেতে পারে ” মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় কে বাঁচতে আলিমুদ্দিনে যেতে হতে পারে ” সেই কথা প্রমানের পথে।
১০) যদি ২০২০ পৌর নির্বাচনে বিজেপির ভালো ফল হয় তাহলে ২০২১ এ ত্রয়ীর জোট হতে পারে , সেক্ষেত্রে মমতা -সূর্য্য- সৌমেন কে এক মঞ্চে দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা।

মুকুল রায় দলে নেই , দল ভাঙছে প্রতি মুহূর্তে , দুর্নীতির দায়ে গা ভর্তি বদনাম , অভিষেকের ভাবমূর্তি ভালো নয় , যাদের ভরসা করেছিলেন তারা অনেকেই বিজেপিতে পা বাড়িয়ে আছেন , এর ওপরে সিবিআই , তার ওপর ধর্মের ভোট ভাগ – এতো করেও ঠাকুর বাড়ি বাঁচাতে পারেন নি। ২০২০ আগেই হয়তো ৫০% মিউনিসিপালিটি চলে যাবে বিজেপিতে। অনেকেই নারদা থেকে সারদায় জেলে যেতে হতে পারে। এই অবস্থায় বামেদের পেতে মরিয়া মমতা।

শেষ পাঁচ দিনে তৃণমূলের বাম আক্রমণ কমেছে। টিভিতে বাম তৃণমূলের স্বর এক জায়গায় ,বাম নেতাদের বাড়তে পারে অনেকের নিরাপত্তা। বিধায়করা কাজের সুযোগ পেতে পারেন , পঞ্চায়েত থেকে পৌরসভা সবাই পেতে পারেন সরকারি সহযোগিতা।নন্দী গ্রাম থেকে জেলায় জেলায় সিপিআইএম ঘর ছাড়া কর্মীরা ঘরে ফিরতে পারে , যারা ২০১১ পর থেকে গ্রাম ছাড়া ছিল। শোনা যাচ্ছে বাম নেতাদের একদল মুচকি হাসি হাসছেন গুরুত্ব বাড়ায় , আবার সোনা যাচ্ছে কেউ কেউ অতিরিক্ত উৎসাহিত হয়ে যাচ্ছে বিপক্ষের ডাকে আড়ালে আবডালে। সব শেষে বলাযায় হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিট এর জল্পনা যদি সত্যি হয় তাহলে আসবে বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তন।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: