Big Story

ধর্মীয় আচারের ওপর ভিত্তি করে শারদ সম্মান দেবে বিজেপি : কলকাতার ক্লাব কর্তারা অবাক

এও কি সম্ভব। এই প্রশ্নে থমকে যাচ্ছে অনেকেই , দিদি কে বলো পর বিজেপির দূর্গা পুজোর পুরস্কার নতুন মোড়কে জনসংযোগের উপায়।

এ পুরস্কারের মানদণ্ড কি যার ? প্রাথমিক ভাবে যা জানা যাচ্ছে যে চারটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে যে ক্লাবের নিষ্ঠা বেশি, সেই পাবে পুরস্কার!
১) সেরা পূজা অর্চনা
২) পুজোর সেরা ভোগ
৩) পুজোর সেরা আরতি
৪) পুজোর সেরা সিঁদুর খেলা

মূলত বলা যায় যে দুর্গাপুজোয় কমিটি ধরতে এবার প্রতিযোগিতা চালু বিজেপির। শেষের ৩০ বছরে কোন রাজনৈতিক দল এভাবে শারদ সম্মান প্রদান করবে ইটা কেওই ভাবেন নি। তার ওপর আচারবিধির ওপর পুজোর শ্রেষ্ঠত্ব বিচার এর আগে রাজ্যে কখনও হয়নি। আর এই ধর্মীয় ব্যাপারটা মাথায় রেখে বিজেপির এই উদ্যোগ।

দুর্গাপুজোকেই ‘হাতিয়ার’ করতে মরিয়া বিজেপি , সংগঠন মজবুত করতে আর বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনসংযোগ বাড়াতে এর থেকে আর ভালো কিছু নেই বলে মনে করেন ।গেরুয়া শিবির আর সেই লক্ষ্যেই এবার পুজোয় প্রতিযোগিতা চালু করল ।

সাধারণত এশিয়ান পয়েন্টস শারদ সম্মান প্রথম দূর্গা পুজোর সম্মান দেওয়া শুরু করে। এছাড়াও এর পর মানুষ গুরুত্ব দেয় আনুন্দবাজার শারদ অর্ঘ , প্রতিদিন পূজা পারফেক্ট ,CESC ট্রু স্প্রিট , যুবকল্যাণ শারদ সম্মান , বিশ্ববাংলা , পুরশ্রী , ইম্প্যাক্ট ,টাইমস অফ ইন্ডিয়া সরোদ সম্মান , সঙ্গে কয়েকটি টিভি চ্যানেল প্রধানত পুরস্কার।

আগে মূলত থানা স্তরে সারা রাজ্যে শৃঙ্খলা ও জন সংযোগের জন্য পুরস্কার চালু ছিল বামফ্রন্ট আমল থেকেই। তবে বাম আমলে কোন নেতা বা নেত্রী বা দল হিসাবে এসবের ধরে কাছে পর্যন্ত যান নি , পৌরপ্রতিনিধি বা বিধায়করা মণ্ডপে গেলেও পুজো কমিটি বা কোন পদে থাকা এসবের মধ্যে ছিল না কোন দিনই। তৃণমূল ২০০১ এর পর এই পুজোর মধ্যে যুক্ত হবার পরিমান তা বেড়ে যায়।

২০১১ সালের সরকারে আসার ক্ষেত্রে এই পুজো ক্লাব গুলোর ভূমিকা ছিল। তার ফলে পুজোর ক্লাবে যা ইনভেস্টমেন্ট ছিল তার পুরো ডিভিডেন্ট পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস। এই খেলার পুরানো খেলোয়াড় এখন বিজেপিতে তাই পুরোনো খেলা নতুন মোড়কে এবার বিজেপি সেই ময়দানে।

চিরাচরিত মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমার, পরিবেশ , ভাবনা , বা প্রতিমা শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে নয়, এই প্রতিযোগিতা হবে ধর্মীয় পুজোর আচার-রেওয়াজের ওপর। অর্থাত্ কোন ক্লাব কমিটি কতটা নিষ্ঠাভরে রীতি ও সমস্ত আচার মেনে পুজো করছে, তার ওপরই হবে প্রতিযোগিতা। আর যে ক্লাব বা কমিটি জিতবে তাদের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। তবে কী পুরস্কার, তা এখনও স্পষ্ট নয়।তার ফলে পুরস্কারের জিগির তুলে ধর্মীয় বিভাজনের রাস্তা নিচ্ছে বিজেপি।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে দলের সংগঠনে আরও জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । দুর্গাপুজোকে হাতিয়ার করেই দলীয় সংগঠন পাকাপোক্ত করার কৌশল নিয়েছেন তাঁরা।মুকুল রায় বিজেপিনেতা এনিয়ে ইতিমধ্যেই দলীয় নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন । বিশেষ সূত্রে তিনি বলেছেন, “এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪২ হাজার বারোয়ারি পুজো হয়। তার মধ্যে হাজার দুয়েক পুজো তৃণমূলের হাতে।” বাকি পুজো কমিটিগুলিতে সাহায্যের হাত বাড়িতে দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে সেভাবে সফল হতে পারেনি পুজো ক্লাব গুলোর মধ্যে যুক্ত হবার বেপারে , আরো বলা যায় পুজো উদ্বোধনের ক্ষেত্রেও সেভাবে কলকাতার বড় পুজোর ক্লাব গুলো থেকে সেভাবে ডাকেন নি বিজেপি এখনও। এই ক্ষেত্রে নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নয় ক্লাব কর্মকর্তারা বলেন যদি বড় কোন পুরস্কারের সাথে দিল্লির হেভি ওয়েট মন্ত্রী কেও আসেন তবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে পাল্লা দিতে পারবেন ও তা গ্রহণ যোগ্য বলে মনে করেন।তার কারণ অধিকাংশ বড় পুরস্কারের মধ্যে করপোরেট আছে আর আছে মিডিয়া তার সঙ্গে দুটো এনজিও আছে , আর সবই ছোট যাদের গ্রহণ যোগ্যতা নেই। ফলে রাজ্য বিজেপি যদি তলে তলে এই ধরণের কাউকে নিয়ে আসে তাহলে পুরস্কারের জন্য গ্রহণ যোগ্যতা পেতেই পারেন। তবে বিজেপি সরাসরি না করে এভাবেই ঢুকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন দিলীপ ঘোষ সামন্তন বসুর অনুগামী এক নেতা।
অতয়েব এই পুজো আগামীর ২০২০ পৌর নির্বাচনের জমি দখলের লড়াই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

২০১১ পর রাজ্য সরকার সরকারিভাবে বিশ্ববাংলা পুরস্কার চালু করেন। তাতে ট্রফির সাথে আর্থিক উপহার আছে কিন্তু বিজেপির এই ক্ষেত্রে কি আর্থিক পুরস্কার থাকবে কিনা , এই প্রতিযোগিতা কি জেলা জুড়ে হবে না রাজ্য জুড়ে না পাড়ায় পাড়ায় । কি ভাবে বিচার হবে এই প্রতিযোগিতার। করা করবেন এই প্রতিযোগিতার বিচার। সব মিলিয়ে অনেক জিজ্ঞাসা যা এখনো পরিষ্কার নয়।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: