West Bengal

হরিদেবপুরের বেসরকারি ব্লাইন্ড স্কুলে খাদ্যসঙ্কট, সাহায্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী

২ দিনের মধ্যে স্কুলে পৌঁছল হাজার কেজি চাল, আড়াইশো কেজি ডাল, ১০০ কেজি আলু, ২ টিন তেল সহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

প্রেরনা দত্তঃ লকডাউন শুরু হওয়ার পরে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন দেশবাসী। আর তার ফলে বহু পরিবারেই মজুত খাবারের ভাঁড়ারে টান পড়েছে। অনেক পরিবারেই প্রয়োজনীয় খাদ্য নেই। দোকান বন্ধ থাকায় খাদ্য কিনতে পারছেন না। আবার অনেকের হাতে খাদ্য কেনার মতো প্রয়োজনীয় অর্থও নেই।ঠিক তেমনই সমস্যায় পরেছে হরিদেবপুরের একটি বেসরকারি ব্লাইন্ড স্কুল। লকডাউনের মধ্যেই খাদ্যসঙ্কট দেখা দিয়েছিল সেখানে। বিষয়টি চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। আবেদন পাওয়ার পরই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

করোনা সংক্রমণ থামাতে ২১ দিনের লকডাউন দিয়েছে ভারত। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির যোগান শৃঙ্খল। বন্ধ রয়েছে বাজার, পরিবহণ ব্যবস্থাও থেমে আছে। এরইমুখে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, হয়ত লকডাউনের প্রকোপে খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারত। ভারতে এখন এক রাজ্যের পণ্য অন্য রাজ্যে পাঠানো বন্ধ রয়েছে। তবে এখনো রাজ্যগুলোতে খাদ্যপণ্যের যথেষ্ট যোগান শৃঙ্খল ভেঙ্গে পড়ায় মানুষ কৃত্রিম খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে।এই ব্লাইন্ড স্কুলে রাজ্য ও ভিন রাজ্যের শতাধিক পড়ুয়া পড়াশোনা করে। লকডাউন এর ফলে অনেক পড়ুয়াকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেননি অভিভাবকরা। কিন্তু এতজনের খাদ্য সামগ্রী মজুদ ছিল না। সেই কারণে 9 এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে আবেদন জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। 11 তারিখ কলকাতার মেয়র এর তত্ত্বাবধানে স্কুলে পৌঁছে যায় খাবার। ২ দিনের মধ্যে স্কুলে পৌঁছল হাজার কেজি চাল, আড়াইশো কেজি ডাল, ১০০ কেজি আলু, ২ টিন তেল সহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

বিশ্বজুড়ে করোনার কামড় শুরু হওয়ার পরে যেভাবে এক লহমায় সবকিছু বদলে গিয়েছে, তাতে অনেকেই কিছুটা রসিকতার সুরে বলছেন, ‘হয় করোনার ছোবলে মরতে হবে, নাহলে অনাহারে।কিন্তু প্রশাসন এর তরফে চেষ্টা চালানো হচ্ছে । মেয়র জানান প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে ডাল চাল আলু তেল কি কি দরকার জেনে তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আবার যখন শেষ হয়ে আসবে তখন যেন অবশ্যই উনাকে জানানো হয় । মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেবার পরই যেমন সাড়া মিলেছে তাতে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ চিন্তা দূর হয়েছে আর অভুক্ত থাকতে হবেনা পড়ুয়াদের তবে পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে সেই বিষয়ে গোটা রাজ্যের মতন স্কুলের পড়ুয়ারাও দিন গুনছেন।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: