Culture

অন্যভাবে হবে মা-এর আগমন, ডাক দেওয়া হলো নতুন আভাসের

সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসছেন পশে, সফল হবে মা-এর আগমন

দেবশ্রী কয়াল : ঢাকে কাঠি পরে গিয়েছে, কাশবনে ফুল ফুটে গেছে। চারিদিকে পূজা পূজা ভাব ইতিমধ্যেই। করোনা ভয় থাকলেও মানুষ সেই ভয়কে জয় করে সুরক্ষাকে সাথে নিয়ে প্রস্তুত হয়ে পড়েছেন পুজোর আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার জন্যে। প্রত্যেক বছরের মতো কিন্তু এবারে মা-এর আগমন হবেনা। একটু অন্যরকম ভাবেই মা-কে জানানো হবে আগমন। আর এ বছর মা কে আগমন জানানোর জন্য সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার্ক কি করছে ? সেই হারির খবর জানার জন্যই আমরা টেলিফোনিক মাধ্যমে পৌঁছে যাই দেবাশিস সরকারের কাছে। যে কোনো পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হয় তার থিম। আর এবছরের থিম কি জানতে চাইলে দেবাশিস বাবু বলেন, তাদের এবছরের পুজোর থিম ‘আভাস’ অর্থ্যাৎ কোনো কিছুকে আগমন জানানো।

পুজোতে মানুষের কাছে পৌঁছনো খুব জরুরি, তাই এবছর কিভাবে তারা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন,’করোনা সংক্রমণের জেরে বাইরে গিয়ে প্রচার কিন্তু সেভাবে সম্ভব নয়। তাই এমন সোশ্যাল মিডিয়াই ভরসা, আর সেখানেই আমাদের প্রচার চলছে জোর কদমে। প্রত্যেক বছর আমরা ১০০ টা হোর্ডিং লাগাই শহরের নানা প্রান্তে। কিন্তু এই বছর আর্থিক সঙ্কটের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। এই বছর আমাদের পুজোর বাজেট রাখা হয়েছে মাত্র ১০ লক্ষ। একটা পুজোতে অনেকের অনুদান থাকে। বিশেষ অনুদান থাকে শিল্পীদের।’ কিন্তু লোকাল ট্রেন তো বন্ধ। অনেকেই নিজেদের বাড়িতে আটকে রয়েছেন।সেক্ষেত্রে সন্তোষপুর ত্রিকোনপার্ক কি ব্যবস্থা নিয়েছেন তা প্রশ্ন করলে, দেবাশিস বাবু বলেন,’ আমরা শিল্পীদের গাড়ি করে নিয়ে এসেছি, এছাড়া অনেকেই নিজেরা লড়ি ভাড়া করে চলে এসেছেন। তবে এটা বলব, ট্রেন খোলা নেই বলে যে অসুবিধার আমাদের এখানে সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তার থেকে বেশি সমস্যা হবে লোকাল ট্রেন চালু হয়ে গেলে।’

পুজোতে বাজেট কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আর এবছর বাজেট কিভাবে সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার সার্বজনীন সামলাচ্ছে, কিভাবে তার পরিকল্পনা করছে তা প্রশ্ন করলে দেবাশিস বাবু বলেন,’এবছর আমাদের সব থেকে বেশি চিন্তা ছিল চাঁদা নিয়ে। এই চাঁদা আমাদের প্রত্যেক বছর ৩লক্ষ টাকা হয়। কিন্তু এবছর আমরা ভেবেছিলাম খুব জোড় ১ লক্ষ হয়তো উঠতে পারে। মানুষ টাকা দেবে কিনা, সেই নিয়ে সন্দেহ ছিল, তবে মদের চমকে দিয়ে এলাকার সকল মানুষ চাঁদা দিতে এগিয়ে এসেছে। এই বছরের পুজোর চাঁদা তুলতে গিয়ে এক আন্তরিকতার ছোঁয়া পাওয়া গেছে। অন্যান্য বছরে কিন্তু এমন দৃশ্য দেখা যায়না। এই বছর সবকিছুই যেন নতুন ও স্মরণীয়। স্পন্সরও আসছে। বাজেট সব দিক থেকে সামলে যাচ্ছে। এছাড়া ক্লাবের মেম্বারসও একটা ডোনেশন দেবেন যে যার নিজেদের সাধ্যমতো। একটি মিটিংয়ের মাধ্যমেই তা ঠিক করা হবে।’

পুজোয় পার্কিং কিন্তু বেশ সমস্যার, তার জেরে বহু দর্শনার্থীই কিন্তু দিকভ্রান্ত হন। তাই এই সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব কলকাতা পুলিশের ওপর সম্পূর্ণভাবে দিয়ে দিয়েছে সন্তোষপুর ত্রিকোনপার্ক। পূজা চলাকালীন মানুষের সুরক্ষা কিভাবে সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার্ক দেবে, তা প্রশ্ন করা হলে দেবাশিস বাবু বলেন,’এই নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে প্যান্ডেল হবে খোলামেলা। অঞ্জলি দেবেন ১০ জন করে। মানুষ যাতে রাস্তা থেকেও পুজো দেখতে পারেন তেমনটাই চেষ্টা করা হবে। এছাড়া স্যানিটাইজেশনের সকল ব্যবস্থাতো থাকবেই।তবে সন্ধি পুজোটা নিয়ে আমরা এখনও ভীষণভাবে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছি। আশা করছি মাকে দেখতে এসে কেউই করোনা আক্রান্ত হবেন না। সবাই সুস্থ থাকবেন।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: