Culture

বোসপুকুর শীতলামন্দির : কাঠে এবার প্রাণ দেন

বছর বছর যা ভেতর থেকে থেকে আশ্বাস দেয়, এবার তা প্রকাশের পালা

পল্লবী কুন্ডু : ঢাকে কাঠি লাগলো বলে, অপেক্ষায় আর মাত্র কিছুদিন তবে করোনাসুরের তান্ডবে নাজেহাল শহরবাসী। দুর্গতিনাশিনী মা কি এই অসুরকেও দমন করতে পারবেন ? প্রশ্ন জাগছে সন্তানের মনে। দশভুজা তিনি, দশ হাত দিয়ে আগলে রাখবেন তার সন্তানদের। এই ভরসা নিয়েই শুরু হচ্ছে ২০২০ দুর্গোৎসব। আর পুজোর এই প্রাককালে আমরা ওপিনিয়ন টাইমস পৌঁছে গেছিলাম দক্ষিণের একেবারে শুরু অন্যতম সেরা পুজো বোসপুকুর শীতলা মন্দির এবং সেই পুজোর অন্যতম প্রধান কর্ণধার কাজল সরকার। আমরা ওনাকে আমাদের সঙ্গে পেয়েছিলাম। তিনি হলেন একাধারে বোসপুকুর শীতলা মন্দিরের কর্ণধার অন্যদিকে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের প্রেসিডেন্ট।

এর আগেও ওনাকে আমরা আমাদের স্টুডিওতে পেয়েছিলাম তখনি বিস্তর ভাবে জেনেছিলাম সম্পূর্ণ তথ্য। তবে এবার গতানুগতিক প্রশ্নের বাইরে বেড়িয়ে ওনাকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করা হয়, বোসপুকুর শীতলা মন্দির এতো বড়ো পুজো, ছোট পুজো ক্লাব গুলিকে কিভাবে সাহায্য করেন ? তিনি জানান,’ বিগত তিন চার বছর ধরে ছোট ক্লাব গুলিকে ৫ হাজার করে ডোনেশন দিয়ে এসেছে। কাউকে পাঁচ হাজার আবার কাউকে দশ হাজার তবে এবছরে যা সিচুয়েশন অন্যান্য বছরের মতো এবছরেও দিতে পারবো বলে মনে হয়না, যদি মার্কেটিং ওঠে তবে অবশ্যই ছোট পুজোকে সাহায্য করবো। সবই ডিপেন্ড করছে মার্কেটিংটা ওঠার ওপরে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি কি সুরক্ষা নেওয়া হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,’আমরা তো ডেকোরেটর্সদেড় জন্য ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করেছি, আমরা তাদের জন্য এখনো কিছু ভাবিনি, তারা সেভাবে যোগাযোগও কেউ করে ওঠেনি যারা স্টল করবে।’ পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে, যদি তারা আসে এবং যদি ক্লাবের অর্থনৈতিক সাচ্ছন্দ ফিরে পাই তবে অবশ্যই সাহায্য করবো। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কতজন মানুষ বাইরের স্টল খাওয়া দাওয়া করবেন সে বিষয় নিয়েও তিনি বেশ সন্দিহান।

অন্যদিকে বাজেট নিয়ে প্রশ্ন করা হয় যে, এই বছরের বাজেট ঠিক কতটা ? আগের বছর কত ছিল এবং এই বছর কত ? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,’অন্যান্য বছর যা থাকে এই বছর তার ওয়ান থার্ড করেছি বাজেট তাকে, এই বছর আপাতত ১৫,১৬ লক্ষ টাকা তবে সেভাবে বলা সম্ভব নয় স্পনসর আসলে বাড়তেও পারে। গতবছর যেখানে ৫২ লক্ষ টাকা ছিল বাজেট। এবার তাকে প্রশ্ন করা হয় পুজোর থিম নিয়ে এবং এই বছর কত তম বর্ষ, প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,’এইবছর আমাদের ৭১ তম বর্ষ।’ আর থিম নিয়ে বলেন,’এবছর সম্পূর্ণ কাঠের তৈরী একটা মণ্ডপ তৈরী করছি, যেগুলো কাঠ মানে বাটাম বলি আমরা। যা অন্যান্য বছর প্যান্ডেলের ভেতরে থাকে এ বছর তা বাইরে বেরিয়ে আসছে এবং তার যা সৌন্দর্য্য কিভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় সেটাই চেষ্টা করছি। এছাড়াও কিছু রয়েছে যেগুলি ক্রমশ প্রকাশ্য।’

তাহলে এবার দেখা যাক কলকাতা দূর্গা পুজোর অন্যতম নিদর্শন বোসপুকুর শীতলা মন্দির কতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে দর্শনার্থীদের চোখে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: