Culture

প্রাচীন ঐতিহ্য ও ইতিহাস, বর্তমান আধুনিক শহরের ধোপাকলোনি

ধোবিদের অনুদান আমাদের জীবন-এ ঠিক কতটা আসুন জেনে নিই খিদিরপুর পল্লী শারদীয়া কমিটির প্যান্ডেলে

নিবেদিতা মিত্র : খিদিরপুর পল্লী শারদীয়া কমিটির সদস্য বুলান চক্রবর্তীর সাথে কথা বলে জানা গেলো তাদের এই বছরের থিম হলো নিজেদের ব্যবহৃত বিশেষ কিছু পরিধেয় আমাদের খুব প্রিয় হয়ে থাকে কারণ সেই সকল বস্ত্রের সঙ্গে মিশে থাকে আমাদের জীবনের বিশেষ কিছু স্মৃতি এবং আবেগ। আমরা ভালোবাসি সেই বিশেষ স্মৃতিকে যত্ন করতে আগলে রাখতে।

কলকাতা তখন ব্রিটিশ অধীন ভারতের রাজধানী, স্বভাবতই সরকারের সমস্ত গুরত্বপূর্ণ অফিসগুলিও ছিল এই শহরেই। সরকারি সাহেবি বাবুদের কেত ও জামা কাপড়ের সৌষ্টবতা এবং সর্বোপরি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্যে একটি ধোপাকলোনি প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল অবশ্যম্ভাবীভাবেই। সেই উদ্দেশ্যেই ১৯০২ সালের ১৫ই আগস্ট বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে ২২ একর জমিতে অধুনা ধোপাকলোনি টি নির্মাণ করেছিল ব্রিটিশ সরকার। শতাব্দী প্রাচীন এই ধোবিখানার সঙ্গে পরবর্তীকালে শুকনো কাপড় ইস্ত্রি করার শেড তৈরি করা হয় সংলগ্নস্থানে। প্রসঙ্গত বলে রাখি বাংলায় ইস্ত্রি করা জামাকাপড় পরার চল শুরু করেন পর্তুগিজরা এবং তাদের ভাষা থেকেই “ইস্ত্রি” শব্দটির বাংলায় প্রচলন।

সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হলো বর্তমানে যারা এই ধোপাকলোনির কাজের সঙ্গে যুক্ত তারা বংশ পরম্পরায় এখনো কাজ করে চলেছেন নিজের ইতিহ্য বজায় রেখে। এক সময় বিহার, গুজরাট, রাজস্থান থেকেই মূলত এসেছিলেন এই ধোবিরা। ঠিক যেমন ভাবে আমাদের প্রিয় শারদীয়া উৎসবে আধুনিকতার সঙ্গে ইতিহ্যর মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে, ঠিক সেভাবেই প্রাচীন ইতিহ্য এবং ইতিহাসের সঙ্গে এক সুতোর টানে মিশে গেছে বর্তমান আধুনিক শহরের এই ধোপাকলোনি।

আর পুজো মানেই তো নতুন জামা কাপড়, এবং আমাদের সেই প্রিয় জামাকাপড়ের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যাদের হাতে দিয়ে দিতে পারি নিশ্চিন্তে সেই ধোপা ধোপানীরা ঠিক কেমন আছেন এই মুহূর্তে… কলকাতার হেরিটেজ সাইটের তালিকায় থাকা এই ধোবিখানা ঠিক কেমন আছে, কেমনই বা তাদের জীবনধারা তাদের কর্মধারা! সেসব জানতে হলে তাদের খোঁজ পেতে হলে প্রতিবারের মতোই এবার পুজোয়ও অবশ্যই আসতে হবে এই পুজো প্যান্ডেলে যেখানে আর এক ধোপাকলোনি আপনাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষারত।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: