Culture

মানুষের জন্যে, মানুষের পাশে থেকে মাটির সাথে সন্তোষপুর লেকপল্লী

করোনা আতঙ্ককে হার মানিয়েছে মানুষ, পুজোতে তারা আসবেই

দেবশ্রী কয়াল : ঘন্টা কিন্তু বেজে গেছে। শীঘ্রই হতে চলেছে গজে মা-এর আগমন। দূর্গা পুজোর মরশুমে মানুষের মানুষের মনের মধ্যে যেন ধীরে ধীরে আলোর বেনু বেজে উঠেছে। সাথে করোনা আতঙ্ক-তো রয়েছেই।কিন্তু তার মাঝেও সব সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পুজোতে আনন্দ করার জন্য মানুষ তৈরী।এবছরের পুজো অন্যবারের তুলনায় আলাদা। আর এই ভিন্ন বছরে পুজোর প্রস্তুতি কেমন সন্তোষপুর লেক পল্লীর তা জানতে আমরা ওপিনিয়ন টাইমস পৌঁছে যাই সোমনাথ দাসের কাছে।

সোমনাথবাবুর কাছে পুজোর থিম জানতে চাইলে তিনি বলেন,’এই আম্ফান, কোভিডে মানুষের সামাজিক জীবন ভীষণ ভাবে ব্যাহত হয়েছে। আর্থিকগত দিক থেকে মানসিক দিক থেকে। মানুষের মধ্যে যার জেরে ভয়ের বাসা বেঁধেছে। আমরাতো সবাই জানি বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন। কিন্তু এই বছর যেভাবে কোনো পুজো হয়নি করোনা সংক্রমণের কারণে তৈরী হয়েছে অসন্তোষ পরিবেশের। যারা প্রতিমা গড়েন তাদের এখন ভয়াবহ অবস্থা। অনেকেই এবছর কাজ পাননি। কোনো রোজগার নেই তাদের। সে এক করুন অবস্থা। তাই এই কুমোর পাড়ার সমস্যাকে আমরা এবছর থিমের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি। আমাদের থিমের নাম “মাটির কান্না”। আর আমাদের এবছরের পুজো আগের বছর ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই হয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির খাতিরেই আমরা নিজেদের থিম-এর সিদ্ধান্ত নিই।’

আম্ফান ও করোনা পরিস্থিতিতে মানুষকে সন্তোষপুর লেক পল্লী কতটা সাহায্য করেছে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে সোমনাথ বাবু বলেন,’ আমরা এই সময় চার-পাঁচ দফায় হাজার হাজার মানুষকে কাঁচামাল, ত্রিপল, চাল-ডাল দিয়েছি। এমনও জায়গায় দিতে গিয়েছিলাম যারা ৬ দিন শুধু জল খেয়ে কাটিয়েছিলেন। আর তাছাড়া শুধু পুজোর সময় নয়, সারা বছর ধরেই আমরা মানুষের জন্য কাজ করি, তাদের পাশে থাকি। বলতে গেলে এই সন্তোষপুর লেক পল্লী কিন্তু সমাজসেবার জন্যই মানুষের মধ্যে সবথেকে বেশি পরিচিতি লাভ পায়। এছাড়া আমার মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ডে টাকা দিয়েছি। ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের তরফেও টাকা দিয়েছি।’

এরপর তিনি বলেন,’পুজো একটি আবেগের জায়গা, তাই আমরা চাইবো যারা ইচ্ছুক তারা সকলেই আমাদের পূজা মণ্ডপে আসুক। কাউকে জোড় করবো না। কারণ গোষ্ঠী সংক্রমণ হলে তার দায়িত্ব কিন্তু ক্লাব নিতে পারবেনা। তবে কারোর কিছু হলে সেই কাজে সাহায্য করার জন্য সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে সন্তোসপুর লেক পল্লী। আমরা সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি আর থাকবো।আমাদের পুজোর সব কাজ ক্লাবের সদস্যরা মিলেই করেন। বাইরের কারোর বা কোনো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সাহায্য আমাদের লাগেনা। আর সুরক্ষার ক্ষেত্রে যে যে গাইডলাইন্স ফোরাম ফর দুর্গোৎসব থেকে ঠিক করা হয়েছে সেই সব কিছুই আমরা মনে চলবো।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: