Big Story

ভুয়ো মেডিকেল ক্লিনিক নিয়ে ফেসবুক পোস্ট করে বিপদ! বিহারে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হলো বিহারের সাংবাদিককে

প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের নাকের ডগায় কিকরে এরকম পরিণতি হলো সাংবাদিকের

মধুরিমা সেনগুপ্ত: আবারো সত্যি ফাঁস করে দেওয়ার খেসারত দিতে হলো এক সাংবাদিককে। নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর সাংবাদিকের পুড়ে যাওয়া শরীর মিললো রাস্তার ধারে। বিহারের সাংবাদিক বুদ্ধিনাথ ঝা সম্প্রতি ভুয়ো মেডিকেল ক্লিনিক নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। পোস্টে তিনি বিহারের কয়েকটি ক্লিনিকের নাম করে সেগুলি ভুয়ো বলে দাবি করেন। প্রশাসনের তরফে তৎপরতার সাথে ওই ক্লিনিকগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি ক্লিনিক বন্ধও করে দেওয়া হয় এবং সাথে এই কাণ্ডে জড়িতদের জরিমানাও করা হয়। তার পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। ফেসবুক পোস্টটির পর থেকেই বুদ্ধিনাথের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রস্তাব আসে। কিন্তু তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হুমকিও আসতে শুরু করে।

পেশায় সাংবাদিক বুদ্ধিনাথ ঝা-এর বাড়ি বিহারের মধুবনীতে। ফেসবুকে পোস্ট করার ২ দিন পরেই নিখোঁজ হন তিনি। বেনিয়াপট্টির কাছে থাকা একটি সিসিটিভির ফুটেজে এদিন ধরা পরে বুদ্ধিনাথ যেদিন নিখোঁজ হন সেদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার রাত ন’টা নাগাদ তিনি বাড়ির সামনে একটি গলিতে দাঁড়িয়ে একাধিকবার ফোন করেন। বুদ্ধিনাথ-এর বাড়ি থেকে কিছু দূরে তাঁর একটি কাজ করার ঘর আছে। ফুটেজে তাকে সেখানেও দেখা গেছে। এরপর রাত ৯টা বেজে ৫৮ মিনিটে তাঁকে গলায় একটি হলুদ রঙের স্কার্ফ পরে বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুসারে, প্রায় ১০ টা ৫ মিনিট থেকে ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ তিনি একটি স্থানীয় বাজারে বুদ্ধিনাথকে দেখেন। তারপর থেকে তাঁর আর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরেরদিন সকালে বুদ্ধিনাথকে কোথাও না দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকেরা তাকে তার কাজের জায়গায় খুঁজতে যান। কিন্তু সেখানেও তার দেখা মেলেনা। কিন্তু ঘরে তার ল্যাপটপ চলছিল, এমনকি মোটর সাইকেলটিও বাড়িতে ছিল। পরিবারের লোকেরা সেই দেখে প্রথমে মনে করেছিলেন বুদ্ধিনাথ হয়তো কাছেপিঠে কোথাও গিয়েছেন। কিন্তু অনেকক্ষন পেরিয়ে যাওয়ায় কোনো হদিশ না পেয়ে বুদ্ধিনাথের পরিবারের লোক স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। উল্লেখ্য, স্থানীয় থানাটি বুদ্ধিনাথের বাড়ি থেকে মাত্র ৪০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

মিসিং ডায়েরি করার পর বুদ্ধিনাথের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করা হয় এবং দেখা যায় বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ তার ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে দেখা যায় মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন ছিল বেনিয়াপুকুর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বেথুনে। কিন্তু সেই স্থানে পুলিশ কোনও সূত্র পায়নি। শুক্রবার বুদ্ধিনাথের ভাই বিজে বিকাশের কাছে ফোন আসে যে বেথুনে জাতীয় সড়কের ওপর একটি দগ্ধ দেহ পড়ে রয়েছে। তৎক্ষণাৎ বুদ্ধিনাথের কিছু আত্মীয় এবং প্রশাসন সেখানে ছুটে যান এবং দগ্ধ দেহের আঙুলে একটি আংটি, পায়ে একটি চিহ্ন এবং গলায় একটি চেন দেখে তারা বুদ্ধনাথের মৃতদেহ শনাক্ত করে। পরিবারের সম্মতি নিয়ে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করেছে পুলিশ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: