West Bengal

কার টাকা নিচ্ছে কে, চলছে শুধুই দুর্নীতি

আম্ফানের জেরে যাঁরা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত তাঁরা টাকা না পেয়ে, তা পাচ্ছে দোতলা বাড়ির লোক

দেবশ্রী কয়াল : আম্ফানের জেরে এখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে অনেক গ্রাম। মাথার উপরে নেই কোনো ছাদ, নেই খাবার টুকুও, অপেক্ষায় হাতে হচ্ছে ত্রাণের জন্য। কিন্তু তাঁরা কতজন সাহায্য পাচ্ছে ? এদিকে যাদের সবকিছুই আছে এমন কিছু জন তুলছে এর ফায়দা। নিচ্ছে ভুল সুযোগ। এদিকে দোতলা বাড়ি অক্ষত। তবুও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সেই বাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা তোলার অভিযোগ উঠল দাদপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যের বিরুদ্ধে।

তবে এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেও অবশ্য কোনোরকম হেলদোল নেই তাঁর। বরং জোর গলাতেই তিনি দাবি করছেন দুর্গাপুর রোডে দূর্ঘটনায় আহত গ্রামের এক মেধাবী ছেলের চিকিত্‍সার জন্যই এভাবে অসৎ উপায়ে টাকা নিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতেও কাউকে বাঁচাতে প্রয়োজনে এমন অসত্‍ পথ আবারও নেবেন বলে জানান এই তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য রূপম ভগত।

তবে বিষয়টি জানাজানি হতেই বিরোধীদের চাপে এখন ওই টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়ার জন্য পোলবার বিডিওর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। দাদপুর পঞ্চায়েতের হাঁড়াল গ্রামের সদস্য রূপম ভগত তাঁর বাড়ির দুজনের নাম আর তাঁর দুই বিশ্বস্ত প্রতিবেশীর নাম দিয়ে মোট চারটি বাড়ির ছবি দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাত্‍ করেছেন বলে ওঠে অভিযোগ। আর শুধু তিনি একা নন, বাড়ির ভুয়ো ছবি দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাত্‍ করেছেন এমন আরও ২০ জনের নাম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বিজেপি নেতা স্বপন পাল বলেন, ”গোটা রাজ্যেই এভাবে সরকারি টাকা এপার ওপার হয়ে যাচ্ছে। আর তা দেখার কেউ নেই। আমফানে কারা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের নামের তালিকা তৈরির ভার ব্লক থেকে দেওয়া হয় পঞ্চায়েতকে। তাতেই শুরু হয় লাগামছাড়া দুর্নীতি। সবাই নিজের লোককে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। অথচ আসল যাঁদের সত্যিই সেই টাকার দরকার তাঁদের দেখার কেউ নেই।”

দাদপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য রূপম ভগতের দোতলা বাড়ির কোনও ক্ষয় ক্ষতি হয়নি ঘূর্ণিঝড়ে। ভুয়ো ছবি দেখিয়ে তিনি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। আর সেই খবর জানাজানি হতেই সরব হয়েছে বিজেপি। প্রথমে রূপম ভগত জানান, গ্রামের একটি মেধাবী ছাত্র দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন। তার চিকিত্‍সার জন্য অনেক টাকা দরকার। কোনও উপায় না দেখেই এভাবে টাকা নিয়েছেন। তবে পরে বিরোধী দলের চাপের মুখে পড়ে বিডিওর কাছে টাকা ফেরত দিতে চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।

পোলবা দাদপুরের বিডিও সন্তু দাস বলেন, ”এই বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পুরো বিষয়টাই খতিয়ে দেখছি।” অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন ওই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তিনি দাবি করেছেন সরকারি নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির সময় তাড়াহুড়ো ছিল। সেই সময় সবার অলক্ষে এই অসৎ ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই সদস্য। যদি আরও কেউ এইভাবে টাকা আত্মসাত্‍ করে থাকেন তবে তারাও যাতে টাকা ফেরত দেয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও। তাই যাঁরা এইভাবে অসৎ উপায়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে তাঁদের সাবধান করা হচ্ছে।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: