Big Story

“তোমায় হৃদমাঝারে রাখিবো, ছেড়ে দেবোনা ” (নারায়ণ দেবনাথ ১৯২৫-২০২২)

বাঙালির আবেগের আর এক নাম "নারায়ণ দেবনাথ "

তিয়াসা মিত্র : সাহস করে লিখতে শুরু করলাম, জানিনা এই লেখার মধ্যে দিয়ে নিজের আবেগ কতটা ব্যাক্ত করতে পারবো, তবুও আজ যদি না লিখি তাহলে বংগো সন্তান হওয়া সার্থক হবে না। “আমার প্রাণ ভরা শ্রদ্ধা আপনাকে শপে দিলাম ” নারায়ণ দেবনাথ” “

rest in peace sir

যতই বলা হোক না কেন ওনার ব্যাপারে সব কথাই কম পরে যাবে। আমাদের সকল বাঙালিদের ছোটবেলা থেকে একটু জ্ঞান হতেই শুকতারা ম্যাগাজিনে যে আলাদা এক নিজেদের জগৎ খুঁজে পাইনি বললে দোষ করা হবে। আর সব থেকে বেশি, যার জন্য এত স্মরণীয় সেই ম্যাগাজিন বা সাদা কালো কার্টুন গুলো ” নারায়ণ দেবনাথ”- বাঙালির শৈশবের সাথে ওতপ্রোত ভাবে এই ভদ্রলোক। নন্টে ফন্টে-এর দুষ্টুমি থেকে আরাম্ভ করে বাঁটুলের সাহসিকতার কিস-এ আমরা সব বাঙালি মজে থাকতাম। কেউ কি আমরা ভেবে দেখেছিলাম ওই বাঁটুল টি গ্রেট -এর বয়স কত? নন্টে ফন্টে সারা জীবন স্কুলেই কেন পরে যাচ্ছে ? তাদের আকার, পোশাকের কখনো পরিবর্তন কেন হয় না ? ভাবিনি। কারণ আমাদের মস্তিষ্কের সেই সময় রোমাঞ্চ, আনন্দে উজ্জীবিত স্নাযু গুলো আমাদের সেই কথা মাথাতে আনেনি। সবের মূল স্রষ্টা ” নারায়ণ দেবনাথ” ,

ছোটবেলাতে পড়াশোনার ভার যাতে একটু কাটানো যায় সেই ফন্দি করে আমরা প্রত্যেক বাঙালি ডুব দিতাম তার রচিত কমিক্সের দুনিয়াতে। ১৯৬২ সালে ‘হাঁদা-ভোঁদা’, ১৯৬৫-তে ‘বাঁটুল দি গ্রেট’, ১৯৬৯-এ ‘নন্টে-ফন্টে’ বাঙালির শৈশব এবং কৈশোরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কমিক স্ট্রিপ। সেই সঙ্গে এরাই হল দমচাপা বড়বেলা থেকে পালিয়ে যাওয়ার শুঁড়িপথ। বাঙালির সুপারহিরো ছিল না। কিন্তু কোথাও একটা বীরভাব ছাইচাপা আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলত। বাঁটুল দি গ্রেট সেটারই মূর্ত রূপ। তাকে শুধু কমিক্সের রাজা বললে হবে না তিনি একাধারে ছিলেন গ্রন্থ রচয়িতাও। দেব সাহিত্য কুটির থেকে প্রকাশিত পূজাবার্ষিকীতে বিমল দাস, তুষার কান্তি চট্টোপাধ্যায়, শৈল চক্রবর্তীর পাশাপাশি বিরাজ করতেন নারায়ণ দেবনাথ। তার লেখার মাত্রা ছিল সবার থেকে আলাদা , বিমল দাস শৈল চক্রবর্তী যেখানে হাসির গল্পের জন্য কার্টুনধর্মী ছবি আঁকতেন, নারায়ণ দেবনাথের ভাগে পড়ত রহস্য-রোমাঞ্চ বা ভয়ের গল্প। সেই গল্প গুলুকে বাস্তবিক ধাঁচে ফেলে একেবারে পেরেক পতার সেই সময়ের বইপোকারদের মাথাতে গেথে দিতেন তিনি। বহু বছর পার করার গল্পের নাম মনে না পড়লেও সেই সব গ্রন্থের ছবি দেখে চিনে নিতে পারতেন তাদের ছোটবেলার ফেলে আসা দুনিয়া।

কমিক স্ট্রিপ হিসেবে বাঙালি পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক টিনটিন, অ্যাস্টারিক্স। বলীয়ান নায়ক হিসেবে দাপিয়ে বেড়িয়েছে ব্যাটম্যান, সুপারম্যান। কিন্তু তাতে বাঁটুল, হাঁদা-ভোঁদা বা নন্টে-ফন্টের কিছু এসে যায়নি। এখনও কলকাতা বইমেলায় হ্যারি পটার কেনার পর বাঁটুলের কাট-আউট লাগানো স্টলে লাইন দিতে দেখা যায় অগণিত খুদেকে। সঙ্গে তাদের মা বাবারাও খুঁজে নেয়ে তাদেরও শিশুকাল। টিনটিন সহজেই বন্ধুত্ব করে নেয় নন্টে বা ভোঁদার সঙ্গে। বাঁটুলকে তার ব্যাটমোবাইলে নিয়ে ঘোরে ব্যাটম্যান। কোথাও কোনও বিরোধ নেই। সহজ একটা অবস্থান। এমনটা বোধ হয় বাংলাতেই সম্ভব এবং তা সম্ভব করেতুলতে আরো সাহায্য করে ” নারায়ণ দেবনাথ “

তিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তার সৃষ্টি সবই থেকে যাবে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের বুক সেলফের এক স্থান একুয়ার করে। আমাদের শৈশবের আনন্দ গুলো পাওয়ার ভেতর বিশাল একটি স্থান জুড়ে শুধুই “বাটুল দি গ্রেট” , ” নন্টে ফন্টে ” , ” হাদা ভোঁদা ” – ” তুমি যেখানেই থেকো ভালো থেকো এবং পর জনমে আবার আমাদের শৈশব ভালো করতে ফিরে এসো। এই এক ঘে জীবনে তোমার অনবদ্দ সৃষ্টি আমরা পেতে চাই বাড়ে বার” তবে বাস্তবিক হবে তিনি জীবিততার নিজ সৃষ্টির মাঝে। এবং আজীবন থাকবেন।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: