EnvironmentNation

মহামারী থেকে বন্যা পরিস্থিতি, চরম সঙ্কটে আসাম

করোনা থেকে রেহাই পেলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে আর পেরে উঠছেনা অসামবাসী।

পল্লবী কুন্ডু : প্রতিবছরই এই সময়টা নিয়ে ঘুম ওরে গোটা আসামবাসীর। আর এবারেও বেহাল দশার মধ্যে দিয়েই দিন কাটছে মানুষ গুলোর। করোনা থেকে রেহাই পেলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে আর পেরে উঠছেনা। প্রকৃতির এরূপ ভয়ঙ্কর রূপ দেখে যেন প্রতিমুহূর্তে শিউরে উঠছে সকলে। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে সর্বানন্দ সোনওয়ালের সাথে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ও বন্যা পরিস্থিতি, দু’টি বিষয় নিয়েই তিনি জানতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই বিপদের সময় তিনি অসমের মানুষের পাশে আছেন। রাজ্যের পরিস্থিতির ওপরে কেন্দ্রীয় সরকার নজর রাখছে।

কেন্দ্রীয় জল কমিশন থেকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে অসমে ব্রহ্মপুত্র নদে জলস্তর আরও বাড়তে পারে। জল বাড়ার আশঙ্কা জানানোর আগে থেকেই পরিস্থিতি খারাপ ছিল। সপ্তা দুয়েক আগে ব্রহ্মপুত্র দু’কুল ছাপিয়ে ২৫০০ গ্রামকে প্লাবিত করে।আর সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে গোয়ালপাড়া জেলা। এই মুহূর্তে বিপদের মুখে প্রায় ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার মানুষ। এছাড়াও বরপেটায় ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ও মরিগাঁওতে ৩ লক্ষ ৪১ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।সব মিলিয়ে রাজ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭০ লক্ষ মানুষ।

অন্যদিকে বন্যপ্রাণীদের জীবনও সঙ্কটের মুখে।অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেছেন, “একদিকে করোনা সংক্রমণ অন্যদিকে বন্যা। দু’টি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে অসমকে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। বহু মানুষ ও গবাদি পশুকে বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হয়েছে।” কাজিরাঙা অভয়ারণ্য চলে গিয়েছে প্রায় জলের তলায়। জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৯টি গণ্ডারের।বন্যায় অসমের ৩৩ টি জেলার মধ্যে ২৪ টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।জল কমিশন থেকে বলা হয়েছে, ধানসিঁড়ি, জিয়া ভারালি, কোপিলি, বেকি, কুশিয়ারা এবং সংকোশ নদীর জলও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।সবে মিলিয়ে বিপদ ঘন্টা এখনো বাজছে আসামের আকাশে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: