Entertainment

আর্থিক সঙ্কটে বসুশ্রী সিনেমা হল, নিজেদের পকেট থেকেই চালাতে হচ্ছে হলের খরচ

একেই হাল খারাপ ছিল, করোনাতে পরিস্থিতি আরও তা সঙ্কটাপন্ন : সৌরভ বোস

দেবশ্রী কয়াল : করোনা সংক্রমণের জেরে বন্ধ সকল সিনেমা হল, তবে কথা শোনা যাচ্ছে হয়ত আগামী মাস থেকে খুলে যাবে সিনেমা হল। কিন্তু অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বসুশ্রী সিনেমা হলের। লকডাউনে হলের পরিস্থিতিতো খারাপ হয়েইছে, এছাড়াও লকডাউনের আগে থেকেই পরিস্থিতি তাদের বেশ খারাপ ছিল। আর এমনটাই জানাচ্ছেন খোদ সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সৌরভ বোস। তিনি আমাদের ওপিনিয়ন টাইমসকে জানালেন লকডাউনে এবং তার আগে তাঁদের অবস্থা কিরূপ।

বসুশ্রী সিনেমা হলটি একটি সিঙ্গেল স্ক্রিন হল, ১৯৪৭ সলে যার প্রতিষ্ঠিতি। যেখানে আগে বহু বিখ্যাত বিখ্যাত সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছিল। অনেক বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও একসময় আসতেন কিন্তু আজ আর সেই হলে তেমন ভিড় হয় না। আর হলেও তা শনি-রবিবারে। সারা সপ্তাহে তেমন মানুষের দেখা যায় না। যখন কোনো ব্লক ব্লাস্টার সিনেমা আসে তখনই কেবল হলে ভিড় হয় বলে জানান সৌরভ বোস। তিনি বলেন, এখন বসুশ্রীর জনপ্রিয়তা কমে গেছে, এখন সিঙ্গেল স্ক্রিনে মানুষ সিনেমা দেখতে যেতে চান না, সবাই এখন মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে সিনেমা দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

সৌরভ বাবু বলেন, এই সিনেমা হলটি তো মূলত একটি পারিবারিক ব্যবসা আমাদের, আমি তৃতীয় জেনারেশন। বর্তমানে যা আর্থিক অবস্থা এবং গত কয়েকবছর ধরে যে পরিস্থিতি চলে আসছে তাতে কিন্তু আমাদের নিজেদের পকেট থেকেই হলের সমস্ত খরচ তুলতে হচ্ছে। হলে ভিড় হোক না হোক, ইলেকট্রিক বিলের সকল খরচ তুলতে হয়। যা কর্পোরেশনের তরফ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ ট্যাক্স বাবদ আসে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতে হল বন্ধ, কিন্তু শ্রমিকদের তো তাদের মাইনে দিতে হবে তাই নিজেদের পকেট থেকেই তাদের এখন টাকা দিতে হচ্ছে। অবশ্য এখন কর্মীচারীদের হাফ বেতন দেওয়া হচ্ছে। তবে এই টাকাও কিন্তু চাকরি করে। হল থেকে তেমন টাকা আসে না। সংসার চালাতে হয় সকলকে চাকুরীজীবি করেই। মাঝে আমরা নানান প্রচেষ্টা চালাই, অনেক ফিল্ম ফেস্টিভাল অনুষ্ঠান করেছি, যা এখনও করে আসছি কিন্তু সেই রূপে আমরা কখনও লাভের মুখ দেখিনি গত কয়েকবছর ধরে।

করোনা পরিস্থিতে সিনেমা হল খুললে বসুশ্রী সিনেমা হল কী কী পদক্ষেপ নেবে দর্শকের সুরক্ষার্থে তা জিজ্ঞাসা করা হলে সৌরভ বাবু জানান, তেমন বেশি লোক হয়ত আমরা আর হলে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবো না। এমনিতেই সরকার থেকে বলা হয়েছে মাত্র ২৫% মানুষ এক সাথে হলে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া এসি চালু রাখা যাবে কী না সেই নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব এখনও রয়েছে। সরকার থেকে স্পষ্টত এখনও কিছু জানানো হয়নি। যেহেতু করোনা সংক্রমণ এসিতে বাড়তে পারে আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া স্যানিটাইজার তো থাকবেই। তবে হ্যাঁ এমনিতেই আমাদের তেমন দর্শক হয়না, সেখানে আরও দর্শক কমিয়ে দিলে হলের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক হয়ে পড়বে।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: