Education Opinion

মুড়ি মিছরির এক দর : মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকের সিদ্ধান্তে অনেক প্রশ্ন ” কেন এই সিদ্ধান্ত ?

মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে জোর সওয়াল সব পক্ষ এক মঞ্চে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাতিল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কোন পথে ?
ক্লাস নাইন এর মার্কশিট ও ক্লাস টেন এর মার্কশিট যা স্কুলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই ভাগ্য নির্ধারণ করবে এবারের মাধ্যমিকের ফল যা ৫০-৫০ শতাংশ হারে ২০২১ এর মাধ্যমিকের মার্কশিট দেওয়া হবে।

রইলো উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে ‘২০১৯-র মাধ্যমিকের ৪টি বিষয়ের সর্বোচ্চ নম্বরের ৪০ শতাংশ, ২০২০-র একাদশের বার্ষিক পরীক্ষার ৬০ শতাংশ নম্বর, সেইসঙ্গে দ্বাদশের প্রজেক্ট-প্র্যাক্টিক্যালের নম্বর যুক্ত করে উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন হবে।

যদি এই সিদ্ধান্তের বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে ‘ মাধ্যমিকের মূল্যায়ন ফর্মুলায় নিম্ন ও মধ্য মেধার পরীক্ষার্থীরা লাভবান হবে কিন্তু উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফলাফল সার্বিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’ তার কারণ নবমের বার্ষিক পরীক্ষায় ” যেটা আদতে বার্ষিক পরীক্ষা নয়; কারণ নিরবিচ্ছিন্ন সার্বিক মূল্যায়নে নবমের প্রথম, দ্বিতীয়, ও তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের মোট প্রাপ্ত নম্বর কে শতাংশের হিসেবে ১০০ নম্বরে পরিবর্তিত করে একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক নম্বর প্রস্তুত করা হয়, আলাদা করে বার্ষিক পরীক্ষা হয় না ” .

একজন পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের যে ৫০% ওয়েটেজ দেওয়া হলো, তার ফলে একজন পরীক্ষার্থীর যে নম্বর গণনায় আসবে তার তুলনায় উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থী তার মাধ্যমিক লিখিত পরীক্ষায় নিজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অনেক বেশি নম্বর পেতে সক্ষম – বিগত বছর গুলির বিভিন্ন তথ্যাবলী তাই জানান দিচ্ছে।সবচেয়ে লজ্জার ১৮ মাস ধরে দশম শ্রেণীর পড়া এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও একটিও মূল্যায়ন, এমনকি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ব্যবস্থাও পর্ষদ করতে পারেনি।

তাই বাধ্য হয়ে ১৮ মাসের সমস্ত প্রস্তুতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে নবমের এমন একটা ফলের ওপর পরীক্ষার্থীকে নির্ভর করতে হচ্ছে যে নির্ভরতা সম্পর্কে পরীক্ষার্থী পূর্বে অবগত ছিল না এবং এখন বাধ্য হয়ে নির্ভর করতে হচ্ছে। এই হীনমন্যতা, এই লজ্জা রাখার জায়গা শিক্ষার্থীর নেই।

কি হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ?
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কাঠিন্য মান মাধ্যমিক স্তরের থেকে বহুগুণে আলাদা। আমাদের রাজ্যে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক দুটি পৃথক বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার প্রতিটি স্তরের বিষয়ের কাঠিন্য, প্রশ্নের প্যাটার্ন, প্রশ্নের মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।তাই একজন দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ার লিখিত লিখিত পরীক্ষা না হওয়ার জন্য যে নম্বরটি মাধ্যমিক এবং একাদশ শ্রেণী থেকে আনা হচ্ছে তার ফলে দ্বাদশ শ্রেণীর সামগ্রিক ফলাফল মারাত্মক বিঘ্নিত হবে।

একাদশ শ্রেণিতে অধিকাংশ পড়ুয়া মাধ্যমিক স্তর থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর যে বিরাট পরিসরের পাঠক্রম নিয়ে অগ্রসর হয়, তার জন্য একাদশে খুব ভালো মানের ফল কোন পড়ুয়াই করে উঠতে পারে না।এখন সেই একাদশের অনুজ্জ্বল ফলের ৬০% এর ভিত্তিতে দ্বাদশ শ্রেণীর একটি শিক্ষাবিজ্ঞান বিরোধী ফল প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যেটা সবচেয়ে হাস্যকর একাদশ শ্রেণীর যে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা গুলো গত বছর অসমাপ্ত ছিল, গণনার সময় সেই বিষয়ের পরীক্ষার নম্বরকে অন্য পদ্ধতির দ্বারা ক্যালকুলেশন করে তার ওয়েটেজ এই বছরের জন্য কার্য্যকর করা হবে।

অর্থাৎ দু’বছর ধরে একজন পরীক্ষার্থী একটা বিষয়ে তার সক্ষমতা সরাসরি লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার কোনো সুযোগ পেল না। একজন পরীক্ষার্থীর কাছে এ লজ্জা সারাজীবন ধরে তাকে হীনমন্যতায় ভোগাবে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর বারংবার অনুরোধেও পরীক্ষর্থীদের মানসিক শান্তির সুযোগ এই প্রস্তাবে প্রতিফলিত হল না।

পাশাপাশি সিবিএসই প্রকাশ্যে এনেছে দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সিবিএসই জানিয়েছে,৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দ্বাদশের ফলপ্রকাশ হবে।দশম-একাদশ ও দ্বাদশের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেওয়া হবে মার্কশিট।সর্বোচ্চ আদালতে সিবিএসই জানিয়েছে,দ্বাদশের মার্কশিটের ৩০ শতাংশ নম্বর আসবে দশম শ্রেণির রেজাল্টের ভিত্তিতে।সেক্ষেত্রে লিখিত মূল পাঁচটির মধ্যে, সেরা তিনটি বিষয়ের নম্বর নেওয়া হবে।মার্কশিটে ৩০ শতাংশ নম্বর আসবে একাদশের বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট থেকে।বাকি ৪০ শতাংশ, দ্বাদশ শ্রেণির পারফরম্যান্স থেকে নেওয়া হবে।এক্ষেত্রে প্রি বোর্ড পরীক্ষা, মিড টার্ম ও স্কুলের ইউনিট টেস্টের ভিত্তিতে এই ৪০ শতাংশ নম্বর মার্কশিটে যুক্ত হবে।

দেশজুড়ে স্কুলগুলিকে সিবিএসই জানিয়েছিল, প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা অনলাইনে এবং বাড়ি থেকে নিতে হবে। বকেয়া অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং প্র্যাক্টিকালের নম্বর ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডকে পাঠাতে হবে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টে সিবিএসই জানিয়েছে, স্কুলের পাঠানো প্র্যাক্টিক্যাল এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের নম্বর অপরিবর্তিত থাকবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: