Nation

৮ জানুয়ারী থেকে ব্রিটেন-ভারত বিমান চালু, যাত্রীদের নয়া নির্দেশ

যাত্রীদের জন্যে রয়েছে কিছু কড়া বিধি, বিলেত ফেরত সব যাত্রীকেই থাকতে হবে কোয়ারেন্টাইনে

পৃথা কাঞ্জিলাল : কোরোনা র নয়া স্ট্রেনের জেরে বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল ভারত ব্রিটেন উড়ান, তবে আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ভারত-ব্রিটেন উড়ান চালু করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। তবে দেশের চারটি শহরে উড়ান শুরু হলেও বাদ পড়েছে কলকাতা। একটি টুইট করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হবে। তবে ২৩ জানুয়ারি অবধি সীমিত সংখ্যায় চলাচল হবে, প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১৫টি উড়ান। কেবল দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ থেকেই মিলবে পরিষেবা। এবিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা শীঘ্রই জারি করা হবে Directorate General of Civil Aviation (DGCA)-এর তরফে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক সূত্রে খবর, ব্রিটেন-ভারত বিমান যাত্রীদের প্রত্যেকেই আরটিপিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ব্রিটেনে করোনার নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণের পরিস্থিতি ক্রমাগত আশঙ্কাজনক হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রিটেনের সঙ্গে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করে দেয় ভারত এবং পরে সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ৭ জানুয়ারি অবধি করা হয়। এখনও ব্রিটেনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও ভারত জানিয়েছে যে আপাতত বিমানের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরদীপ টুইটারে লিখেছেন, ‘আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দু’দেশের (ভারত এবং ব্রিটেন) মধ্যে সপ্তাহে ১৫টি করে উড়ান চলাচল করবে। কেবলমাত্র দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ থেকেই বিমান যাতায়াত করবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশিকা জারি করা হবে’।

সেই সঙ্গে তিনি আরো জানান, পরবর্তী পর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রিত উড়ান চালু করা হতে পারে। কিন্তু ব্রিটেনের ভারতীয় পড়ুয়াদের বিভিন্ন সংগঠন জরুরি পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার আবেদন জানায় নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে।আগামিদিনে কী সিদ্ধান্ত হবে দুই দেশের বিমান পরিষেবা নিয়ে তা ডিজিসিএ জানিয়ে দেবে বলে এদিন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিষেবা মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন। এদিকে এসওপি ৩০ জানুয়ারি অবধি কার্যকর থাকবে বলে খবর। বিলেত ফেরত যাত্রীদের জন্য বেশকিছু কড়া নিয়মবিধি জারি করা হয়েছে। যেমন-
বিমানে ওঠার আগে আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে করা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট জমা করতে হবে যাত্রীকে।
সেই রিপোর্ট বিমানযাত্রার দিন থেকে ৭২ ঘণ্টার বেশি পুরনো হওয়া চলবে না।
বিমানবন্দরে নেমে নিজ খরচায় আরটি-পিসিআর (RTPCR) পরীক্ষা করাতে হবে।
বিলেত ফেরত যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক।
বিমানে ওঠার আগের ১৪ দিনের ভ্রমণের ইতিহাস জানাতে হবে।
বিমানে ওঠার আগে সেলফ ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম ( Self Declaration Form) পূরণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে জমা করতে হবে।
ভারতে পৌঁছনোর পর বিমানবন্দরের আরটি পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এলে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে যেতে হবে।
তাঁর রিপোর্ট জেনেমিক স্টাডির জন্য পাঠানো হবে।
যতদিন না পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, ততদিন আইসোলেশনেই থাকতে হবে ওই যাত্রীকে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: