West Bengal

মনমর্জি মতো বিল পাঠাচ্ছে CESC, শেষমেশ বিক্ষোভের পথে মানুষ

নানান ব্যাখ্যা দিচ্ছে সংস্থা, কিন্তু সন্তুষ্ট না কেউই

দেবশ্রী কয়াল : লকডাউনের জেরে বহু মানুষের বহু ক্ষতি হয়, কত মানুষের চাকরি ছেড়ে যায়। কত কারোর মাইনে গেছে কমে। কিন্তু CESC-র বিল তো কমার বদলে বেড়েছে হু হু করে। যার জেরে সবার মাথায় পড়েছে হাত। অত্যাধিক বিলে সবাই হয়েছে হতবাক, বাদ যাননি খোদ বিদ্যুৎ মন্ত্রীও। এই চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মানুষ যখন নাজেহাল হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবারেই বিদ্যুত্‍মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বেসরকারি বিদ্যুত্‍ সংস্থার দুই কর্তা। সেখানে বিল বাড়ার কারন দেখিয়ে তাঁরা নিজেদের তরফের ব্যাখ্যা দেন। এরপর আজ শনিবার সেই একই কারন দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে সেই একই কথা জানিয়েছে সংস্থা। কিন্তু তাঁদের সেই ব্যাখ্যাতে সন্তুষ্ট নয় রাজ্য সরকার।

আর এরই জেরে এবার CESC’কে অ্যাডভাইজরি পাঠাতে চলেছে রাজ্য, এবং জানা যাচ্ছে তাতে যথেষ্ট কড়া হুঁশিয়ারি থাকবে। যাতে স্পষ্টত জানিয়ে দেওয়া হবে যে, মিটার রাইডিং এ যে ভুল ত্রুটি গুলি রয়েছে সেটা দ্রুত ঠিক করতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে কোনও গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিল বাবদ টাকা নেওয়া যাবে না। এবং যদি কোনও গ্রাহক মাত্রাতিরিক্ত বিল মেটাতে না পারেন, তাহলে কিন্তু কোনোভাবেই তাঁর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

গত কয়েকমাস ধরে লকডাউনের জেরে অর্থনীতি একেবারে বেহাল। এরপর যখন মাত্রাতিরিক্ত ইলেক্ট্রিকের বিল আসে তখনই কিন্তু মানুষ ক্ষোভে ভুগতে থাকেন। CESC’র অফিস গুলিতে গিয়ে মানুষ দেখান বিক্ষোভ। এইভাবে ভুলভাল রিডিং করে এমন মাত্রাতিরিক্ত বিল মেনে নিচ্ছেন না কেউই। আর এর থেকে কিন্তু রেহাই পাননি খোদ বিদ্যুত্‍মন্ত্রী থেকে অভিনেতারাও।

শুক্রবার বিদ্যুৎ মন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসে CESC দাবি করে, করোনা সংক্রমণের জেরে মার্চ থেকে লকডাউন জারি করা হয়। তার ফলে বেশ কয়েকমাস বন্ধ ছিল মিটার রিডিং নেওয়া। স্বাভাবিকভাবেই এপ্রিল ও মে মাসে অনুমানের ভিত্তিতে বাত্‍সরিক গড়ে বিদ্যুত্‍ ব্যবহারের নিরিখে বিল পাঠানো হয়েছে। তবে তা বিদ্যুত্‍ ব্যবহারের তুলনায় অনেক কম। জুন থেকে ফের মিটার রিডিং শুরু হয়েছে। এবং তা বাড়তি ইউনিট বিলে যুক্ত হয়েছে। তার উপর আবার গ্রীষ্মকালে বিদ্যুত্‍ খরচ হয় তুলনামূলক বেশি। তাই অতিরিক্ত বিল দেখে বিরক্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা।

কিন্তু সাধারণ মানুষের মন্তব্য কিন্তু আলাদা। তাঁরা জানান, এই প্রথমবার গ্রীষ্মকাল আসেনি। এর আগেও বহুবার এসেছে। সেই সময় একইরকম বৈদ্যুতিন সামগ্রী ব্যবহার করেও এত বিল আসেনি। তাহলে চলতি বছর এত টাকা বিল কেন? তাই দফায় দফায় CESC’র বিভিন্ন দপ্তরে ভিড় জমিয়ে বিক্ষোভও দেখান গ্রাহকরা। কারন এই পরিস্থিতিতে যদি মানুষের উপর এইভাবে বিলের ভার চাপিয়ে দেওয়া হয় কেবল অনুমানের জেরে, তাহলে তা মানুষ কখনও মানতে রাজি নন। আর এই বিষয়ে যদি ঠিকঠাক দফারফা না হয় তাহলে পরিস্থিতি যে আরও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে তা আশঙ্কা করাই যাচ্ছে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: