West Bengal

ভয়ানক অগ্নিকান্ডে পুড়েছে সর্বস্ব, অসহায় বস্তিবাসীদের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তড়িঘড়ি সেই গৃহহারা বস্তিবাসীদের ঘর বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্য প্রশাসক তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

পল্লবী কুন্ডু : গতকাল সন্ধ্যে ঘড়ির কাটায় ঠিক সাতটা বেজে তিরিশ মিনিট, দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল বাগবাজার(Baghbazar) ব্রিজের কাছে বস্তি। হাওয়ার জেরে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় সময় লাগেনি। ফলে অল্প সময়য়ের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এক ঘন্টার মধ্যেই বস্তির সম্পূর্ণ অংশ পুড়ে যায়, সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ দমকল কর্মীরা এসে পৌঁছলে ২৭টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

প্রাণে রক্ষে পেলেও অসহায় মানুষগুলো হারিয়েছে তাদের সর্বস্ব। অবশ্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তড়িঘড়ি সেই গৃহহারা বস্তিবাসীদের ঘর বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্য প্রশাসক তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম(Firhad Hakim)। পাশাপাশি তিনি আরো জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকেই শুরু হবে নতুন ঘর তৈরির কাজ। এই ঘটনার কথা জানতে পেরে গতকাল রাতেই সাগরমেলা থেকে কলকাতায় রওনা দেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেখানে এসে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দেন যে, ‘মুখ‌্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুনর্বাসনের ব‌্যবস্থা করা হবে। আপাতত অস্থায়ী শিবিরে খাওয়া-থাকার ব‌্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।’

তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য রাতের জন্য চারটি কমিউনিটি হল খুলে দেওয়া হয়েছে। বাগবাজার উইমেন্স কলেজে অস্থায়ী শিবিরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে রাতেই। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর মন্তব্য, ‘আমি গঙ্গাসাগরে রয়েছি। কিন্তু খবর পেয়েই দফতরের ডিজির সঙ্গে কথা হয়েছে। দমকল কর্মীরা আগুন দ্রুত নেভাতে সবধরণের চেষ্টা করেছে বেশ কয়েজন দমকল কর্মী আহত হয়েছেন।’

আজ, বৃহস্পতিবার বেলা বারোটা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কাল যতক্ষণ আগুন না নিভেছে, ততক্ষণ আমি এলাকায় যোগাযোগ রেখেছিলাম। আগুন নেভার পরেই প্রশাসকরা এলাকা ছেড়েছেন ও আমি আমার অন্য কাজ করতে গেছি। দমকল বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক- সকলে মিলে কাজ করেছেন কাল। আগুন নেভানোর পরে আমাদের কাজ ছিল আপনাদের কোনও একটা জায়গায় ঠিক করে থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করার। আমরা সেটাও করেছি। আজ-কাল গোটা এলাকা পরিষ্কার হবে। তার পরে কলকাতা পুরসভা সব আগের মতো করে দেবে। চিন্তার কারণ নেই।’ তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত পরিবারে চাল, ডাল, আলু, দুধ, বিস্কুট পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছে দিতে। সেই সঙ্গে শাড়ি, শার্টপ্যান্ট, চাদর, কম্বল- এসবও যেন পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, ‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি মেয়রের ওপর, পুলিশের ওপর দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি, সবটা করে দেবে। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আমরা আছি।’ ভিড়ের মধ্যে থেকে প্রশ্ন ওঠে, ‘দিদি রান্না করব কীসে?’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘যতক্ষণ সব না হচ্ছে আমরাই খাওয়াব। তার আগে অবধি সবাই বাগবাজার উইমেন্স কলেজে থাকুন।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: