Analysis

সেনা মৃত্যুর ক্ষোভে চিনা পণ্য বয়কটের পথে রাজনৈতিক দল !

রাজ্য জুড়ে বিজেপি পথে নামল চিনা আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে

পল্লবী কুন্ডু : লাদাখ সংঘর্ধের রেশ পড়েছে গোটা রাষ্ট্রে। ১৯৭৫ সালের পর চিনের এরূপ আগ্রাসী মনোভাবের যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুর ভারত। আর এবার গোটা রাষ্ট্রের বুকে তার জেরেই শুরু হয়ে গেলো রাজনৈতিক বিক্ষোভ, জ্বলছে আগুন। সীমান্ত রেখায় সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চরম প্রতিবাদে সামিল রাজনৈতিক দল। রাজ্য জুড়ে বিজেপি পথে নামল চিনা আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে। চিনে তৈরি পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হল বিজেপির বিক্ষোভ থেকে।

বিজেপি রাজনৈতিক দলের যুব মোর্চাকে সামনে রেখেই বুধবার বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। তবে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সৌমিত্র খান গড়িয়া শ্মশান-কাণ্ডে থানায় দাবিপত্র দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যায় শহরে কেন্দ্রীয় মিছিলের সামনে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। যোগাযোগ ভবনের সামনে এসে চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কুশপুতুল জ্বালিয়ে তাদের বিক্ষোভের আগুন জ্বালায়।তাদের হাতের প্লাকার্ডেও যার ছবি ছিল স্পষ্ট। এদিন লকেট বলেন, ”আগ্রাসনের প্রতিবাদেই আমরা চিনে তৈরি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছি।”

দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেস এবং কলকাতা জেলা ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে এ দিন সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিট-মল্লিকবাজার মোড়ে নিহত জওয়ানদের স্মৃতিতর্পণ করা হয়েছে। আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, অর্ঘ্য গণেরা সেখানে লাদাখের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশদ বিবৃতি দাবি করেছেন। মোদী সরকারের ‘ব্যর্থ বিদেশনীতি’র প্রতিবাদে ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি সৌরভ প্রসাদের নেতৃত্বে কলেজ স্ট্রিটে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন। তবে এখানেই বিক্ষোভের শেষ হয়নি। কংগ্রেস ও তাদের নানা শাখা সংগঠন রাস্তায় নামল ভারতের ‘ব্যর্থ বিদেশনীতি’র প্রতিবাদ জানাতে ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জবাব চাইতে। বিরোধীপক্ষ এমতাবস্তায় প্রশ্ন তুলছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যবিধি নিয়ে। তবে সেই প্রশ্নের উত্তরে সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ”এই ভারত আর ১৯৬২ সালের ভারত যে এক নয়, সেটা চিন মঙ্গলবারই বুঝে গিয়েছে! আরও ভাল করে বুঝে যাবে!”

কিন্তু এই মুহূর্তে যে বিষয় টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তা হলো, এখন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ নাগরিক সকলের হাতেই যে চৈনিক স্মার্ট ফোন ঘুরছে তাকেও বয়কট করতে প্রস্তুত তো ? এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে এখনো কোনো চূড়ান্ত মত পোষণ করেন নি কোনো রাজনৈতিক দলই।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: