Health

স্কুল,কলেজ খুলে দেওয়া দরকার, সংক্রমণ হলেই তৈরি হবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ : এর প্রমান কোথায় ?

এইমসের একদল চিকিত্‍সক বলছেন লকডাউনের বদলে স্কুল, কলেজে খুলে দেওয়া দরকার। সংক্রমণ হলেই নাকি তৈরি হবে 'হার্ড ইমিউনিটি'। আর তাতেই হারানো যাবে করোনাভাইরাসকে।

পল্লবী কুন্ডু : করোনা সংক্রমণ রুখতে গোটা বিশ্বই মেনে চলছে এক প্রকার কঠিন বিধি-নিষেধ। সেই নিষেধ এড়ানোর দুঃসাহস কারোর নেই। ঠিক যেমন লক্ষণ, সীতা মাতার সুরক্ষার জন্য যে রেখা টেনে দিয়েছিলেন সেই রেখা। আর এবার সেই বিধি-নিষেধের রেখা পেরোলেই অপেক্ষা করছে রাবন করোনা। তবে এই প্রশ্নটিও বারংবার উঠছে যে, এই ভাইরাসের কাছে হার মেনে কতদিনই বা ঘরে বসে থাকবো। তাই অগত্যা সমস্ত বাঁধা-বিপত্তি কাটিয়ে রোজের সাধারণ ছন্দে ফিরতেই হবে। এমনটাই চান সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গবেষক, চিকিৎসক সকলেই। তাই এবার সেই পথেই হাঁটার চেষ্টায় এইমসের একদল চিকিত্‍সক।

তাঁদের দাবি, এখনই লকডাউনের বদলে স্কুল, কলেজে খুলে দেওয়া দরকার। সংক্রমণ হলেই নাকি তৈরি হবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’। আর তাতেই হারানো যাবে করোনাভাইরাসকে। একদিকে সরকার যেখানে সংক্রমণ রুখতে বারংবার দফায় দফায় লকডাউনের কথা ঘোষণা করছে সেখানেই এই চিকিৎসকেরা তাদের গবেষণার ফল স্বরূপ দাবি করছে, হার্ড ইমিউনিটির যা সংক্রমণের মাধ্যমে ভাইরাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলবে।
এইমস-এর সেন্টার অব কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক সঞ্জয়কুমার রাইয়ের দাবি, ‘এটা আমরা কেউ জানি না কবে এই মারণ ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে এবং তা আদৌ কাজ করবে কিনা সেটাও জানা নেই। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণই বিকল্প পথ। কারণ, হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করার দু’টিই উপায় রয়েছে। প্রথমটি ভ্যাকসিন আর দ্বিতীয়টি সংক্রমণের মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা।’ গবেষক দলের অপর দুই প্রতিনিধি সেন্টার অব কমিউনিটি মেডিসিনের প্রাক্তন প্রধান চন্দ্রকান্ত এস পাণ্ডব এবং হিল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্বদীপ শ্রীবাস্তবের দাবিও এক। এই বিষয় নিয়ে সকলেই যে মত পোষণ করছেন তা হল, হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করা ছাড়া করোনা থেকে বাঁচার বিকল্প কোনও পথ নেই।

তবে এই হার্ড ইমিউনিটি আসলে কি ? ডাক্তার বি.ডি মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলে,’আসিমটোমেটিক পজেটিভ কোভিড লক্ষ লক্ষ লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে সারা বিশ্বে, সেই লোকগুলো যখন কোভিডে এফেক্টেড হবেনা ফলে সিম্পটমস হবেনা কোভিড ও ডাই ডাউন করবে ততক্ষনে তার মধ্যে যে এন্টিবডিটা তৈরী হবে ” that is hard antibody”, at the same time the T-cell will remember তার ব্রেন টাকে কাজে লাগাবে যে এ এসেছে এবার যুদ্ধ করো। সেটা যখন তৈরী হয় সেটাই হার্ড ইমিউনিটি।’ এর সাথে সাথেই ডাক্তার বি.ডি মুখোপাধ্যায়ের কাছে আরো একটি প্রশ্ন রাখা হয়। তা হলো, এইমসের চিকিৎসকেরা যা বলছেন যে এই মুহূর্তে স্কুল,কলেজ আর বন্ধ না রেখে তা খুলে দেওয়া উচিত। এর ফলে তাদের শরীরে গঠিত হবে এই হার্ড ইমিউনিটি। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে স্কুল,কলেজ পড়ুয়াদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কি সঠিক ? এর উত্তরে তিনি বলেন,’কোনটা ঠিক কোনটা ভুল যে পন্ডিতরা বলছেন তারাও জানেনা, আমিও জানিনা। কোনটা ঠিক কোনটা ভুল এখনো পর্যন্ত কোথাও প্রমাণিত হয়নি যে এটা করলে এটা হবে। কি করে বলছে আমি জানিনা কিন্তু who is going to take the risk, কোনো parents কি চাইবে এই সময় পাঠাতে’. তিনি বলছেন যে, যেখানে উপসর্গহীন ভাবে এত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে সেখানে অভিভাবকেরাই বা কিভাবে ঝুঁকি নেবেন তাদের বাচ্চাদের জন্য।তিনি বলেন,’তো naturally এরকম হটাৎ ছেড়ে দিলেই যে ঠিক হবে তা নয়, আমরা তো basically indiscipline জাত ভারতীয়রা, আমাদের মধ্যে অশিক্ষা-কুশিক্ষায় ভর্তি হয়ে গেছে। শিক্ষার কোনো বালাই নেই। সেই জন্যই করোনা লোকেদের ধরে ধরে মারছে। so called শিক্ষিত মানুষ, উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষ কিন্তু তাদের কাজে কর্মে অশিক্ষা ফুটে বেরোচ্ছে।’ তিনি বলছেন, যতদিননা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজে থেকে সচেতনতা না আসবে ততদিন এর থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে অফিস, কারখানা, ব্যবসা ইত্যাদি সমস্ত কিছুতেই কোথাও সম্পূর্ণ ছাড় আবার কোথাও আংশিক ছাড় মিলেছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি সম্পূর্ণই লকডাউন। পড়ুয়াদের চলছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু স্কুল, কলেজে গিয়ে যে ক্লাস করা বা করানো হতো তার অর্ধশতাংশও সম্ভব হয়না অনলাইনে। এরফলে একাধারে যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে তেমনি ঘরে বসে বাড়ছে এক ঘেয়েমিও। তাই যদি সত্যিই স্কুল,কলেজ খুললে সমাজের একটা বড় সংখ্যার মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরী সম্ভব হয় তবে তা সব ক্ষেত্রের জন্যই ভালো ফল এনে দিতে পারে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: