West Bengal

করোনায় মৃত্যু ৫ মাসের শিশুর, সঠিক সময়ে পায়নি চিকিৎসা !

এই প্রথম করোনায় মৃত্যু কোনো শিশুর, বাড়ল ভয়

দেবশ্রী কয়াল : করোনার ত্রাস বেড়েই চলেছে রাজ্যে। বাড়ছে করোনার মারণ সংক্রমণ। আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে মানুষ। আর এর মধ্যে বাড়ল আতঙ্কের আর এক ধাপ। এই প্রথম করোনায় মারা গেল কোনো শিশু, রাজ্যে। এখনও পর্যন্ত কেবল আক্রান্তের খবর মিলছিল, তবে এবারে শোনা গেল মৃত্যুর খবর ! গতকাল শুক্রবার কলকাতার মুকুন্দপুরে এক বেসরকারি হাসপাতালে এক পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যু ঘটলো মারণ ভাইরাসের জেরে। ওই শিশুর ডেথ সার্টিফিকেটে চিকিত্‍সকেরা করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথাটি লিখে দিয়েছেন। তবে জানা যাচ্ছে শিশুটির কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজও ছিল। জন্মের পর থেকেই সে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, ওই শিশুটি বেশ কিছুদিন আগেই মুকুন্দপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে মাঝে শিশুটিকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত চেকআপ চলছিল, তাঁর। চিকিত্‍সকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে ভোগা ওই ছোট্ট শিশুটিকে বাঁচাবার জন্য অস্ত্রোপচার করবেন। সেই রকম প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু হয়ে গেছিল। কিন্তু গত ১লা জুলাই শিশুটির দেহে মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। জ্বর হওয়ার জেরে চিকিত্‍সকেরা শিশুটির করোনা টেস্টে করাতে বলেন তার অভিভাবকদের। আর তার পরেই ধরা পড়ে যে পাঁচ মাসের শিশুটি আক্রান্ত হয়েছে মারণ করোনায়। সেই সময় শিশুটি বাড়িতে ছিল এবং সেখান থেকেই তার চিকিত্‍সা চলছিল। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কারণেই শিশুটির অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তও স্থগিত রাখতে বাধ্য হন চিকিত্‍সকেরা।

কিন্তু গতকাল শুক্রবার বিকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তারপরেই তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালেই মারা যায় শিশুটি। হয়না শেষ রক্ষা। তবে এই পরিস্থিতিতে ওই শিশুর পিতা বিকাশ দলুই অভিযোগ জানান, প্রথম থেকেই যে হাসপাতালে চিকিত্‍সা চলছিল তাঁর শিশুর সেখানে শুক্রবার তাঁরা যোগাযোগ করেছিলেন শিশুটিকে ভর্তি নেওয়ার জন্য। কিন্তু সেই হাসপাতাল তা মানেনি। তাঁদের অন্য কোনও হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি করার কথা বলেন। তার জেরে পাশের এক হাসপাতালেই ওই শিশুটিকে ভর্তি করতে হয়। সেখানেই শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্‍সকেরা। অর্থাৎ ভর্তি ব্যবস্থাতেও বেসরকারি ক্ষেত্রে উঠছে অভিযোগ। হয়ত ঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে বেঁচে যেত ফুটফুটে ছোট্ট শিশুটা।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: