Health

গলা কাটা বিল বেসরকরি হাসপাতালের, রোগ সারানোর নামে কী চলছে লুঠ ?

প্রাইভেট হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে মানুষ নাজেহাল, লাখ লাখ টাকার আসছে বিল !

দেবশ্রী কয়াল : কোথায় গেলে মানুষ পাবেন সঠিক চিকিৎসা ? করোনার জেরে আজ সবাই ভয়ভীত। জনদের মৃদু উপসর্গ তাঁদেরকে না হয়, বাড়ি থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাঁদের অবস্থা খারাপ তাঁদেরকে তো ভর্তি করতে হচ্ছে হাসপাতালে। এবারে প্রশ্ন হচ্ছে কোন হাসপাতালে ? সরকারি হাসপাতালে যাবেন নাকি বেসরকারি হাসপাতালে যাবেন মানুষ ? অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠছে, সরকারি হাসপাতালে সেই ভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা। কারন একসাথে কত মানুষকে দেখবেন ? এছাড়া বারবার উঠেছে হাসপাতালে বেড নেই, তাই নেওয়া যাবে না ভর্তি। আর তখনই কিন্তু অসহায় হয়ে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। যেখানে প্রায় গলা কাটা সমান হাসপাতালের বিল। করোনা সারাতে গিয়ে মানুষ হয়ে যাচ্ছেন নিস্ব। লাখ লাখ হচ্ছে বিল। যেখানে এখনও এই রোগের কোনো ঔষধ নেই। তাহলে ভ্যাকসিন বের হলে কী হবে ? কত করে টাকা লুটবে এই সকল প্রাইভেট হসপিটাল গুলি ?

আর এই বিষয়েই সাধারণ মানুষের মতামত জানতে আমরা পড়ি বেরিয়ে, রাস্তায় রাস্তায়। বেসরকারি হাসপাতাল গুলি যখন মানুষের অসহায় অবস্থার একরকম ফায়দা তুলে অগাধ টাকার বিল করছে, সেখানে সাধারণ মানুষ কী ভাবছেন, তাঁদের মতামত কী তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে পরিবার এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছে তাঁদের মতামত কী বা যদি কেউ যান, সেক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য বা দাবি কী তা সরকারের কান পর্য্ন্ত পৌঁছানো কিন্তু ভীষণ জরুরি। কারন বেসরকারি হাসপাতালের লাগামছাড়া বিল, মানুষকে করে তুলছে নাজেহাল।

হাওড়ার এক বাসিন্দাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, ” হাওড়ার অবস্থাতো জানেনই, এখানে সংক্রমণ অতিরিক্ত মাত্রায়। কখন কার কিছু হয়ে যায় বলা যায় না। এই মুহূর্তে সরকারি হাসপাতালের সামনে যা ভিড় সেখানে তো যেতেই অনেকে ভয় পেয়ে যাচ্ছেন। তাই যাঁদের একটু সামর্থ্য রয়েছে তাঁরা বেসরকারি হাসপাতালের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু সেখানে তো অন্য গল্প। সেখানে কেবলই টাকার খেল। শুধু ভালো মন্দ দুবেলা খাওয়ানো, আর জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল আর কিছু টুকটাক বিষয়ের জন্য গাদা গাদা টাকা নিচ্ছে। কেন এত কিসের করছে ? আমার এক বন্দুর করোনা হওয়াতে, বেসরকারি হাসপাতালে যেতে, সুস্থ হয়ে ওঠার পর, তার বিল হয় ২ লক্ষ টাকা ! আচ্ছা এমন কী আদেও সম্ভব ? মানুষের জীবন নিয়েও এখন হচ্ছে খেলা !”

এরপর পার্ক স্ট্রিটের এক বাসিন্দাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ” এই ঘটনা নতুন নাকি ? বেসরকারি হাসপাতাল মানেই তো শুধু টাকার কথা, সেখানে টাকা ছাড়া কিচ্ছু হয় না। আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে তো আরোই বেশি সুবিধা হয়ে গেল। যা ইচ্ছে চার্জ করছে এরা। আমি পিটার ডায়েচক্রী বাঁচানোর জন্য, প্রতিদিন অফিস যাচ্ছি, আমরা করোনা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তাই আজ করোনা হলে আমি আর যাই হোক বেসরকারি হাসপাতালের কিন্তু পা বাড়াবো না। চারিদিকে তো দেখতেই পাচ্ছি চিকিৎসার নামে কী নোংরামোটাই না হচ্ছে। তাই হোম কোয়ারেন্টাইনেই থাকবো। স্বাস্থ্য দফতরের যদি মনে হয় তাঁরা নিজেরা আমরা জন্য হাসপাতালে বেড এর ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু ভুলেও ওই প্রাইভেট হসপিটালের দিকে নয়, এত টাকা নেই আমাদের মতো সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের। ”

গড়িয়ার এক বাসিন্দার সাথে কথা বললে তিন বলেন, ” আমি নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। বাড়ির লো চিন্তায় পরে গেছিল। সরকারি হাসপাতালের দিকেই এগোয়নি। প্রাইভেটে ভালো চিকিৎসা পাবো সেই আশায় সেখানে ভর্তি হই। আমার চিকিৎসা বলতে কিন্তু সেইরকম কিন্তু হচ্ছিল না। শুধু ভালো মন্দ প্রোটিন যুক্ত খাবার খেতে দিচ্ছিল, কটা জ্বরের ঔষধ, আর গরম জল খেতে দিত প্রতিদিন। সেখানা ১৪ দিন থাকার পর, আবার যখন আমার করোনা টেস্ট করা হয় তখন রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। আর টোটো দিনে হাসপাতালের বিল ও কিন্তু বেড়েছিল অতিরিক্ত মাত্রায়। ৩ লক্ষের কাছে ছিল হাসপাতালের বিল। যেখানে আমার না হয় না, ঐটুকু চিকিৎসার জন্য এত গুলি টাকা লাগতে পারে। আর এর জেরেই আর্থিক অবস্থা কিন্তু একটু সমস্যায়। একেই লকডাউনে চাকরি হারিয়েছি। আর তার পরে এই সব কিছু আরও বেশি সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। বুঝে উঠতে পারছি না কী করব ! “

দেখাই যাচ্ছে সাধারণ মানুষের হাল বা মন্তব্য বেসরকারি হাসপাতালকে নিয়ে কিন্তু মোটেও ইতিবাচক নয়। বেসরকারি হাসপাতালের অত্যাধিক বিল কিন্তু মানুষকে করছে নাজেহাল। আর এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের বেশি করে অবগত হয় প্রয়োজন। এই কঠিন পরিস্থিতে মানুষের পাশে না দাঁড়ালে তাঁরা যাবে কোথায় ? তাই সবাই যাতে চিকিৎসা পায় সি দিকে খেয়াল রাখরতে হবে। এখন আরও বেশি করে বাড়ছে সংক্রমণ। অর্থাৎ আরও বেশি জমবে ভিড় হাসপাতাল গুলির সামনে। কিন্তু এই অতিরিক্ত বিলের জন্য যাতে মানুষকে অসহায় হয়ে বাড়ি না ফিরে যেতে হয়, বিনা চিকিৎসায় যাতে মারা না যেতে হয় সেই দিকে লক্ষ্য দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: