Big Story

বিপদে বন্ধু : বেহালা আদর্শ পল্লী ইয়ং এসোসিয়েশন এবার নামখানায় রোমা-মুজিনা দের সাথে

সন্ধ্যা প্রদীপ আর আজানের সুর তালমিল খুঁজে পাচ্ছে না বছর বারোর রোমা সিট্ থেকে বছর চোদ্দোর মুজিনা খাতুন । ঘরের শত অভাব থাকলেও ফুটতো ভাত আর সঙ্গে সঙ্গে মায়ের ডাক , আর এখন শহরের বাবুরা এলেই মিলতে পারে দুমুঠো ভাত।

নিজস্ব সংবাদদাতা : তাই রোমা থেকে মুজিনার ডাকে কলকাতা শহরের নাম ডাকওয়ালা দুর্গা পুজো উদ্যোক্তা দের অন্যতম বেহালা আদর্শ পল্লী ইয়ং এসোসিয়েশন এর কাকুরা পৌঁছে গেলেন নামখানার মধ্য দক্ষিণ পাড়ার নবদিগন্ত ক্লাবে। গতকাল রাত থেকেই নেমে পড়েছে জলময় অঞ্চলে রাস্তার ধরে ক্লাবের পাশে একটু উঁচু জায়গায় উনুন জ্বালিয়ে গরম ভাত আর মুরগির মাংস। দিন কয়েক ধরেই চলছে তোড়জোড় দীপঙ্কর কাকু শঙ্কর কাকু ,চন্দন কাকুদের।

ক্লাবের সম্পাদক দীপঙ্কর বণিক বললেন 2009 সালে ধূলিসাৎ করে দিয়ে গিয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আয়লা ৷ তার রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার আমরা সুন্দরবনে ৷ এরইমধ্যে গত বছর তাদের যুঝতে হয়েছে মারাত্মক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফানের সঙ্গে, তারফলে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে সুন্দরবনের মানুষের জনজীবন ৷ আমরা ক্লাবের সবাই ঠিক করলাম চলো বেরিয়ে পড়ি , সরকার পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে কিন্তু আমাদেরও থাকতে হবে পাশে ৷ তবে প্রকৃতির রোষ আবারও অভিশাপের মতো নেমে এল সুন্দরবনের দিকে জানিনা কত দিনে কাটিয়ে ওঠা যাবে ৷

প্রসঙ্গত, এই এলাকার অধিকাংশ মানুষই মাছ চাষের উপরই নির্ভরশীল ৷ স্থানীয় ক্লাবের সদস্য সুশান্ত কুমার জানা বললেন উপার্জনের একমাত্র সেই সম্বল কেড়ে নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় যশ ৷ এর আগে আমফানের ক্ষতি সামলাতে গিয়ে মাছ চাষিদের অনেকেই ধারদেনা করেছেন ৷ যার জন্য নিয়মিত চোকাতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের সুদ ৷ কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের ঘূর্ণিঝড় আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ৷

নির্মল জানা নামখানা বাজারে মাছ বিক্রি করেন ,ঘূর্ণিঝড় যশের ধাক্কায় তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ এখন তাঁদের পক্ষে মহাজনের দেনা শোধ করাই দায় ৷ এই অবস্থায় সরকার এগিয়ে না এলে তাঁদের পথে বসা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না ৷ তাই সরকারি ক্ষতিপূরণের আশায় দিন গুনছেন সুন্দরবনের মাছ চাষিরা থেকে কৃষকরা ৷

’’একই সুর শোনা গিয়েছে হোসেন আলি মোল্লা, ইজরায়েল গাজিদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের গলাতেও ৷ তাঁদের কথায়, ‘‘মাছ চাষই ছিল আমাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল, সামনেই আমার মেয়ে আমিনার বিয়ে কি হবে তা আল্লাই জানে ৷ এই বিষয়ে শঙ্কর ঘোষ এই ক্লাবের অন্যতম উদ্যোক্তা বলেন যে ১লা জুন থেকে সারা রাজ্যে ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ জানিয়ে আবেদন করলে সরকার তাকে সাহায্য করবেন। আমরাও বসে থাকার নই , সরকারের পাশাপাশি করোনা মহামারী থেকে ঘূর্ণিঝড় সব কিছুতেই আছে বেহালা আদর্শ পল্লী ইয়ং এসোসিয়েশন আছে সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী।

বেহালা আদর্শ পল্লী ইয়ং এসোসিয়েশন এর সদস্য চন্দন রায় জানালেন , গত কয়েকদিন ধরে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম যে শুধু একদিনের খাবার নয় সঙ্গে একটি করে থলিতে চাল-১কিলো , ডাল ৫০০ গ্রাম , চিরে ৫০০ গ্রাম , সয়াবিন ১০০ গ্রাম , ছাতু ১০০ গ্রাম , আলু ৫০০ , বিস্কুট -১ কেক-১ ,বাতাসা -১০০ গ্রাম , সঙ্গে ওয়ারেশ সব হতাশার মধ্যে আসার আলো , প্রায় ৪০ জন মানুষ নিজেদের বিপদ অগ্রাহ্য করে গত কাল বেরিয়ে পড়েছে নামখানার উদেশ্যে ওনাদের স্লোগান ” মানুষের পাশে ছিলাম আছি থাকবো “।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: