Big Story

‘ সব উন্নয়নই সম্ভব যদি একতা থাকে ‘ রাষ্ট্রীয় একতা দিবসে মুখোমুখি জুট কর্তারা

কথা হল মুখোমুখি মলয় চন্দন চক্রবর্তী ও অজয় কুমার জলি , সিএমডি , JCI এর সাথে

নিজস্ব সংবাদদাতা : গতকাল রাষ্ট্রীয় একতা দিবসে কথা হল মলয় চন্দন চক্রবর্তী ,জুট কমিশনারের সাথে কলকাতা ময়দানের ওয়ারী ক্লাবে । তিনি জানালেন যে , জুট প্যাকেজিং অ্যাক্টে ধান রাখতে পাটের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আলুর জন্যও পাটের বস্তা ব্যবহারে জোর দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে বলেছে বয়ন মন্ত্রক৷ আইন অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ ধানই পাটের বস্তায় রাখা বাধ্যতামূলক, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, বেশিরভাগ চালকলই এই নিয়ম মানছে না৷ যদি এই নিয়ম তারা মেনে চলে তা হলে বছরে আরও ৩ লক্ষ চালের বস্তার চাহিদা হবে৷ হিমঘরে আলু রাখার জন্যও চটের ব্যাগ ব্যবহারের জন্য রাজ্যকে উত্‍সাহ দেওয়ার কথা চিঠিতে বলা হয়েছে৷ এর ফলে চটের ব্যাগের চাহিদা ৫০,০০০ টন বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

পাট শিল্পেরসঙ্গে বহু লক্ষ মানুষ যুক্ত হওয়ায়, এই শিল্পকে বাঁচাতে কঠোর ভাবে জুট প্যাকেজিং আইনের প্রয়োগ ও নির্মাণ শিল্পে বেশি করে জিও-টেক্সটাইল ব্যবহার করার উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার৷ এ ব্যাপারে কিছু দিন রাজ্য সরকার গুলি কে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় বয়ন মন্ত্রক৷ চাহিদা প্রায় না থাকায় রাজ্যের পাটকলগুলি উত্‍পাদন তো কমাচ্ছেই, সেগুলি বন্ধও হয়ে যাচ্ছে৷দেশের মোট ৮৪টি পাটকলের মধ্যে ৬৪টি পাটকল রয়েছে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই৷

সম্প্রতি বাংলার পাট শিল্পকে বাঁচানোর জন্য বিজেপির ব্যারাকপুর সাংসদ অর্জুন সিং (Arjun Singh) কে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে । এমনকি বেশ কয়েকটি বৈঠক করতে দেখা গেছে তাকে । তবে এবার বাংলার পাট শিল্পকে বাঁচানোর জন্য কলকাতার রাস্তায় কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে মিছিলে নামল আইএনটিটিইউসি এর কর্মী এবং নেতৃত্বরা। তাদের দাবি , কেন্দ্র সরকার পাট শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। মূলত প্লাস্টিক লবিকে সহযোগিতা করার জন্য এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার । পাটের কুইন্ট্যাল প্রতি উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ।

CITU ও inttuc এর তরফ থেকে বলা হয়, আমফানের সময় যখন পাট চাষে ক্ষতি হয়েছিল। সেই সময় পাটের কুইন্ট্যাল প্রতি উদ্ধার সীমা নির্ধারণ করেননি কেন্দ্র সরকার। তখন তা করা দরকার ছিল। কিন্তু এবছর যখন রাজ্যে পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে তখন হঠাৎই কুইন্ট্যাল প্রতি পাটের উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হল ৬৫০০ টাকা।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অজয় কুমার জলি , সিএমডি , JCI , বাজারে পাটের উৎপাদন ও বিক্রি জাত পাটের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে , এ ক্ষেত্রে তিনি জানান , ” আমরা কড়া হাতে MSP নিয়ন্ত্রণ করছি। সারা দেশে চাষিদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আমার ফেসিলিটি সেন্টার রয়েছে। এ ছাড়া টোল ফ্রি নাম্বার আছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্র সরকার পাট চাষীদের পাশে আছে। এর পাল্টা যুক্তি পাট চাষিদের ক্ষেত্রে যে , মধ্যস্তকারীদের মাধ্যমে বাজার দখল হয়ে রয়েছে। বাজারে বর্তমানে পাট বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকার উপরে । তাহলে ৬৫০০ টাকা কুইন্ট্যাল প্রতি যদি পাট বিক্রি করা হয় সে ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে পাট শিল্প। যার ফলে রাজ্যে একাধিক জুটমিল ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আরও বেশকিছু জুটমিল ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার মুখেই এগোচ্ছে। তাদের দাবি, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য বাংলার জুটমিল থেকে শুরু করে পাট শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষ সংকটে। তাদের মতে, এই সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র হয়ে দেখা দেবে যদি পাটের দামের উর্ধ্বসীমা তুলে না নেওয়া হয়। তাই তাদের এই মিছিল এর মূল দাবি, কেন্দ্র সরকারের চাপানো কুইন্ট্যাল প্রতি পাটের দামের উর্ধ্বসীমা অবিলম্বে তুলে নেওয়া হোক। যাতে পাট শিল্পের সঙ্গে জড়িত রাজ্যের প্রায় তিন কোটি মানুষকে আর্থিক দুরাবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।

স্বাধীনতার আগে ও পরে দীর্ঘসময় ধরে ভারতের জাতীয় অর্থনীতিতে পাট শিল্পের অবদান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারতের 40-45 লাখ কৃষি পরিবার, 2.6 লাখ শিল্প শ্রমিক এবং তৃতীয় ক্ষেত্রের পরিসেবার সঙ্গে যুক্ত 1.4 লাখ কর্মী এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে যুক্ত আছে। কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় পাট শিল্পকে নানাধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অজয় কুমার জলি জানান যে , যে কেও অভিযোগ জানাতে পারেন , দিতে পারেন পরামর্শ। JCI তৈরি আছে একসাথে কাজ করতে। তিনি আরো বলেন ‘ সমস্যা অনেক আছে আর আমাদের আছে সৎ-উদ্যোগ , আসুন একসাথে সব বাধা পেড়িয়ে এগিয়ে চলি’।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: