Sports Opinion

“দিয়েগোর” দিয়ে যাওয়া এক রাশ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকুক ফুটবল

ষাটেই সমাপ্তি, ফুটবল আজ মারাদোনাহীন

পৃথা কাঞ্জিলাল : বাংলা ঐতিহ্যের শিরস্ত্রাণ থেকে বহু পালক কেড়ে নিয়েছে ২০২০। এবং আবারো সেই পতনের খবর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন ফুটবলের কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনা (Diego Maradona)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। জানা যাচ্ছে সপ্তাহ দুয়েক আগে বাড়িতেই হার্টঅ্যাটার্ক হয় ফুটবলের রাজপুত্রের। রাতারাতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তবে ব্রেনের রক্তজমাট বেঁধে যাওয়ায় দ্রুত অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তাররা। ১১ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হলোনা আর, হৃদরোগে হঠাত্‍ আক্রান্ত হন তিনি।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্লডিও তাপিয়া ইতিমধ্যেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা, তুমি সবসময়ই আমাদের হৃদয়ে থাকবে।” ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেন দিয়েগো মারাদোনা। এছাড়া তিনি ক্লাব পর্যায়ে বার্সেলোনা এবং নাপোলির হয়ে খেলেন। তিনি সিরি এ খেতাবও জয় করেছিলেন।

১৯৭৭ থেকে ১৯৯৪ , দীর্ঘ ১৭ বছর আর্জেন্তিনার জার্সিতে খেলেছেন মারাদোনা। ফুটবল মাঠের রাজা ও বলা যায় ওনাকে। কেরিয়ারে ১৯৮২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামেন। এর চার বছর পর, মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন মারাদোনা। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেন দিয়েগো মারাদোনা। এছাড়া তিনি ক্লাব পর্যায়ে বার্সেলোনা এবং নাপোলির হয়ে খেলেন। তিনি সিরি এ খেতাবও জয় করেছিলেন।

অসুস্থতার পর মারাদোনাকে লা প্লাতার ইপেনসা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বুয়েনস আর্য়াস থেকে প্রায় এক ঘণ্টা দুরত্বে এই হাসপাতালটি অবস্থিত। স্থানীয় ক্লাব জিমনাশিয়া ওয়াই এসগ্রিমাকে কোচিং করাতেন মারাদোনা।

স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, কোনও এমার্জেন্সি ছিল না। পাশাপাশি তিনি করোনা আক্রান্তও হননি। উল্লেখ্য দিনকয়েক আগেই মারাদোনার করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছিল। সেখানে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। তাঁর এক দেহরক্ষীর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরই মারাদোনা আপাতত নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছিলেন। ৬০ তম জন্মবার্ষিকী তেই মারাদোনাকে শেষবার জনসমক্ষে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল।

তার ফুটবল ক্যরিয়ারের কিছু উল্লেকযোগ্য ঘটনা, আর্জেন্তিনার হয়ে ৯১ ম্যাচে মারাদোনা ৩৪টি গোল করেছেন। দেশের জার্সিতে খেলার পাশাপাশি আর্জেন্তিনোস জুনিয়র, বোকা জুনিয়র্সে খেলেছেন দিয়েগো। পরবর্তী সময়ে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনাতে খেলেছিলেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মারাদোনা বার্সেলোনার হয়ে ৩৬ ম্যাচে ২২ গোল করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত নাপোলিতে খেলেছেন। ক্লাব ফুটবলে নাপেলির হয়ে সবচেয়ে বেশি সময়ে খেলেছেন দিয়েগো। ১৮৮ ম্যাচ খেলে মারাদোনা ৮১টি গোল করেন । ফুটবল কেরিয়ার শেষ করেন বোকা জুনিয়ার্সে। ১৯৯৭ সালে বোকা জুনিয়ার্সের জার্সিতে বুট জোড়া তুলে রাখেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে ৪৯১ ম্যাচ খেলে মারাদোনা ২৫৯টি গোল করেছেন। কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন দিয়েগো। ২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত আর্জেন্তিনা দলের কোচ ছিলেন। তাঁর কোচিংয়ে ২০০৮ সালে মেসিরা বিশ্বকাপ অভিযানে নেমেছিলেন। মৃত্যুর আগে আর্জেন্তিনার ঘরোয়া ক্লাব জিমনাশিয়ার কোচ ছিলেন মারাদোনা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: